পরিত্যক্ত ডায়রি · অধ্যায় ৫/৫
পার্ট - ০৫
মিডে টার্ম পরীক্ষার পর এই প্রথম ক্লাসে এসেছে ইন্তিহা।প্রায় দুই সপ্তাহ ক্লাসে আসেনি ও। কেমন যেন দ্বিধা দ্বন্দ হচ্ছিলো ওর। আর বার বার মনে হচ্ছিলো সবাই কি ভাববে, ”এত্ত টেন্ডি একটা মেয়ে হঠাৎ এমন হয়ে গেলো কেন!”
মনে মনে যে ভয়টা পাচ্ছিলো ঠিক তাইই হল; ইন্তিহাকে দেখেই দীপ্তি, অনন্যা, রেদোয়ানা সেই লেভেলের পঁচানি দিলো। অনন্যা তো বলেই বসলো, ”কিরে বিরহে তো চিৎ হয়ে গেলি দেখি। কোনো সাজ নাই। ইইয়া বড় ওরনা দিয়ে চুল ঢেকে আসছোস। নাকি প্রেমের শোকে চুল বিশর্জন দিলি!”
অন্য কোনো সময় হলে হয়ত মুখ ঠাসা কোনো উত্তর দিয়ে দিতো ইন্তিহা। কিন্তু আজ সে পুরো চুপ ছিলো।কারণ সে জানে এখন ধৈর্য ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। হাজার বলেও এখন কাউকেই এটা বুঝানো সম্ভব না যে, ঠিক কি কারণে সে একটু একটু করে পর্দা করার চেষ্টা করছে। পঁচানির এক পর্যায়ে দীপ্তি বললো, ”ইন্তিহা, আজ তোর ক্রাশ আসবে। তাহসান। অডিটোরিয়ামে কন্সার্ট। সবাই যাবো ফার্স্ট গ্যাপে।”
রেদোয়ানা বললো, ”তুই তো আবার হুজুর হয়ে গেছিস।কন্সার্টে তো যাবি নাহ্, তাই না?”
এ কথায় একটা হাসির রোল পড়ে গেলো। ও সত্যিই যাবে না। কিন্তু এ কথা এখন এখানে বলার কোনো মানেই নেই।
ফার্স্ট গ্যাপে সবাই কন্সার্টে চলে গেলো। ইন্তিহা কিছুক্ষন ক্যান্টিনে বসে আগের পড়াগুলো পড়ে নিলো। তারপর আর তার একা বসে থাকতে ভালো লাগছিলো না। তাই হাটতে হাটতে রবীন্দ্রসরবরে গিয়ে বসলো। দুপুর বেলা বলে হয়ত অনেক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে জায়গাটা। সন্ধ্যা হলে তো কপত কপতীর বিচরণ ক্ষেত্রে পরিনত হয় এটা।কত্ত স্মৃতি ভরা একটা জায়গা। বড় বট গাছটার নীচে বসে তপুর সাথে কত গল্প করত। এখনো সেই একই জায়গায় বসেছে ও। কিছুদিন আগেও বড় বট গাছের নীচটা ইন্তিহার ফেভারিট জায়গা ছিলো। কিন্তু আজ এখানেও বোরিং লাগছে। অযথা মনটা খারাপ হয়ে আছে।
কিছু একটা লিখবে ভেবে ব্যাগ থেকে নীল মলাটের ডায়রিটা বের করলো ইন্তিহা।
নাহ্!
লিখতেও ইচ্ছে হচ্ছে না। তাই পেছনের পাতাগগুলো উলটে দেখছিলো। কত কথা লেখা আছে এই ডায়রিতে।মাঝে একটা পেজে, একটা প্রান হজম ক্যান্ডির খোশা স্ট্যাপল করে লাগানো। আর নীচে লেখা, ”উনি দিসেন।”
আম্মুর সাথে রাগ করে কতোকি লিখে রেখেছে এখানে।দীপ্তিকে নিয়ে লেখা, ”দীপ্তি একটা ঢঙ্গী।” তাহমিনা আপুকে নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে লিখেছিলো, ”তাহমিনা আপুটা দিন দিন ক্ষ্যাত হয়ে যাইতেসে।”
পড়তে পড়তে চোখ জ্বালা করছে ইন্তিহার। মনে হচ্ছে যেন নিজের জীবনের টাইমলাইন নিজেই দেখছে। মাত্র এক মাস আগের ইন্তিহা আর আজকের ইন্তিহা একই মানুষ না। সেই হাত, পা, শরীর, চেহারা, চোখ সব একই আছে; কিন্তু কোথাও যেন কি একটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন হয়ে গেছে।
টুইংটুং!!!
