বাঘখেকো শিয়ালের ছানা
৪ মিনিটে পড়ুন২৩ ডিসেম্বর ২০১৭

এক শিয়াল আর এক শিয়ালিনী ছিল। তাদের তিনটি ছানা ছিল, কিন্ত থাকবার জায়গা ছিল না।
তারা ভাবলো, ‘ছানাগুলোকে এখন কোথায় রাখি? একটা গর্ত না হলে তো এরা বৃষ্টিতে ভিজে মারা যাবে।’ তখন তারা অনেক খুঁজে একটা গর্ত বের করলো, কিন্ত গর্তের চারধারে দেখলো, খালি বাঘের পায়ের দাগ! তা দেখে শিয়ালিনী বললো, ‘ওগো এটা যে বাঘের গর্ত। এর ভিতরে কি করে থাকবে।?’
শিয়াল বলল, ‘এত খুঁজেও তো আর গর্ত পাওয়া গেল না। এখানেই থাকতে হবে।’
শিয়ালিনী বলল, ‘বাঘ যদি আসে, তখন কি হবে?’
শিয়াল বলল, ‘তখন তুমি খুব করে ছানাগুলির গায়ে চিমটি কাটবে। তাতে তারা চেঁচাবে, আর আমি জিজ্ঞাসা করব-ওরা কাঁদছে কেন? তখন তুমি বলবে-‘ওরা বাঘের মাংস খেতে চায়।’
একথা শুনে শিয়ালিনী বলল, ‘বুঝেছি। আচ্ছা, বেশ!’ বলেই সে খুব খুশি হয়ে গর্তের ভিতরে ঢুকল। তখন থেকে তারা সেই গর্তের ভিতরেই থাকে।
এমনি করে দিন কতক যায়, শেষে একদিন তারা দেখলো যে, ঐ বাঘ আসছে। অমনি শিয়ালিনী তার ছানাগুলোকে ধরে খুব চিমটি কাটতে লাগল। ব্যথায় ছানাগুলি খুবই বিকট শব্দে চেঁচাতে শুরু করল!
শিয়াল তখন খুব মোটা আর বিশ্রী সুরে জিজ্ঞাসা করল, ‘খোকারা কাঁদছে কেন?’
শিয়ালিনী তেমনি বিশ্রী সুরে বলল, ‘ওরা বাঘের মাংস খেতে চায়, তাই কাঁদছে।’
বাঘ তার গর্তের দিকে আসছিল। এর মধ্যে ‘ওরা বাঘের মাংস খেতে চায়’ শুনে সে থমকে দাঁড়াল। সে ভাবলো, ‘বাবা! আমার গর্তের ভিতর না জানি ওগুলো কি ঢুকে রয়েছে। নিশ্চয়ই ভয়ানক রাক্ষস হবে, নইলে কি ওদের খোকারা বাঘ খেতে চায়!’
তখুনি শিয়াল বলল, ‘আরে বাঘের মাংস কোথায় পাব? যা বাঘ ছিল, সবই তো ধরে এনে ওদের খাইয়েছি!’
তাতে শিয়ালিনী বলল, ‘তা বললে কি হবে? যেমন করে পার একটা ধরে আনো, নইলে খোকারা থামছে না।’ বলে সে ছানাগুলোকে আরো বেশী করে চিমটি কাটতে লাগল।
শিয়াল বলল, ‘আচ্ছা, চুপ চুপ। ঐ যে একটা বাঘ আসছে। আমার ঝপাংটা দাও, এখুনি ওকে ভতাং করছি।’
ঝপাং বলেও কিচ্ছু নেই, ভতাং বলেও কিচ্ছু নেই-সবই শিয়ালের চালাকি। বাঘের কিন্ত সেই ঝপাং ও ভতাং শুনেই প্রান উড়ে গেল। সে ভাবল, ‘মাগো, এই বেলা পালাই, নইলে না জানি কি দিয়ে কি করবে এসে! বলে সে আর সেখানে একটুও দাঁড়াল না। শিয়াল চেয়ে দেখল যে, বাঘটি লম্বা লম্বা লাফ দিয়ে ঝোপ জঙ্গল ডিঙ্গিয়ে ছুটে পালাচ্ছে! তখন শিয়াল আর শিয়ালিনী লম্বা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, যাক, ‘আপদ কেটে গেছে!’
