মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
খিলাফতের ইতিহাস

হযরত ওমরের চুমু!

৩ মিনিটে পড়ুন১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
হযরত ওমরের চুমু!
হযরত ওমরের শাসন চলছে। শুরু হয়েছে রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যুদ্ধে বন্দি হয়েছেন অনেক মুসলিম সৈনিক। সঙ্গে বন্দি একজন সাহাবিও। রাসূল (সাঃ) - এর সাহাবিদের ব্যাপারে উঁচু ধারনা লালন করতো রোমানরা। রোমের বাদশাহ চমকে ওঠলেন সাহাবি বন্দির কথা শুনে।

একজন সাহাবির আচরণ, চলাফেরা, কথাবার্তা কেমন হবে নানা প্রশ্ন বাদশাহকে কৌতুহলি করে তুললো। বাদশাহর খুব আগ্রহ তৈরি হলো সাহাবির সাক্ষাতের। বন্দিশালা থেকে রোম সিংহাসনে ডেকে পাঠানো হলো আবদুল্লাহ ইবনে হুজাইফা (রাঃ) কে। বন্দি সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাইফা (রাঃ) কে দেখে সাদামাটাই মনে হলো বাদশাহর। বলা কওয়ার মতো তেমন কিছুই নেই। নেই জৌলস। তবে সাহাবির আত্মিক ছোঁয়ায় মুগ্ধ রোমের শাহী দরবার। হুজাইফার নূরানী ঝলকে বাদশাহর মনে বন্ধনের ঢেউ! আলাপচারিতা শেষে রোম রাজ্যের আবদার! সামান্য চাওয়া একজন সাহাবির কাছে। রোমের শাহী দরবার থেকে হুজাইফা (রাঃ)-এর কাছে মেয়ে বিয়ের প্রস্তাব আসে!

হে মুহাম্মদের (সাঃ) বন্দি সাহাবি, আমার মেয়েকে বিয়ে করতে হবে!

তবে শর্ত আছে!

কি শর্ত জনাব!

ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে হবে!

না জনাব! কখনই সম্ভব না!

কেন? সম্ভব না!

একজন নারীর চেয়ে; আমার ঈমান অনেক দামী!

ঠিক আছে, তোমার ঈমানের দাম শোধ করে দিচ্ছি!

কিভাবে জনাব?

আমার রাজ্যের অর্ধেক তোমাকে দিয়ে দিবো? তবুও ঈমান ছাড়, বিয়ে করো!

শক্ত করে বললেন, ঈমান বেঁচেকেনা হয় না নির্বোধ বাদশাহ! একচুলোও ঈমান থেকে দূরে যেতে পারবো না!

সাহাবির জোড় প্রতিবাদে ক্ষেপে গেলেন বাদশাহ! কেঁপে ওঠলো শাহী দরবার। বাদশাহ নির্দেশ দিলেন, বিশেষ রকমপাত্রে আগুন জ্বালাতে! তেল গরম করতে। প্রচন্ড- উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যে। এভাবে রোমের বাদশাহকে অপমানের নজির নেই। তেল জ্বালানো হচ্ছে। ফুটন্ত তেল রং বদল করছে। টগবগ টগবগ করছে। বন্দিশালা থেকে একজন মুসলিমকে ধরে এনে উত্তপ্ত এই তেলে ছেড়ে দেওয়া হলো। আবদুল্লাহ ইবনে হুজাইফা (রাঃ) দেখলেন, মুসলিম বন্ধুর শরীর থেকে মুহূর্তে মাংস-হাড় আলাদা হয়ে গেছে। মাংস-হাড় খসে খসে তেলের ঢেউয়ে বাঁক নিচ্ছে। সাহাবি হুজাইফা সব দেখছেন। বাদশাহ এবার কঠোর কণ্ঠে বললেন, হে বন্দি সাহাবি, আমার মেয়েকে বিয়ে করো, ইসলাম ছাড়ো! না হয় উত্তপ্ত তেলে জ্বলতে হবে! সাহাবি হুজাইফা বললেন, শুধু তেলে কেন? আগুনে জ্বলতে হলেও হাসি মুখে রাজি আছি। তবুও ঈমান ছাড়তে পারবো না!

