শাসক ও সেনাপতি আমর ইবনুল আস - এর একটি অসাধারণ ন্যায়বিচারের ঘটনা
৩ মিনিটে পড়ুন২০ জুন ২০১৮

সিরিয়া হতে পরাজিত ও বিতাড়িত রোমক সৈন্যরা তাদের তৎকালীন শক্ত ঘাঁটি মিশরের রাজধানী আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে অবস্থান নেয়। মুসলমানদের অগ্রাভিযান রুখে দেওয়ার জন্য তারা এখানে তাদের সকল শক্তি কেন্দ্রীভূত করে।
কিন্তু অদম্য সাহাসী মুসলিম সেনাপতি হজরত আমর ইবনে আ’স (রাঃ) এখানেও তাদের সম্মিলিত শক্তি গুড়িয়ে দেন এবং অধিকৃত শহরের শাসনভারের দায়িত্ব নিজের হাতে নেন। তিনি সেখানকার খৃস্টান প্রজাদেরকে তাদের যাবতীয় ধর্মীয় কর্মকান্ডে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন।
একদিন সকালবেলা আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রিষ্টান পল্লীতে হইচই পড়ে গেল। সবাই দেখা গেল বাজারে জটলা হয়ে আছে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে। সেখান থেকে খ্রিস্টানদের স্থানীয় আর্চবিশপ আমর ইবনে আ’স এর বাসভবনে গেলেন বাজারের ঘটনা সমাধান করার জন্য। তাঁর সাথে আরও অনেকেই গেলেন।
সেখানে গিয়ে বিশপ জানালেন, কেউ একজন বাজারের যিশু খ্রিষ্টের মার্বেলের মূর্তির নাক গত রাতে ভেঙে ফেলেছে। এ মূর্তিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের জন্য। খ্রিষ্টানরা ধরে নিয়েছে যে এটা মুসলমানদের কাজ। তারা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে।
আমর ইবেন আ’স এ কথা শুনে অত্যন্ত দু:খিত হলেন। তিনি বললেন, “আমি খুবই লজ্জিত, ব্যথিত। সত্যি কথা, ইসলামে মূর্তিপূজা জায়েজ না। কিন্তু, অন্য ধর্মের উপাস্যকে গালি দেয়া পর্যন্তও হারাম। আপনি মূর্তিটা পুননির্মাণ করে নিন। আমি পূর্ণ খরচ দেব।”।
কিন্তু বিশপ বললেন, “এ মূর্তি রিপেয়ার করা যাবে না।”
আ’স বললেন, “তবে নতুন করে বানান। আমি খরচ দেব।”
কিন্তু খ্রীস্টান নেতাদের প্রতিশোধ নেবার বাসনা ছিল অন্যরূপ। তাদের সংকল্প প্রকাশ করে একজন খ্রীস্টান নেতা বললো, "যীশু খ্রীস্টকে আমরা আল্লাহর পুত্র বলে মনে করি। তাঁর প্রতিমূর্তির এরূপ অপমান হওয়াতে আমরা অত্যন্ত আঘাত পেয়েছি। অর্থ এর যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ নয়। আমরা চাই আপনাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতিমূর্তি তৈরী করে ঠিক অমনি ভাবে তাঁর অসম্মান করি।" এ কথা শুনে বারুদের মত জ্বলে উঠলেন আমর।
ভীষণ ক্রোধে মুখমন্ডল উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলো তাঁর। কিছুক্ষণ নীরব থেকে নিজেকে সংযত করে নিয়ে তিনি খ্রীস্টান বিশপকে লক্ষ্য করে বললেন, "আমার অনুরোধ, এ প্রস্তাব ছাড়া অন্য যে কোন প্রস্তাব করুন আমি তাতে রাজি আছি। আমাদের যে কোন একজনের নাক কেটে আমি আপনাদের দিতে প্রস্তুত, যার নাক আপনারা চান।"
খ্রীস্টান নেতারাও সকলেই এ প্রস্তাবে সম্মত হলো।