বাঘ তখনো এমনি ছুটছে যে এরকম সে আর কখনো ছোটেনি।
একটা বানর গাছের উপর থেকে তাকে ছুটতে দেখে ভারি আশ্চর্য হয়ে ভাবল, ‘তাই তো, বাঘ এমনি ছুটছে, এ তো সহজ কথা নয়! নিশ্চয় একটা ভয়ানক কিছু হয়েছে!’ এই ভেবে সে বাঘকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাঘ ভাই, বাঘ ভাই, কি হয়েছে? তুমি যে অমন করে ছুটে পালাচ্ছ?’
বাঘ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘সাধে কি পালাচ্ছি? নইলে এক্ষুনি আমাকে ধরে খেত!’ বানর বলল, ‘তোমাকে ধরে খায়, এমন কোনো জানোয়ারের কথা তো আমি জানিনে। ও কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!’ বাঘ বলল, ‘যদি সেখানে থাকতে বাপু, তবে দেখতুম! দূর থেকে অমনি করে সকলেই বলতে পারে!’ বানর বলল, ‘আমি যদি সেখানে থাকতুম, তবে তোমাকে বুঝিয়ে দিতুম যে সেখানে কিছু নেই। তুমি বোকা, তাই মিছামিছি অত ভয় পেয়েছ!’ এ কথায় বাঘের ভারি রাগ হল।
সে বলল, ‘বটে! আমি বোকা? আর তোমার বুজি ঢের বুদ্ধি! চল তো একবার সেখানে যাই!’ বানর বলল, ‘যাব বইকি, যদি আমাকে পিঠে করে নিয়ে যাও।’
বাঘ বলল, ‘তাই সই! আমার পিঠে বসেই চল।’ এই বলে সে বানরকে পিঠে করে আবার গর্তের দিকে ফিরে চলল।
শিয়াল আর শিয়ালিনী সবে ছানাদের শান্ত করে একটু বসেছে, আর অমনি দেখে, বানরকে পিঠে করে বাঘ আবার আসছে। তখন শিয়ালনী তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে আবার ছানাগুলোকে চিমটি কাটতে লাগল, ছানাগুলিও ভূতের মতো চ্যাঁচাতে শুরু করল। তখন শিয়াল আবার সেই রকম সুর করে বলল, ‘আরে থামো, থামো! অত চেঁচিও না-অসুখ করবে।’ শিয়ালনী বলল, ‘আমি বলছি, যতক্ষণ না একটা বাঘ এনে এদের খেতে দেবে, ততক্ষণ এরা কিছুতেই থামবে না।’
শিয়াল বলল, ‘আমি যে ওদের মামাকে বাঘ আনতে পাঠিয়েছি। এখুনি সে বাঘ নিয়ে আসবে, তোমরা থামো!’ তারপর একটু চুপ করেই সে আবার বললো, ‘ঐ,ঐ! ঐ যে তোদের বাঁদর মামা একটা বাঘ ধরে এনেছে! আর কাঁদিসনে; শিগগির ঝপাংটা দে, ভতাং করি!’ বানরের এতক্ষণ খুব সাহস ছিল। কিন্ত ঝপাং আর ভতাঙের কথা শুনে আর সে বসে থাকতে পারল না। সে এক লাফে একটা গাছে উঠে, দেখতে দেখতে কোথায় পালিয়ে গেল। বাঘের কথা কি আর বলব! সে যে সেইখান থেকে ছুট দিল, দুদিনের মধ্যে আর দাঁড়ালই না। তারপর থেকে আর শিয়ালদের কোনো কষ্ট হয়নি। তারা মনের সুখে সেই গর্তে থেকে দিন কাটাতে লাগল।
তারা ভাবলো, ‘ছানাগুলোকে এখন কোথায় রাখি? একটা গর্ত না হলে তো এরা বৃষ্টিতে ভিজে মারা যাবে।’ তখন তারা অনেক খুঁজে একটা গর্ত বের করলো, কিন্ত গর্তের চারধারে দেখলো, খালি বাঘের পায়ের দাগ! তা দেখে শিয়ালিনী বললো, ‘ওগো এটা যে বাঘের গর্ত। এর ভিতরে কি করে থাকবে।?’