বাদশাহ এবার হুকুম করলেন, সাহাবি হুজাইফা (রাঃ) কে টগবগে তেলে নিক্ষেপ করতে। সাহাবি হুজাইফাকে (রাঃ) তেলের কাছে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাহাবি কাঁদছেন। চোখ বেয়ে পানি নামছে। দরবারের বাহিনী বাদশাহকে খবর পৌঁছালেন- সাহাবি হুজাইফা কাঁদছে। মনে হয় ভয় পেয়েছে, এবার ঈমানও ছাড়বে, বিয়েও করবে! বাদশাহ বললেন, আপনি কি ইসলাম ছাড়তে প্রস্তুত? সাহাবি হুজাইফ বললেন, এটা মনে করবেন না যে আমি মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছি। আমি কাঁদছি এই ভেবে যে, আমার একটি জীবন আর তা এই মুহূর্তে শেষ হয়ে যাবে! যদি আল্লাহ তায়ালা আমাকে দেহের পশম পরিমাণ জীবনদান করেন! আর প্রতিবারই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তেলে জ্বলি; স্বাদের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করি! তাহলেই আমি সফল হই!

অবাক রোম বাদশাহ! নির্বিকার। এমন প্রাচীরতম আত্মবিশ্বাস আর ইসলামের প্রতি গভীর ভালবাসা দেখে বাদশাহর লজ্জা হলো! ফিরে পেল অনুভূতি। পাথর গলে পানি হয়ে গেল। যাও সাহাবি তোমাকে মুক্ত করে দিবো! তবে আমার কপালে চুমু খেতে হবে। সাহাবি হুজাইফা বললেন, চুমু এঁকে দেবো! তবে আমাকে একা নয় সকল বন্দিকে মুক্ত করতে হবে!

বাদশাহ রাজি হয়ে গেলেন। বাদশাহর কপালে এক চুমুতে মুক্ত হলেন হাজারজন। মদিনায় ফিরে পুরো ঘটনা শোনালেন, অর্ধপৃথিবীর শাষক আমিরুল মুমেনীন হযরত ওমরকে। হজরত ওমর (রাঃ) মসজিদে নববীতে এ বিষয়ে ভাষণ দিলেন। বললেন, তোমরা সবাই আব্দুল্লাহ বিন হুজাইফার (রাঃ) কপালে একটি করে চুমু দিবে। কারণ সে তার মুসলিম ভাইদের জীবন বাঁচিয়েছে। আর আমি নিজেই চুমু দিয়ে শুরু করছি! হযরত ওমরের চুমু উপহারে মুগ্ধ হুজাইফা।

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ
খিলাফতের ইতিহাস

কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ

আব্বাসীয় খলীফা মামূনুর রশীদের দরবারে মাঝে মাঝে শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হত। এতে তৎকালীন বিভিন্ন বিষয়ে বিদগ্ধ পন্ডিতগণ…

গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!
খিলাফতের ইতিহাস

গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!

ওসমানীয় খেলাফত চলছে তখন, ১৮৪৫ সাল। খলিফা আব্দুল মাজিদ ইস্তাম্বুলের মসনদে। এসময়ে এসেও ইউরোপের অবস্থা খুব একটা সুবিধার ছিলনা, বিভিন্ন আর্থিক-সামাজিক…

ইকরামার (রাঃ) ওয়াদা পালন
খিলাফতের ইতিহাস

ইকরামার (রাঃ) ওয়াদা পালন

ইসলাম গ্রহণের সময় ইকরামা বিন আবু জাহল বলেছিলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি যত যুদ্ধ করেছেন, যত অর্থ খরচ করেছেন, তার দ্বিগুন তিনি খরচ করবেন ইসলামের জন্যে।…