কাযী শুরাইহের ন্যায়বিচার
২ মিনিটে পড়ুন১৩ জুন ২০২০

একবার কাযী শুরাইহের ছেলে জনৈক আসামীর জামিন হয়।
আসামী জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে গেলে শুরাইহ আসামীর বিনিময়ে ছেলেকে জেলে আটকান। যতদিন আসামীকে খুঁজে পাওয়া যায় নি ততদিন সে জেলে আটক এবং কাযী সাহেব স্বয়ং বন্দী ছেলের জন্য জেলখানায় খাবার দিয়ে আসতেন।
কাযী শুরাইহের আর এক ছেলে একবার এক গোত্রের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত মোকদ্দমার সম্মুখীন হন। মোকদ্দমাটি শুরাইহের আদালতেই আসার কথা ছিল। তাই পিতার সাথে আগেভাগেই পরামর্শ করার জন্য ছেলেটি একদিন বললোঃ আব্বা, আপনি আমার মামলার বিবরণটি পুরোপুরি শুনে আমাকে বলুন আমার জেতার সম্ভাবনা আছে কি না। যদি থাকে তাহলে আমি মামলাটি রুজু করবো। নচেত বিরত থাকবো।
বিচারপতি শুরাইহ পুরো ঘটনা শুনে ছেলেকে মামলা রুজু করার পরামর্শ দিলেন।
যথাসময়ে মামলার শুনানি শুরু হলো। শুনানী শেষে শুরাইহ নিজের ছেলের বিরুদ্ধে রায় দিলেন।
রাত্রে বাসায় এসে ছেলে পিতার কাছে অনুযোগের সুরে বললোঃ “আব্বা, আপনি আমাকে এভাবে অপমান করলেন! আমি যদি আগেভাগে আপনার পরামর্শ না নিতাম, তা হলেও একটা সান্তনা ছিল। কিন্তু…..।”
কাযী শুরাইহ বললেনঃ “হে বৎস! তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সবার কাছ হতে প্রিয়; কিন্তু তোমার কাছ হতেও আল্লাহ আমার কাছে অনেক বেশী প্রিয়। আমি জানতাম, তোমার বিপক্ষের দাবীই সঠিক ও ন্যায়সংগত।
কিন্তু তোমাকে সেটা জানিয়ে দিলে তুমি তাদের সাথে এমনভাবে আপোষ করে নিতে পারতে, যার ফলে তাদের প্রাপ্য অংশ বিশেষ তোমাকে দিতে হতো। তেমনটি ঘটলে আল্লাহ আমার উপর নারাজ হতেন।
এজন্যই আমি তোমাকে মামলা আদালতে আনবার পরামর্শ দিয়েছিলাম। এখন তোমার খুশি হওয়া উচিত যে, তুমি অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পত্তি দখল করা থেকে রক্ষা পেলে।”
বর্ণিত আছে যে, বিচারপতি শুরাইহ যখন কোনো মামলার শুনানী গ্রহণ করতেন, তখন সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদেরকে সাক্ষ্য দেওয়ার ভয়াবহ পরিণাম স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং বলতেন, “তোমাদের সাক্ষ্যের ওপরই এই মামলার রায় নির্ভরশীল।
এখনো সময় আছে, তোমরা ইচ্ছা করলে সাক্ষ্য না দিয়েও চলে যেতে পারো।”
এরপরও যখন সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে চাইতো, তিনি সাক্ষ্য নিতেন এবং রায় দেয়ার সময় বিজয়ী পক্ষকে হুশিয়ার করে দিতেন যে, “শুধুমাত্র সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আমি এই রায় দিলাম।
আল্লাহ যা হারাম করেছেন, এই রায়ের দ্বারা তা হালাল হবে না।”
সম্ভবতঃ এসব দুর্লভ গুণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই হাজার হাজার জ্ঞানীগুণী সাহাবী বেঁচে থাকা সত্ত্বেও হযরত ওমরের আমল থেকে শুরু করে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের শাসনামল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ বছরব্যাপী কাযী শুরাইহ মুসলিম জাহানের প্রধান বিচারপতির পদে বহাল ছিলেন।
আসামী জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে গেলে শুরাইহ আসামীর বিনিময়ে ছেলেকে জেলে আটকান। যতদিন আসামীকে খুঁজে পাওয়া যায় নি ততদিন সে জেলে আটক এবং কাযী সাহেব স্বয়ং বন্দী ছেলের জন্য জেলখানায় খাবার দিয়ে আসতেন।
