এ যেন নারী নির্যাতনের যুগ!
৫ মিনিটে পড়ুন২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০৭ সেকেন্ডে একজন নারী ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বছর শেষে গড়ে এ সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ ৯৩ হাজার। USA- তে প্রতিদিন ৩ জন নারী তার পার্টনারে কর্তৃক হত্যা হয়। শান্তির দেশ কানাডায় প্রতি চারজনে একজন নারী যৌন সহিংসতার শিকার হন। বার্ষিক যা চার লাখ ৬০ হাজার। মুক্ত গণতন্ত্রের দেশ গ্রেট বৃটেনে প্রতি বছর ৮৫ হাজার ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়। বৃটেনে প্রতি ২০ জনে ১জন নারী ধর্ষিত হয়। ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়।
৪৮ ভাগ জারজ সন্তানের দেশ আমেরিকা ধর্ষক দেশগুলির মধ্যে হেডমাস্টার। ২০১৮ সালে পৃথিবীর ১৯২ টা দেশের মধ্যে কোন দেশে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হয় তার একটা জরিপ করা হয়। তাদের মধ্যে আমেরিকা হচ্ছে সবচেয়ে উপরে। এছাড়া টপ ১০ টা দেশের মধ্যে আছে যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, ভারত, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা।
উন্নত বিশ্বে বেশির ভাগ ধর্ষণ হয় পরিচিতদের দিয়ে। সেখানে পুলিশে অভিযোগ করার হার অনেক বেশি। অন্য দিকে অনুন্নত দেশে রাস্তাঘাটে অপরিচিত পুরুষের মাধ্যমে ধর্ষণের সংখ্যা বেশি। পুলিশে অভিযোগের হার তুলনামূলক কম।
কানাডায় এক হাজার যৌন নির্যাতনের ঘটনার ৩৩টি পুলিশকে জানানো হয়। আমেরিকায় ৬৮ শতাংশ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতরা পুলিশকে কিছুই জানায় না।
যেহেতু আমেরিকা বা ভারত থেকে অপসংকৃতি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তাই বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে।
২৫ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে সিলেটের এমসি কলেজে শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়৷ এছাড়া ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা। কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার ও এখনো বিচার হয়নি।
কঠোর আইন, প্রচার প্রচারণা ও উচ্চ আদালতের নানা ধরনের নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাচ্ছে না৷ ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীদের আইনগত সহায়তা দেয় বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংস্থাটির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ১৪১৩টি- যা তার আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতন যেমন পাল্লা দিয়ে ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে তোড়জোড়ও তথা নারীবাদীদের কলাম লেখনী, নারী সংগঠনের সভা সেমিনার, সরকারের মহিলা ও শিশু মন্ত্রণলয়ের সচেতনতামুলক প্রকল্পের মাত্রাও বহুগুন বেড়েছে। সমাধান হিসাবে দেওয়া হচ্ছে পশ্চিমাদের কাছ থেকে ধার করা বুলিসমূহ - নারীকে শিক্ষিত হতে হবে, নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে, নারীদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে ও সর্বোপরি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে ঐ নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব। এছাড়া নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
বর্তমানে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রায় পুরুষের সমান। নারীরা দিনে দিনে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও হয়ে উঠছে। কিন্তু এত কিছুর পরও নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতন বন্ধ তো স্বপ্নের বিষয়, কমার কোন লক্ষনই আপাতত: দেখা যাচ্ছেনা। বরং এই নির্যাতনের গ্রাফটা দিন দিন আরো উর্ধ্বগামী হচ্ছে। কারণ আমরা নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে ব্যর্থ হয়েছি।
যতদিন আমরা পুঁজিবাদী রাষ্ট্র আমেরিকা, ব্রিটেন বা ভারতকে অনুসরণ করব ততদিন নারী নির্যাতনের এরকম ঘটনা বাড়তে থাকবে।
আমরা সহজে একটা লাইন টানতে পারি যে, বাংলাদেশ পশ্চিমাদের মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতি অনুসরন করেছে যার ফলশ্রুতিতে আজকে বাংলাদেশে পশ্চিমা সমাজের ন্যায় নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।