শিয়াল বলল, ‘এত খুঁজেও তো আর গর্ত পাওয়া গেল না। এখানেই থাকতে হবে।’
শিয়ালিনী বলল, ‘বাঘ যদি আসে, তখন কি হবে?’
শিয়াল বলল, ‘তখন তুমি খুব করে ছানাগুলির গায়ে চিমটি কাটবে। তাতে তারা চেঁচাবে, আর আমি জিজ্ঞাসা করব-ওরা কাঁদছে কেন? তখন তুমি বলবে-‘ওরা বাঘের মাংস খেতে চায়।’
একথা শুনে শিয়ালিনী বলল, ‘বুঝেছি। আচ্ছা, বেশ!’ বলেই সে খুব খুশি হয়ে গর্তের ভিতরে ঢুকল। তখন থেকে তারা সেই গর্তের ভিতরেই থাকে।
এমনি করে দিন কতক যায়, শেষে একদিন তারা দেখলো যে, ঐ বাঘ আসছে। অমনি শিয়ালিনী তার ছানাগুলোকে ধরে খুব চিমটি কাটতে লাগল। ব্যথায় ছানাগুলি খুবই বিকট শব্দে চেঁচাতে শুরু করল!
শিয়াল তখন খুব মোটা আর বিশ্রী সুরে জিজ্ঞাসা করল, ‘খোকারা কাঁদছে কেন?’
শিয়ালিনী তেমনি বিশ্রী সুরে বলল, ‘ওরা বাঘের মাংস খেতে চায়, তাই কাঁদছে।’
বাঘ তার গর্তের দিকে আসছিল। এর মধ্যে ‘ওরা বাঘের মাংস খেতে চায়’ শুনে সে থমকে দাঁড়াল। সে ভাবলো, ‘বাবা! আমার গর্তের ভিতর না জানি ওগুলো কি ঢুকে রয়েছে। নিশ্চয়ই ভয়ানক রাক্ষস হবে, নইলে কি ওদের খোকারা বাঘ খেতে চায়!’
তখুনি শিয়াল বলল, ‘আরে বাঘের মাংস কোথায় পাব? যা বাঘ ছিল, সবই তো ধরে এনে ওদের খাইয়েছি!’
তাতে শিয়ালিনী বলল, ‘তা বললে কি হবে? যেমন করে পার একটা ধরে আনো, নইলে খোকারা থামছে না।’ বলে সে ছানাগুলোকে আরো বেশী করে চিমটি কাটতে লাগল।
শিয়াল বলল, ‘আচ্ছা, চুপ চুপ। ঐ যে একটা বাঘ আসছে। আমার ঝপাংটা দাও, এখুনি ওকে ভতাং করছি।’
ঝপাং বলেও কিচ্ছু নেই, ভতাং বলেও কিচ্ছু নেই-সবই শিয়ালের চালাকি। বাঘের কিন্ত সেই ঝপাং ও ভতাং শুনেই প্রান উড়ে গেল। সে ভাবল, ‘মাগো, এই বেলা পালাই, নইলে না জানি কি দিয়ে কি করবে এসে! বলে সে আর সেখানে একটুও দাঁড়াল না। শিয়াল চেয়ে দেখল যে, বাঘটি লম্বা লম্বা লাফ দিয়ে ঝোপ জঙ্গল ডিঙ্গিয়ে ছুটে পালাচ্ছে! তখন শিয়াল আর শিয়ালিনী লম্বা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, যাক, ‘আপদ কেটে গেছে!’
বাঘ তখনো এমনি ছুটছে যে এরকম সে আর কখনো ছোটেনি।
একটা বানর গাছের উপর থেকে তাকে ছুটতে দেখে ভারি আশ্চর্য হয়ে ভাবল, ‘তাই তো, বাঘ এমনি ছুটছে, এ তো সহজ কথা নয়! নিশ্চয় একটা ভয়ানক কিছু হয়েছে!’ এই ভেবে সে বাঘকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাঘ ভাই, বাঘ ভাই, কি হয়েছে? তুমি যে অমন করে ছুটে পালাচ্ছ?’