কাযী শুরাইহের আর এক ছেলে একবার এক গোত্রের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত মোকদ্দমার সম্মুখীন হন। মোকদ্দমাটি শুরাইহের আদালতেই আসার কথা ছিল। তাই পিতার সাথে আগেভাগেই পরামর্শ করার জন্য ছেলেটি একদিন বললোঃ আব্বা, আপনি আমার মামলার বিবরণটি পুরোপুরি শুনে আমাকে বলুন আমার জেতার সম্ভাবনা আছে কি না। যদি থাকে তাহলে আমি মামলাটি রুজু করবো। নচেত বিরত থাকবো।
বিচারপতি শুরাইহ পুরো ঘটনা শুনে ছেলেকে মামলা রুজু করার পরামর্শ দিলেন।
যথাসময়ে মামলার শুনানি শুরু হলো। শুনানী শেষে শুরাইহ নিজের ছেলের বিরুদ্ধে রায় দিলেন।
রাত্রে বাসায় এসে ছেলে পিতার কাছে অনুযোগের সুরে বললোঃ “আব্বা, আপনি আমাকে এভাবে অপমান করলেন! আমি যদি আগেভাগে আপনার পরামর্শ না নিতাম, তা হলেও একটা সান্তনা ছিল। কিন্তু…..।”
কাযী শুরাইহ বললেনঃ “হে বৎস! তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সবার কাছ হতে প্রিয়; কিন্তু তোমার কাছ হতেও আল্লাহ আমার কাছে অনেক বেশী প্রিয়। আমি জানতাম, তোমার বিপক্ষের দাবীই সঠিক ও ন্যায়সংগত।
কিন্তু তোমাকে সেটা জানিয়ে দিলে তুমি তাদের সাথে এমনভাবে আপোষ করে নিতে পারতে, যার ফলে তাদের প্রাপ্য অংশ বিশেষ তোমাকে দিতে হতো। তেমনটি ঘটলে আল্লাহ আমার উপর নারাজ হতেন।
এজন্যই আমি তোমাকে মামলা আদালতে আনবার পরামর্শ দিয়েছিলাম। এখন তোমার খুশি হওয়া উচিত যে, তুমি অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পত্তি দখল করা থেকে রক্ষা পেলে।”
বর্ণিত আছে যে, বিচারপতি শুরাইহ যখন কোনো মামলার শুনানী গ্রহণ করতেন, তখন সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদেরকে সাক্ষ্য দেওয়ার ভয়াবহ পরিণাম স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং বলতেন, “তোমাদের সাক্ষ্যের ওপরই এই মামলার রায় নির্ভরশীল।
এখনো সময় আছে, তোমরা ইচ্ছা করলে সাক্ষ্য না দিয়েও চলে যেতে পারো।”
এরপরও যখন সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে চাইতো, তিনি সাক্ষ্য নিতেন এবং রায় দেয়ার সময় বিজয়ী পক্ষকে হুশিয়ার করে দিতেন যে, “শুধুমাত্র সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আমি এই রায় দিলাম।
আল্লাহ যা হারাম করেছেন, এই রায়ের দ্বারা তা হালাল হবে না।”
সম্ভবতঃ এসব দুর্লভ গুণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই হাজার হাজার জ্ঞানীগুণী সাহাবী বেঁচে থাকা সত্ত্বেও হযরত ওমরের আমল থেকে শুরু করে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের শাসনামল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ বছরব্যাপী কাযী শুরাইহ মুসলিম জাহানের প্রধান বিচারপতির পদে বহাল ছিলেন।
✦আরও পড়ুন

খিলাফতের ইতিহাস
কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ
আব্বাসীয় খলীফা মামূনুর রশীদের দরবারে মাঝে মাঝে শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হত। এতে তৎকালীন বিভিন্ন বিষয়ে বিদগ্ধ পন্ডিতগণ…

খিলাফতের ইতিহাস
গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!
ওসমানীয় খেলাফত চলছে তখন, ১৮৪৫ সাল। খলিফা আব্দুল মাজিদ ইস্তাম্বুলের মসনদে। এসময়ে এসেও ইউরোপের অবস্থা খুব একটা সুবিধার ছিলনা, বিভিন্ন আর্থিক-সামাজিক…

খিলাফতের ইতিহাস
হযরত ওমরের চুমু!
হযরত ওমরের শাসন চলছে। শুরু হয়েছে রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যুদ্ধে বন্দি হয়েছেন অনেক মুসলিম সৈনিক। সঙ্গে বন্দি একজন সাহাবিও। রাসূল (সাঃ) - এর…