একজন যুবক যখন দিনের পর দিন হলিউড-বলিউডের মুভি, কারিনা-ক্যাটরিনা-সানি লিওনদের আইটেম song, নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপনে নারীকে খোলামেলা উপস্থাপন করাকে দেখে, স্মার্ট মোবাইলে কম রেটের ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যাবহারে সহজলভ্য পর্ণ সাইট গুলো বিচরণ করে এবং এরপর রাস্তায় বা ক্যাম্পাসে কোন নারীকে সে কোন দৃষ্টিতে দেখবে? যেখানে নারীরাও স্বাধীনতার নামে বা অধিকার আদায়ের নামে নিজেদের উপস্থাপন করছে আকর্ষণীয় রূপে। এক্ষেত্রে নারীদেরকেও বেশি দোষ দেওয়া যায় না। কারণ প্রতিনিয়ত নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারীদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে পশ্চিমাদের বা ভারতীয় নারীদের মত আধুনিক হতে। ফলশ্রুতিতে আমাদের সামনে একজন নারী উপস্থাপিত হচ্ছে একটি ভোগ্যপণ্য হিসাবে। ফলে পরকীয়া, ধর্ষন এমনকি ৬ মাসের শিশুটিও বাদ যাচ্ছে না পর্ণ দেখায় অভ্যস্ত যুবকটির লোলুপ হাত হতে।
পশ্চিমারা মুনাফা সর্বোচ্চকরন নীতির কারনে যেকোন উপায়কে সঠিক মনে করে। এর জন্য নারীর সম্মান বিক্রি করে মুনাফা আসলেও তারা তা বৈধতা দেয়। তাই পর্ণোগ্রাফি Industry কে West প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সারা বিশ্বে এর প্রচার-প্রসার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করছে। আর অন্যদিকে নারী মুক্তির বা নারী অধিকারের আন্দোলনকে উৎসাহিত করছে। এটা তাদের স্পষ্ট দ্বৈতনীতি। সর্বোপরি পশ্চিমারা ও আমাদের শাসকগোষ্ঠী নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।
তাই বলা যা যে, নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ হত্যা ও নির্যাতনের মূল কারণ হলো-
পশ্চিমারা বাংলাদেশে তাদের দালাল শাসকগোষ্ঠী ও বুদ্ধিজীবিদের মাধ্যমে জীবন সম্পর্কে তাদের মূল্যবোধ (জীবনটাকে উপভোগ করা যেকোন উপায়ে), ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির ব্যাপক প্রচার-প্রসার করেছে এবং সর্বত্র নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসাবে উপস্থাপন করেছে।
ইসলামী জীবন ব্যবস্থা নারীদের উপর সকল প্রকার নির্যাতনের অবসান করবে। একমাত্র ইসলামই এমন সমাজ ও পৃথিবী উপহার দিতে পারে যা এসব বিকৃতি হতে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলকে সুরক্ষিত রাখবে, নৈতিক অবক্ষয় হতে সমাজকে নিরাপত্তা প্রদান করবে।
সমাধান হিসাবে শুধুমাত্র ইসলামী পোষাক নয় বরং পরিপূর্ণ ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে যা কেবল একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্র তথা খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব।
ইসলাম সমাজে যৌনতার বিস্তারকে নিষিদ্ধ করে, নারীর দেহের সকল ধরনের বস্তুকীকরন এবং শোষন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। নারী পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ককে কখনও সস্তা করেনা এবং সকল ধরনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক সমাজ থেকে দূর করে। নারী ও পুরুষের একে অপরের প্রতি আকর্ষন বিষয়ক ও সকল চাহিদার পূরণের একমাত্র উপায় হিসাবে বিবাহকে নির্দেশ করে এবং বিবাহের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করে। যা কিনা নারী-পুরুষ ও সমাজকে রক্ষা করে। ইসলাম নারীকে সর্বাধিক সম্মান দিতে উৎসাহিত করে। ইসলাম কখনোই সস্তা দামে নারীর সম্মান বিক্রি করে না।
রাসুল (সা:) বলেন- “এই বিশ্ব এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুই মূল্যবান। কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান একজন পরহেযগার নারী।”[ মুসলিম]
ইসলাম নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তিনি (সা:) আরো বলেন- “এমন একটা সময় আসবে যখন মহিলারা সানা থেকে হাজরে মাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে রাতের বেলা পাড়ি দিতে পারবে শুধুমাত্র জীব-জন্তু ও আল্লাহর ভয় তাদের অন্তরে কাজ করবে।” আল্লাহর রহমতে খলীফা ওমর (রা:) এর সময় এই হাদীসের বাস্তবতা দেখা গিয়েছিল।
আব্বাসীয় খিলাফতের সময় রোমান সীমান্তে কিছু রোমান সৈন্য একজন মুসলিম নারীর কাপড় ধরে টানাটানি করে অপমানিত করলে, সেই নারীর অভিযোগ খলিফার কাছে পৌছলে খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ সৈন্য বাহিনী পাঠিয়ে দিয়েছিল একজন মুসলিম নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য।
