মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
খিলাফতের ইতিহাস

হযরত ওমরের (রাঃ) শাসনে প্রজাদের সম অধিকার

৩ মিনিটে পড়ুন১৩ জুন ২০২০
হযরত ওমরের (রাঃ) শাসনে প্রজাদের সম অধিকার
মিশর বিজয়ী সেনাপতি আমর ইবনুল আস (রাঃ) তখন মিশরের গভর্নর। তাঁর শাসনে মিশরের জনগণ বেশ শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু তাঁর একটা বেয়াড়া ছেলে তাঁর ন্যায়পরায়নতার সুনাম প্রায় নষ্ট করতে উদ্যত হয়েছিল।

সে যখনই পথে বেরুত, সবাইকে নিজের চালচলন দ্বারা বুঝিয়ে দিত যে, সে কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং গভর্নরের ছেলে।

একদিন সে জনৈক মিশরীয় এক খৃস্টান লোককে প্রহার করলো।

দরিদ্র লোকটি মিশরীয় গভর্নরের কাছে তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পেল না। কারণ সে আশঙ্কা করছিল গভর্নর আমর ইবনুল আস (রাঃ) তার সন্তানের পক্ষ নেবে। তাই নীরবে হজম করলো।

কয়েকদিন পর তার জনৈক প্রতিবেশি মদীনা হতে ফিরে এসে জানালো যে, খলিফা ওমর (রাঃ) অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ শাসক। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করেন এবং কেউ কারো ওপর যুলুম করেছে জানলে কঠোর শাস্তি দেন।

এ কথা শুনে ঐ মিশরীয় খৃস্টান লোকটি একটি উটের পিঠে চড়ে দীর্ঘ সতেরো দিন চলার পর মদীনায় খলিফার কাছে পৌছলো এবং মিশরেরে গভর্নরের ছেলের বিপক্ষে মোকদ্দমা দায়ের করলো।

খৃষ্টান লোকটি বললোঃ মিশরে আমাদের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতা ছিল। সেখানে আমার এবং ‘মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনুল আস’ মিশরের গভর্নরের ছেলের ঘোড়াও যোগ দেয়। আমার ঘোড়া যে জয়ী হয়েছিল সেটা সবাই দেখেছে। কিন্তু মুহাম্মাদ ইবনে আমর আমার সাথে ঝগড়া শুরু করে। তারপর সে তাঁর চাবুক দিয়ে আমাকে প্রহার করে। সে বলেঃ “একে আমার সামনে থেকে নিয়ে যাও।”

আমি আপনার কাছে এসেছি সুবিচারের আশায়। সে গভর্নরের সন্তান। আর আমার আশঙ্কা হয় সে তাঁর সন্তানের পক্ষ নিবে।

হযরত ওমর তৎক্ষণাত হযরত আমর ইবনুল আস এবং তার ছেলেকে মদীনায় ডেকে আনলেন। অতঃপর বিচার বসলো।

সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা হযরত আমর ইবনুল আসের (রাঃ) ছেলে দোষী প্রমাণিত হলো।

খলিফা ওমর (রাঃ) অভিযোগকারীকে বললেন, সে তোমাকে যেভাবে যে কয়বার প্রহার করেছে তুমিও সেই কয়বার তদ্রুপ প্রহার কর। লোকটি যথাযথভাবে প্রতিশোধ নিল।

তারপর খলিফা ওমর (রাঃ) লোকটিকে বললেন, এখন এটা গভর্নর আমরের মাথায় মার। আল্লাহর কসম, তার পিতার ক্ষমতার কারণে সে তোমাকে মেরেছে। কিন্তু লোকটি বলল, আমিরুল মু’মেনীন আমি আমার অধিকার বুঝে পেয়েছি। সে আমাকে মেরেছে, আমিও তাকে মেরেছি। আমি এর বেশি কিছু চাইনা।

ওমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, তুমি যদি তাকে মারো, যতক্ষণ না তুমি থামো আমরা তোমাকে থামতে বলবোনা।

অতঃপর ওমর (রাঃ) আমর ইবনুল আসকে (রাঃ) উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমর! তুমি কিভাবে মানুষকে দাস বানাও যখন তাদের মা তাদেরকে স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে। প্রজারা শাসকের দাস নয়। শাসকরা প্রজাদের সেবক। প্রজারা ঠিক তেমনি স্বাধীন যেমন তাদের মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হবার সময় স্বাধীন ছিল।”

বিচার শেষে আমর ইবনুল আস (রাঃ) একাকী ওমরকে (রাঃ) বলেন, আমিরুল মু’মেনীন আপনি আমার সাথে কঠিন আচরণ করছেন। আপনি কি আশঙ্কা করেন না যে, লোকেরা তাদের গভর্নরকে কম গুরত্ব দিতে পারে?

ওমর (রাঃ) বলেনঃ সেটা যদি সত্যের সমর্থনে হয় তাহলে আমরা তো এটাই চাই।

আমর! শাসকের সম্মান মানুষকে আতঙ্কে রাখার মাধ্যমে আসে না। তাদেরকে নিরাপদ এবং সম্মানিত করা, অবিচার দূর করা আর দূর্বলদের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আসে। এভাবেই শক্তিবানরা নিবৃত হয় আর গরীবরা নিরাপদ বোধ করে। এভাবেই লোকেরা অনুভব করবে রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তার জন্যই কাজ করছে, তাদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে না। ফলে তারা সমর্থন করবে তাদের শক্তিশালী এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে যাতে তারা নিরাপত্তা লাভ করবে। নতুবা, শাসক এবং শাসিত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

সম্পাদনাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ
খিলাফতের ইতিহাস

কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ

আব্বাসীয় খলীফা মামূনুর রশীদের দরবারে মাঝে মাঝে শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হত। এতে তৎকালীন বিভিন্ন বিষয়ে বিদগ্ধ পন্ডিতগণ…

গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!
খিলাফতের ইতিহাস

গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!

ওসমানীয় খেলাফত চলছে তখন, ১৮৪৫ সাল। খলিফা আব্দুল মাজিদ ইস্তাম্বুলের মসনদে। এসময়ে এসেও ইউরোপের অবস্থা খুব একটা সুবিধার ছিলনা, বিভিন্ন আর্থিক-সামাজিক…

হযরত ওমরের চুমু!
খিলাফতের ইতিহাস

হযরত ওমরের চুমু!

হযরত ওমরের শাসন চলছে। শুরু হয়েছে রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যুদ্ধে বন্দি হয়েছেন অনেক মুসলিম সৈনিক। সঙ্গে বন্দি একজন সাহাবিও। রাসূল (সাঃ) - এর…