বাঘ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘সাধে কি পালাচ্ছি? নইলে এক্ষুনি আমাকে ধরে খেত!’ বানর বলল, ‘তোমাকে ধরে খায়, এমন কোনো জানোয়ারের কথা তো আমি জানিনে। ও কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!’ বাঘ বলল, ‘যদি সেখানে থাকতে বাপু, তবে দেখতুম! দূর থেকে অমনি করে সকলেই বলতে পারে!’ বানর বলল, ‘আমি যদি সেখানে থাকতুম, তবে তোমাকে বুঝিয়ে দিতুম যে সেখানে কিছু নেই। তুমি বোকা, তাই মিছামিছি অত ভয় পেয়েছ!’ এ কথায় বাঘের ভারি রাগ হল।
সে বলল, ‘বটে! আমি বোকা? আর তোমার বুজি ঢের বুদ্ধি! চল তো একবার সেখানে যাই!’ বানর বলল, ‘যাব বইকি, যদি আমাকে পিঠে করে নিয়ে যাও।’
বাঘ বলল, ‘তাই সই! আমার পিঠে বসেই চল।’ এই বলে সে বানরকে পিঠে করে আবার গর্তের দিকে ফিরে চলল।
শিয়াল আর শিয়ালিনী সবে ছানাদের শান্ত করে একটু বসেছে, আর অমনি দেখে, বানরকে পিঠে করে বাঘ আবার আসছে। তখন শিয়ালনী তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে আবার ছানাগুলোকে চিমটি কাটতে লাগল, ছানাগুলিও ভূতের মতো চ্যাঁচাতে শুরু করল। তখন শিয়াল আবার সেই রকম সুর করে বলল, ‘আরে থামো, থামো! অত চেঁচিও না-অসুখ করবে।’ শিয়ালনী বলল, ‘আমি বলছি, যতক্ষণ না একটা বাঘ এনে এদের খেতে দেবে, ততক্ষণ এরা কিছুতেই থামবে না।’
শিয়াল বলল, ‘আমি যে ওদের মামাকে বাঘ আনতে পাঠিয়েছি। এখুনি সে বাঘ নিয়ে আসবে, তোমরা থামো!’ তারপর একটু চুপ করেই সে আবার বললো, ‘ঐ,ঐ! ঐ যে তোদের বাঁদর মামা একটা বাঘ ধরে এনেছে! আর কাঁদিসনে; শিগগির ঝপাংটা দে, ভতাং করি!’ বানরের এতক্ষণ খুব সাহস ছিল। কিন্ত ঝপাং আর ভতাঙের কথা শুনে আর সে বসে থাকতে পারল না। সে এক লাফে একটা গাছে উঠে, দেখতে দেখতে কোথায় পালিয়ে গেল। বাঘের কথা কি আর বলব! সে যে সেইখান থেকে ছুট দিল, দুদিনের মধ্যে আর দাঁড়ালই না। তারপর থেকে আর শিয়ালদের কোনো কষ্ট হয়নি। তারা মনের সুখে সেই গর্তে থেকে দিন কাটাতে লাগল।
✦আরও পড়ুন

অন্যান্য গল্প
খেঁকশিয়াল এবং আঙুর
একটি খেঁকশিয়াল একবার খুব ক্ষুধার্ত হয়েছিল এবং কিছু খাবারের সন্ধানে গিয়েছিল। সে সর্বত্র খুঁজল, কিন্তু কোথাও খাবার মতো কিছু পেল না। অবশেষে, তার পেট…

অন্যান্য গল্প
শিকারি এবং পাখি
একদা এক শিকারি ছোট্ট একটি পাখি ধরলো। পাখিটি খুব বুদ্ধিমান ছিলো। পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা করতে লাগলো যে, তুমি অনেক বড় শিকারি। জীবনে অনেক বাঘ মেরেছো,…

অন্যান্য গল্প
ইঁদুর মারার ফাঁদ
একবার এক ইঁদুর লক্ষ্য করল যে বাড়িতে ইঁদুর মারার ফাঁদ পাতা রয়েছে। সে খুবই ভয় পেল। ফাঁদটি অকেজো করার জন্য সে ওই বাড়িতে থাকা মুরগির সাহায্য চাইল। মুরগি…