তাই ধর্ষনের মত বাজে ঘটনার শিকার আমার পরিচিত (মা-বোন-আত্মীয়স্বজন-সহপাঠী) কেউ হওয়ার আগে এ থেকে পরিত্রানের জন্য পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তরুন সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং প্রকৃত সমাধান ইসলামিক রাষ্ট্র তথা খিলাফত রাষ্ট্র ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে।
https://www.linkedin.com/pulse/top-10-countries-highest-rape-crime-geeta-pandey
৪৮ ভাগ জারজ সন্তানের দেশ আমেরিকা ধর্ষক দেশগুলির মধ্যে হেডমাস্টার। ২০১৮ সালে পৃথিবীর ১৯২ টা দেশের মধ্যে কোন দেশে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হয় তার একটা জরিপ করা হয়। তাদের মধ্যে আমেরিকা হচ্ছে সবচেয়ে উপরে। এছাড়া টপ ১০ টা দেশের মধ্যে আছে যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, ভারত, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা।
উন্নত বিশ্বে বেশির ভাগ ধর্ষণ হয় পরিচিতদের দিয়ে। সেখানে পুলিশে অভিযোগ করার হার অনেক বেশি। অন্য দিকে অনুন্নত দেশে রাস্তাঘাটে অপরিচিত পুরুষের মাধ্যমে ধর্ষণের সংখ্যা বেশি। পুলিশে অভিযোগের হার তুলনামূলক কম।
কানাডায় এক হাজার যৌন নির্যাতনের ঘটনার ৩৩টি পুলিশকে জানানো হয়। আমেরিকায় ৬৮ শতাংশ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতরা পুলিশকে কিছুই জানায় না।
যেহেতু আমেরিকা বা ভারত থেকে অপসংকৃতি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তাই বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে।
২৫ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে সিলেটের এমসি কলেজে শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়৷ এছাড়া ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা। কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার ও এখনো বিচার হয়নি।
কঠোর আইন, প্রচার প্রচারণা ও উচ্চ আদালতের নানা ধরনের নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাচ্ছে না৷ ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীদের আইনগত সহায়তা দেয় বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংস্থাটির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ১৪১৩টি- যা তার আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতন যেমন পাল্লা দিয়ে ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে তোড়জোড়ও তথা নারীবাদীদের কলাম লেখনী, নারী সংগঠনের সভা সেমিনার, সরকারের মহিলা ও শিশু মন্ত্রণলয়ের সচেতনতামুলক প্রকল্পের মাত্রাও বহুগুন বেড়েছে। সমাধান হিসাবে দেওয়া হচ্ছে পশ্চিমাদের কাছ থেকে ধার করা বুলিসমূহ - নারীকে শিক্ষিত হতে হবে, নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে, নারীদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে ও সর্বোপরি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে ঐ নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব। এছাড়া নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
বর্তমানে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রায় পুরুষের সমান। নারীরা দিনে দিনে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও হয়ে উঠছে। কিন্তু এত কিছুর পরও নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতন বন্ধ তো স্বপ্নের বিষয়, কমার কোন লক্ষনই আপাতত: দেখা যাচ্ছেনা। বরং এই নির্যাতনের গ্রাফটা দিন দিন আরো উর্ধ্বগামী হচ্ছে। কারণ আমরা নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে ব্যর্থ হয়েছি।
যতদিন আমরা পুঁজিবাদী রাষ্ট্র আমেরিকা, ব্রিটেন বা ভারতকে অনুসরণ করব ততদিন নারী নির্যাতনের এরকম ঘটনা বাড়তে থাকবে।
আমরা সহজে একটা লাইন টানতে পারি যে, বাংলাদেশ পশ্চিমাদের মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতি অনুসরন করেছে যার ফলশ্রুতিতে আজকে বাংলাদেশে পশ্চিমা সমাজের ন্যায় নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।