ফোনে এসএমএস এসেছে। রেদোয়ানার এসএমএস, ”কিরেহ্ কি হইসে তোর! কন্সার্টেও আসলিনা। ক্লাস তো শুরু হয়ে গেছে। ক্লাসেও আসবি নাহ্, নাকি!”
উঠে দাড়ালো ইন্তিহা।
খুব শান্ত মেয়ের মত হাটছে, ক্লাসের উদ্দেশ্যে। ওকে বাইরে থেকে দেখে ভেতরের ঝড় বোঝার উপায় নেই।
আর নীল মলাটের ডায়রিটা, রবীন্দ্রসরবরের সেই বড় বট গাছের নীচেই রয়ে গেলো। এখন আর ওটার কোনো প্রয়োজন নাই ইন্তিহার। মন খারাপ হলে, কারো উপর রাগ হলে, মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গিয়ে খুব একা একা লাগলে, অনেক সুন্দর বৃষ্টি হলে বা কোনো বিকাল আর সন্ধ্যার মাঝামাঝি সময় কোনো হলুদ পাখি চোখে পড়লেও আর ডায়রি লিখবে না ইন্তিহা।
কারণ, মনের সব কথা বলার মত একজনকে এখন ও পেয়েছে। যে ওর মনের সব কথা খুব মনযোগ দিয়ে শোনে। আর যার কাছে সব ধরণের প্রবলেমের বেস্ট সলুশনটাই আছে।
কে যেন ইন্তিহাকে বলেছিলো, মনের কথা ডায়রিতে লিখলে মন ভালো হয়ে যায়। সব ফালতুহ্ কথা! দু’রাকাত তাহাজ্জত নামাজ পড়ে মনের কথা আল্লাহ্ কে বললে মন ভালো হয়ে যায়। যে এটা কখনো করেনি; সে কখনোই বুঝবে না ফিলিংসটা। [কাল্পনিক]
লেখিকাঃ নুসরাত জাহান মুন
মনে মনে যে ভয়টা পাচ্ছিলো ঠিক তাইই হল; ইন্তিহাকে দেখেই দীপ্তি, অনন্যা, রেদোয়ানা সেই লেভেলের পঁচানি দিলো। অনন্যা তো বলেই বসলো, ”কিরে বিরহে তো চিৎ হয়ে গেলি দেখি। কোনো সাজ নাই। ইইয়া বড় ওরনা দিয়ে চুল ঢেকে আসছোস। নাকি প্রেমের শোকে চুল বিশর্জন দিলি!”
অন্য কোনো সময় হলে হয়ত মুখ ঠাসা কোনো উত্তর দিয়ে দিতো ইন্তিহা। কিন্তু আজ সে পুরো চুপ ছিলো।কারণ সে জানে এখন ধৈর্য ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। হাজার বলেও এখন কাউকেই এটা বুঝানো সম্ভব না যে, ঠিক কি কারণে সে একটু একটু করে পর্দা করার চেষ্টা করছে। পঁচানির এক পর্যায়ে দীপ্তি বললো, ”ইন্তিহা, আজ তোর ক্রাশ আসবে। তাহসান। অডিটোরিয়ামে কন্সার্ট। সবাই যাবো ফার্স্ট গ্যাপে।”
রেদোয়ানা বললো, ”তুই তো আবার হুজুর হয়ে গেছিস।কন্সার্টে তো যাবি নাহ্, তাই না?”