পরদিন খ্রীস্টানরা ও মুসলমানরা বিরাট এক ময়দানে জমায়েত হলো। মিশরের শাসক সেনাপতি আমর সবার সামনে হাজির হয়ে বিশপকে বললেন, "এদেশ শাসনের দায়িত্ব আমার। যে অপমান আজ আপনাদের, তাতে আমার শাসন দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে। তাই তরবারি গ্রহণ করুন এবং আপনিই আমার নাসিকা ছেদন করুন।" এই কথা বলেই তিনি বিশপকে একখানি তীক্ষ্মধার তরবারি হাতে দিলেন। জনতা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, খ্রীস্টানরা স্তম্ভিত। চারদিকে থমথমে ভাব। সে নীরবতায় নিঃশ্বাসের শব্দ করতেও যেন ভয় হয়।
সহসা সেই নীরবতা ভঙ্গ করে একজন মুসলিম সৈন্য এলো । চিৎকার করে বললো, "আমি-ই দোষী ! সিপাহসালারের কোন অপরাধ নেই। আমি-ই মূর্তির নাসিকা কর্তন করেছি, এই যে তা আমার হাতেই আছে!" সৈন্যটি এগিয়ে এসে বিশপের তরবারির নীচে নিজের নাসিকা পেতে দিল। স্তম্ভিত বিশপ! নির্বাক সকলে। বিশপের অন্তরাত্মা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল।
তরবারি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বিশপ বললেন, "ধন্য সেনাপতি, ধন্য এই বীর সৈনিক, আর ধন্য আপনাদের মুহাম্মাদ যাঁর মহান আদর্শে আপনাদের মত মহৎ, উদার, নির্ভীক ও শক্তিমান ব্যক্তি গড়ে উঠেছে। যীশু খ্রীস্টের প্রতিমূর্তির অসম্মান করা অন্যায় হয়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু তার চাইতেও অন্যায় হবে যদি আজ আমি এই সুন্দর ও জীবন্ত দেহের অঙ্গহানি করি।
সেই মহান ও আদর্শ নবীকে আমারও সালাম জানাই।"
কিন্তু অদম্য সাহাসী মুসলিম সেনাপতি হজরত আমর ইবনে আ’স (রাঃ) এখানেও তাদের সম্মিলিত শক্তি গুড়িয়ে দেন এবং অধিকৃত শহরের শাসনভারের দায়িত্ব নিজের হাতে নেন। তিনি সেখানকার খৃস্টান প্রজাদেরকে তাদের যাবতীয় ধর্মীয় কর্মকান্ডে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন।
একদিন সকালবেলা আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রিষ্টান পল্লীতে হইচই পড়ে গেল। সবাই দেখা গেল বাজারে জটলা হয়ে আছে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে। সেখান থেকে খ্রিস্টানদের স্থানীয় আর্চবিশপ আমর ইবনে আ’স এর বাসভবনে গেলেন বাজারের ঘটনা সমাধান করার জন্য। তাঁর সাথে আরও অনেকেই গেলেন।
সেখানে গিয়ে বিশপ জানালেন, কেউ একজন বাজারের যিশু খ্রিষ্টের মার্বেলের মূর্তির নাক গত রাতে ভেঙে ফেলেছে। এ মূর্তিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের জন্য। খ্রিষ্টানরা ধরে নিয়েছে যে এটা মুসলমানদের কাজ। তারা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে।
আমর ইবেন আ’স এ কথা শুনে অত্যন্ত দু:খিত হলেন। তিনি বললেন, “আমি খুবই লজ্জিত, ব্যথিত। সত্যি কথা, ইসলামে মূর্তিপূজা জায়েজ না। কিন্তু, অন্য ধর্মের উপাস্যকে গালি দেয়া পর্যন্তও হারাম। আপনি মূর্তিটা পুননির্মাণ করে নিন। আমি পূর্ণ খরচ দেব।”।
কিন্তু বিশপ বললেন, “এ মূর্তি রিপেয়ার করা যাবে না।”
আ’স বললেন, “তবে নতুন করে বানান। আমি খরচ দেব।”