একজন যুবক যখন দিনের পর দিন হলিউড-বলিউডের মুভি, কারিনা-ক্যাটরিনা-সানি লিওনদের আইটেম song, নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপনে নারীকে খোলামেলা উপস্থাপন করাকে দেখে, স্মার্ট মোবাইলে কম রেটের ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যাবহারে সহজলভ্য পর্ণ সাইট গুলো বিচরণ করে এবং এরপর রাস্তায় বা ক্যাম্পাসে কোন নারীকে সে কোন দৃষ্টিতে দেখবে? যেখানে নারীরাও স্বাধীনতার নামে বা অধিকার আদায়ের নামে নিজেদের উপস্থাপন করছে আকর্ষণীয় রূপে। এক্ষেত্রে নারীদেরকেও বেশি দোষ দেওয়া যায় না। কারণ প্রতিনিয়ত নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারীদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে পশ্চিমাদের বা ভারতীয় নারীদের মত আধুনিক হতে। ফলশ্রুতিতে আমাদের সামনে একজন নারী উপস্থাপিত হচ্ছে একটি ভোগ্যপণ্য হিসাবে। ফলে পরকীয়া, ধর্ষন এমনকি ৬ মাসের শিশুটিও বাদ যাচ্ছে না পর্ণ দেখায় অভ্যস্ত যুবকটির লোলুপ হাত হতে।
পশ্চিমারা মুনাফা সর্বোচ্চকরন নীতির কারনে যেকোন উপায়কে সঠিক মনে করে। এর জন্য নারীর সম্মান বিক্রি করে মুনাফা আসলেও তারা তা বৈধতা দেয়। তাই পর্ণোগ্রাফি Industry কে West প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সারা বিশ্বে এর প্রচার-প্রসার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করছে। আর অন্যদিকে নারী মুক্তির বা নারী অধিকারের আন্দোলনকে উৎসাহিত করছে। এটা তাদের স্পষ্ট দ্বৈতনীতি। সর্বোপরি পশ্চিমারা ও আমাদের শাসকগোষ্ঠী নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।
তাই বলা যা যে, নারীর প্রতি যৌন হয়রানিসহ হত্যা ও নির্যাতনের মূল কারণ হলো-
পশ্চিমারা বাংলাদেশে তাদের দালাল শাসকগোষ্ঠী ও বুদ্ধিজীবিদের মাধ্যমে জীবন সম্পর্কে তাদের মূল্যবোধ (জীবনটাকে উপভোগ করা যেকোন উপায়ে), ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির ব্যাপক প্রচার-প্রসার করেছে এবং সর্বত্র নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসাবে উপস্থাপন করেছে।
ইসলামী জীবন ব্যবস্থা নারীদের উপর সকল প্রকার নির্যাতনের অবসান করবে। একমাত্র ইসলামই এমন সমাজ ও পৃথিবী উপহার দিতে পারে যা এসব বিকৃতি হতে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলকে সুরক্ষিত রাখবে, নৈতিক অবক্ষয় হতে সমাজকে নিরাপত্তা প্রদান করবে।
সমাধান হিসাবে শুধুমাত্র ইসলামী পোষাক নয় বরং পরিপূর্ণ ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে যা কেবল একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্র তথা খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব।
ইসলাম সমাজে যৌনতার বিস্তারকে নিষিদ্ধ করে, নারীর দেহের সকল ধরনের বস্তুকীকরন এবং শোষন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। নারী পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ককে কখনও সস্তা করেনা এবং সকল ধরনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক সমাজ থেকে দূর করে। নারী ও পুরুষের একে অপরের প্রতি আকর্ষন বিষয়ক ও সকল চাহিদার পূরণের একমাত্র উপায় হিসাবে বিবাহকে নির্দেশ করে এবং বিবাহের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করে। যা কিনা নারী-পুরুষ ও সমাজকে রক্ষা করে। ইসলাম নারীকে সর্বাধিক সম্মান দিতে উৎসাহিত করে। ইসলাম কখনোই সস্তা দামে নারীর সম্মান বিক্রি করে না।
রাসুল (সা:) বলেন- “এই বিশ্ব এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুই মূল্যবান। কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান একজন পরহেযগার নারী।”[ মুসলিম]
ইসলাম নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তিনি (সা:) আরো বলেন- “এমন একটা সময় আসবে যখন মহিলারা সানা থেকে হাজরে মাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে রাতের বেলা পাড়ি দিতে পারবে শুধুমাত্র জীব-জন্তু ও আল্লাহর ভয় তাদের অন্তরে কাজ করবে।” আল্লাহর রহমতে খলীফা ওমর (রা:) এর সময় এই হাদীসের বাস্তবতা দেখা গিয়েছিল।
আব্বাসীয় খিলাফতের সময় রোমান সীমান্তে কিছু রোমান সৈন্য একজন মুসলিম নারীর কাপড় ধরে টানাটানি করে অপমানিত করলে, সেই নারীর অভিযোগ খলিফার কাছে পৌছলে খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ সৈন্য বাহিনী পাঠিয়ে দিয়েছিল একজন মুসলিম নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য।
তাই ধর্ষনের মত বাজে ঘটনার শিকার আমার পরিচিত (মা-বোন-আত্মীয়স্বজন-সহপাঠী) কেউ হওয়ার আগে এ থেকে পরিত্রানের জন্য পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তরুন সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং প্রকৃত সমাধান ইসলামিক রাষ্ট্র তথা খিলাফত রাষ্ট্র ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে।
https://www.linkedin.com/pulse/top-10-countries-highest-rape-crime-geeta-pandey

