মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
নির্বাচিত খবর

স্কুলে যৌন শিক্ষা: পরিণতি কী হতে চলেছে!

৩ মিনিটে পড়ুন২৩ আগস্ট ২০২০
স্কুলে যৌন শিক্ষা: পরিণতি কী হতে চলেছে!
দেশের সাড়ে তিনশ’ স্কুলে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের এক সাথে বসিয়ে যৌনশিক্ষা দিয়ে লজ্জাবোধ, নৈতিকতা, পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র। আর এই ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। প্রোগ্রামটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। অর্থ দিচ্ছে জাতিসংঘ। তারা এভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লজ্জাহীন করে ভোগবাদী বানাতে চায়।

গত ২৬ মার্চ বিবিসির ‘বিশেষ যৌন শিক্ষা’ সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের ৩৫০টি স্কুলে ‘জেমস’ নামের দুই বছর মেয়াদী এই বিশেষ কোর্সটি চালু আছে গত পাঁচ বছর ধরে। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক তহবিল- ইউএনএফপিএ-এর অর্থায়নে এটা চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চালুকরা এই প্রোগ্রামে অচিরেই আরও দুইশো স্কুলকে যুক্ত করা হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চালুকরা এই কোর্সটির ধরন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমা দেশের বিদ্যালয়ে পড়ানো সেক্স এডুকেশনের আদলে’ এ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক ট্যাবু ভেঙ্গে যারা এসব শিখছে তারা অন্য শিশু-কিশোরদের চেয়ে যৌন বিষয়ে অনেক বেশি জড়তামুক্ত হতে পারছে। তারা এখন মাসিক, স্বপ্নদোষ, যৌন সম্পর্ক, কনডম –এ জাতীয় শব্দ ব্যবহারে মোটেই সংকুচিত নয়। শিক্ষাটা দেওয়া হচ্ছে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের। আর ছেলে-মেয়েদের একটি কক্ষে বসিয়েই হচ্ছে এসব পাঠদানের কাজ। এর সঙ্গে সাধারণ যৌন সম্পর্ক, যৌনসম্পর্কের ফলাফল, নিরাপদ যৌন সম্পর্কের উপায় ও ঝুঁকি –এসব বিষয়ও আলোচনা থেকে খুব একটা বাদ পড়ে না, পড়ার কথাও না। ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কনডমের ব্যবহার নিয়েও বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবে ‘শিক্ষা’ গ্রহণ করছে।

এ শিক্ষার ভালোমন্দ নিয়ে এর মধ্যেই নানা রকম প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে এ নিয়ে তর্ক। শুরুতেই সেসব তর্কে যাওয়ার আগে কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে কথা চলতে পারে। এখানে কয়েকটি প্রশ্ন জোরালোভাবে সামনে চলে আসে।

এক. ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের মাঝে এত বিস্তারিত যৌনতা বিষয়ক ‘জ্ঞান’ বিনিময়ের দরকার কতোটুকু? ৯ থেকে ১৪ বছরের যে শিশু বা কিশোর-কিশোরীকে এসব শেখানো হচ্ছে- তার পরবর্তী কৌতূহল প্রবণতার ফল কী দাঁড়াতে পারে?
দুই. যদি তা-ই হয় তাদের বয়স, তাহলে ১৮-এর আগে বৈধ শারীরিক সম্পর্কে (বিবাহ) আইনের শাস্তিমূলক এত কঠোর বাঁধন কী জন্য রাখা হয়েছে? এবং কেনই বা বিবাহ ভেঙ্গে দিয়ে সেটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?
তিন. যৌন বিষয়ে ট্যাবু বা সামাজিক লুকোছাপা ভাঙ্গা আর সাধারণ লজ্জাশীলতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাঝে কি কোনো পার্থক্য নেই?
চার. কিছুটা বিস্তারিত পর্যায়ের যৌন সতর্কতামূলক জ্ঞান যদি ছাত্রছাত্রীদের দিতেই হয় সেটা কি দশম শ্রেণির পর থেকে দেওয়া যেত না?
পাঁচ. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিশু-কিশোরদের মাঝে সবিস্তারে যৌনশিক্ষা প্রকল্পের বিরুদ্ধে যেসব আন্দোলন-প্রতিরোধের খবর পাওয়া যায় সেসব কি পুরোপুরি ভিত্তিহীন?

স্কুলে যদি যৌনবিষয়ক এই শিক্ষা চালু থাকে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সে দিকে আগ্রহী করে তুলবে এবং অবাধ যৌন মিলনে তাদের মনে ইন্ধন যোগাবে। আর এতে করে আমাদের পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। বাংলাদেশের সামাজিক পরিবেশেরর সাথে স্কুল শিক্ষার্থীদের যৌনবিষয়ক সচেতনতা শিক্ষার কোন প্রয়োজন নেই। বরং এই শিক্ষা আল্প বয়সেই এদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অবাধ যৌনাচারের ফলে প্রাণঘাতি নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হবে।

এমনিতেই আজ সমাজ থেকে লজ্জা শরম বিদায় নিয়েছে। টিভি সিরিয়ালগগুলোর নাটক সিনেমায় নায়িকারা এমন শর্ট পোষাক পড়ে যাতে তাদের গোপন অঙ্গগুলো পুরুষ দেখতে পায়। অর্ধালগ্ন সুন্দরী মেয়ে -ছেলের ঢলাঢলি, শরীরের অঙ্গ ভঙ্গীর দৃশ্যগুলো মুসলিম পরিবারের সদস্যরা দেখছে। এমনকি মা-বাবা, ভাই-বোন একসাথে বসে এগুলো উপভোগ করছে। একারণে ছেলে মেয়েরা লজ্জা হারিয়ে ফেলছে। এ নোংরা দৃশ্যগুলো দেখার পর তরুণ বয়সের ছেলে মেয়েরা কোনোভাবেই সুস্থ্য থাকতে পারে না।

এরকম একটি নাজুক সময়ে দেশের সাড়ে তিনশ’ স্কুলে কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এক কক্ষে এক সাথে বসিয়ে যৌনশিক্ষা দানের খবর খুবই উদ্বেগের বিষয়।

‘যৌন দুর্ঘটনার’ খবর প্রায়ই পত্রিকার পাতায় আসছে। এসব পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে এর চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় যে শিক্ষাটি প্রভাব রাখতে পারে সেটি হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের মাঝে দ্বীনের নিরাপত্তা চেতনা জাগ্রত করা। অবৈধ সম্পর্ককে কঠোরভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবেই তাদের অন্তরে বসানো এবং ছেলেমেয়ে উভয়পক্ষের মাঝে পর্দার বিধানকে কার্যকর করে তোলা।এটা করা হলে ‘যৌন-অনিরাপত্তা’ এমনিতেই অনেক কমে যেতে পারে। পশ্চিমাদের আদলে বাংলাদেশে ‘যৌনশিক্ষা’ পড়ানোর প্রয়োজন ও সুফল কোনোটাই থাকার কথা নয়।

ইসলামী ব্যবস্থায় তথা খুলাফাত জীবন ব্যবস্থায় স্কুলে যৌনশিক্ষা নিষিদ্ধ করবে।