কিন্তু খ্রীস্টান নেতাদের প্রতিশোধ নেবার বাসনা ছিল অন্যরূপ। তাদের সংকল্প প্রকাশ করে একজন খ্রীস্টান নেতা বললো, "যীশু খ্রীস্টকে আমরা আল্লাহর পুত্র বলে মনে করি। তাঁর প্রতিমূর্তির এরূপ অপমান হওয়াতে আমরা অত্যন্ত আঘাত পেয়েছি। অর্থ এর যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ নয়। আমরা চাই আপনাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতিমূর্তি তৈরী করে ঠিক অমনি ভাবে তাঁর অসম্মান করি।" এ কথা শুনে বারুদের মত জ্বলে উঠলেন আমর।
ভীষণ ক্রোধে মুখমন্ডল উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলো তাঁর। কিছুক্ষণ নীরব থেকে নিজেকে সংযত করে নিয়ে তিনি খ্রীস্টান বিশপকে লক্ষ্য করে বললেন, "আমার অনুরোধ, এ প্রস্তাব ছাড়া অন্য যে কোন প্রস্তাব করুন আমি তাতে রাজি আছি। আমাদের যে কোন একজনের নাক কেটে আমি আপনাদের দিতে প্রস্তুত, যার নাক আপনারা চান।"
খ্রীস্টান নেতারাও সকলেই এ প্রস্তাবে সম্মত হলো।
পরদিন খ্রীস্টানরা ও মুসলমানরা বিরাট এক ময়দানে জমায়েত হলো। মিশরের শাসক সেনাপতি আমর সবার সামনে হাজির হয়ে বিশপকে বললেন, "এদেশ শাসনের দায়িত্ব আমার। যে অপমান আজ আপনাদের, তাতে আমার শাসন দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে। তাই তরবারি গ্রহণ করুন এবং আপনিই আমার নাসিকা ছেদন করুন।" এই কথা বলেই তিনি বিশপকে একখানি তীক্ষ্মধার তরবারি হাতে দিলেন। জনতা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, খ্রীস্টানরা স্তম্ভিত। চারদিকে থমথমে ভাব। সে নীরবতায় নিঃশ্বাসের শব্দ করতেও যেন ভয় হয়।
সহসা সেই নীরবতা ভঙ্গ করে একজন মুসলিম সৈন্য এলো । চিৎকার করে বললো, "আমি-ই দোষী ! সিপাহসালারের কোন অপরাধ নেই। আমি-ই মূর্তির নাসিকা কর্তন করেছি, এই যে তা আমার হাতেই আছে!" সৈন্যটি এগিয়ে এসে বিশপের তরবারির নীচে নিজের নাসিকা পেতে দিল। স্তম্ভিত বিশপ! নির্বাক সকলে। বিশপের অন্তরাত্মা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল।
তরবারি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বিশপ বললেন, "ধন্য সেনাপতি, ধন্য এই বীর সৈনিক, আর ধন্য আপনাদের মুহাম্মাদ যাঁর মহান আদর্শে আপনাদের মত মহৎ, উদার, নির্ভীক ও শক্তিমান ব্যক্তি গড়ে উঠেছে। যীশু খ্রীস্টের প্রতিমূর্তির অসম্মান করা অন্যায় হয়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু তার চাইতেও অন্যায় হবে যদি আজ আমি এই সুন্দর ও জীবন্ত দেহের অঙ্গহানি করি।
সেই মহান ও আদর্শ নবীকে আমারও সালাম জানাই।"
✦আরও পড়ুন

খিলাফতের ইতিহাস
কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ
আব্বাসীয় খলীফা মামূনুর রশীদের দরবারে মাঝে মাঝে শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হত। এতে তৎকালীন বিভিন্ন বিষয়ে বিদগ্ধ পন্ডিতগণ…

খিলাফতের ইতিহাস
গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!
ওসমানীয় খেলাফত চলছে তখন, ১৮৪৫ সাল। খলিফা আব্দুল মাজিদ ইস্তাম্বুলের মসনদে। এসময়ে এসেও ইউরোপের অবস্থা খুব একটা সুবিধার ছিলনা, বিভিন্ন আর্থিক-সামাজিক…

খিলাফতের ইতিহাস
হযরত ওমরের চুমু!
হযরত ওমরের শাসন চলছে। শুরু হয়েছে রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যুদ্ধে বন্দি হয়েছেন অনেক মুসলিম সৈনিক। সঙ্গে বন্দি একজন সাহাবিও। রাসূল (সাঃ) - এর…