এ কথায় একটা হাসির রোল পড়ে গেলো। ও সত্যিই যাবে না। কিন্তু এ কথা এখন এখানে বলার কোনো মানেই নেই।
ফার্স্ট গ্যাপে সবাই কন্সার্টে চলে গেলো। ইন্তিহা কিছুক্ষন ক্যান্টিনে বসে আগের পড়াগুলো পড়ে নিলো। তারপর আর তার একা বসে থাকতে ভালো লাগছিলো না। তাই হাটতে হাটতে রবীন্দ্রসরবরে গিয়ে বসলো। দুপুর বেলা বলে হয়ত অনেক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে জায়গাটা। সন্ধ্যা হলে তো কপত কপতীর বিচরণ ক্ষেত্রে পরিনত হয় এটা।কত্ত স্মৃতি ভরা একটা জায়গা। বড় বট গাছটার নীচে বসে তপুর সাথে কত গল্প করত। এখনো সেই একই জায়গায় বসেছে ও। কিছুদিন আগেও বড় বট গাছের নীচটা ইন্তিহার ফেভারিট জায়গা ছিলো। কিন্তু আজ এখানেও বোরিং লাগছে। অযথা মনটা খারাপ হয়ে আছে।
কিছু একটা লিখবে ভেবে ব্যাগ থেকে নীল মলাটের ডায়রিটা বের করলো ইন্তিহা।
নাহ্!
লিখতেও ইচ্ছে হচ্ছে না। তাই পেছনের পাতাগগুলো উলটে দেখছিলো। কত কথা লেখা আছে এই ডায়রিতে।মাঝে একটা পেজে, একটা প্রান হজম ক্যান্ডির খোশা স্ট্যাপল করে লাগানো। আর নীচে লেখা, ”উনি দিসেন।”
আম্মুর সাথে রাগ করে কতোকি লিখে রেখেছে এখানে।দীপ্তিকে নিয়ে লেখা, ”দীপ্তি একটা ঢঙ্গী।” তাহমিনা আপুকে নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে লিখেছিলো, ”তাহমিনা আপুটা দিন দিন ক্ষ্যাত হয়ে যাইতেসে।”
পড়তে পড়তে চোখ জ্বালা করছে ইন্তিহার। মনে হচ্ছে যেন নিজের জীবনের টাইমলাইন নিজেই দেখছে। মাত্র এক মাস আগের ইন্তিহা আর আজকের ইন্তিহা একই মানুষ না। সেই হাত, পা, শরীর, চেহারা, চোখ সব একই আছে; কিন্তু কোথাও যেন কি একটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন হয়ে গেছে।
টুইংটুং!!!
ফোনে এসএমএস এসেছে। রেদোয়ানার এসএমএস, ”কিরেহ্ কি হইসে তোর! কন্সার্টেও আসলিনা। ক্লাস তো শুরু হয়ে গেছে। ক্লাসেও আসবি নাহ্, নাকি!”
উঠে দাড়ালো ইন্তিহা।
খুব শান্ত মেয়ের মত হাটছে, ক্লাসের উদ্দেশ্যে। ওকে বাইরে থেকে দেখে ভেতরের ঝড় বোঝার উপায় নেই।
আর নীল মলাটের ডায়রিটা, রবীন্দ্রসরবরের সেই বড় বট গাছের নীচেই রয়ে গেলো। এখন আর ওটার কোনো প্রয়োজন নাই ইন্তিহার। মন খারাপ হলে, কারো উপর রাগ হলে, মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গিয়ে খুব একা একা লাগলে, অনেক সুন্দর বৃষ্টি হলে বা কোনো বিকাল আর সন্ধ্যার মাঝামাঝি সময় কোনো হলুদ পাখি চোখে পড়লেও আর ডায়রি লিখবে না ইন্তিহা।
কারণ, মনের সব কথা বলার মত একজনকে এখন ও পেয়েছে। যে ওর মনের সব কথা খুব মনযোগ দিয়ে শোনে। আর যার কাছে সব ধরণের প্রবলেমের বেস্ট সলুশনটাই আছে।
কে যেন ইন্তিহাকে বলেছিলো, মনের কথা ডায়রিতে লিখলে মন ভালো হয়ে যায়। সব ফালতুহ্ কথা! দু’রাকাত তাহাজ্জত নামাজ পড়ে মনের কথা আল্লাহ্ কে বললে মন ভালো হয়ে যায়। যে এটা কখনো করেনি; সে কখনোই বুঝবে না ফিলিংসটা। [কাল্পনিক]
লেখিকাঃ নুসরাত জাহান মুন