মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
খিলাফতের ইতিহাস

মসজিদে জেরারের (ক্ষতিকর মসজিদ) ঘটনা

৩ মিনিটে পড়ুন১৩ জুন ২০২০
মসজিদে জেরারের (ক্ষতিকর মসজিদ) ঘটনা
মদীনায় আবু আমের নামক এক খৃস্টান পাদ্রী বাস করতো।

তার ছেলে ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী হযরত হানযালা (রাঃ)। শহীদ হওয়ার পর ফেরেশতারা তাঁকে গোসল দিয়েছিলেন।

কিন্তু তাঁর পিতা খৃস্টধর্মের উপর অবিচল ছিল।

রাসূল(সাঃ) হিজরত করে মদীনায় যাওয়ার পর আবু আমের তাঁর সাথে সাক্ষাত করে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তি ও সন্দেহ উত্থাপন করে। রাসূল (সাঃ) তার সকল আপত্তির জবাব দেন। কিন্তু তবু সে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

সে বললোঃ আমাদের দু’জনের মধ্যে যে মিথ্যুক সে যেন অভিশপ্ত ও আত্মীয় স্বজন হতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

সে রাসূল (সাঃ) কে একথাও জানিয়ে দিল যে, সে রাসূল (সাঃ) এর শত্রুদেরকে সবসময় সাহায্য করতে থাকবে। নিজের এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে বদর হতে হুনাইন পর্যন্ত সকল যুদ্ধে মুসলমানদের শত্রুদের পক্ষ অবলম্বন করে।

হুনায়নের যুদ্ধে যখন হাওয়াযেনের মত বিশালাকার গোত্র মুসলমানদের কাছে হেরে গেল, তখন সে ভগ্ন হৃদয়ে তৎকালীন খৃস্টধর্মের ঘাঁটি সিরিয়ায় চলে যায় এবং আত্মীয় স্বজন হতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সেখানেই মৃত্যুবরণ করে।

এভাবে তার নিজের বদদোয়া ও অভিশাপ দ্বারা সে নিজেই ঘায়েল হয়।

জীবদ্দশায় পাদ্রী আবু আমের আজীবন ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুতা করে। এমনকি সে রোম সম্রাটকে মদীনায় আক্রমণ চালিয়ে মুসলমানদের নাম নিশানা মুছে ফেলার প্ররোচনাও দিয়েছিল।

মদীনার মুসলমানদের মধ্যে যারা বর্ণচোরা, ভন্ড ও মোনাফেক ছিল, সর্বকালের ও সর্বদেশের মোনাফেকদের মতই তারাও ইহুদী ও খৃস্টানদের ক্রীড়নক ছিল। বিশেষতঃ আবু আমেরের তারা খুবই ভক্ত ও অনুগত ছিল।

আবু আমের এই মোনাফেকদের কাছে চিঠি লিখলো যে, আমি রোম সম্রাটকে মদীনা আক্রমণ করার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু সম্রাটের বাহিনীকে সহযোগিতা করে এমন একটি দল মদীনাতেও সংগঠিত হওয়া জরুরী।

এ জন্য তোমরা মদীনায় মসজিদের নাম দিয়ে একটি গৃহ নির্মাণ কর, যেন মদীনার মুসলমানদের মধ্যে কোন সন্দেহ সৃষ্টি না হয়।

সেই গৃহে নিজেরাও সমবেত হও, কিছু অস্ত্র শস্ত্র ও সাজ সরঞ্জাম তাতে সংগ্রহ করে রাখ।

তার এ চিঠির ভিত্তিতে বারোজন মোনাফেক মদীনার কোবা মহল্লায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলো। এই মহল্লায় রাসূল (সাঃ) হিজরত করে এসে প্রথম অবস্থান করেছিলেন এবং একটি মসজিদ তৈরি করেছিলেন।

অতঃপর তারা স্থির করলো যে, ঐ মসজিদে রাসূল (সাঃ) দ্বারা এক ওয়াক্ত নামায পড়াবে। এতে মুসলমানদের মনে আর কোন সন্দেহ থাকবে না। তারা বুঝবে এটাও অন্যান্য মসজিদের মতই একটা মসজিদ।

তাদের একটি প্রতিনিধি দল রাসূল (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে বুঝালো যে, কোবার বর্তমান মসজিদটি অনেক দূরে অবস্থিত। দুর্বল ও অসুস্থ লোকেরা এতদূর যেতে পারে না। তাছাড়া ওখানে সব লোকের সংকুলনাও হয় না।

তাই আমরা আর একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি এতে এক ওয়াক্ত নামায পড়ে উদ্বোধন করে দিয়ে যান।

রাসূল (সাঃ) তখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ওয়াদা করলেন যে, যুদ্ধ হতে ফিরে এসে তিনি ওখানে নামায পড়াবেন। কিন্তু তাবুক হতে ফেরার পথে সূরা তাওবার সংশ্লিষ্ট আয়াত কয়টি নাযিল করে আল্লাহ তাতে নামায পড়াতে নিষেধ করলেন এবং তাকে ‘মসজিদে যেরার’ (ক্ষতিকর মসজিদ) নামে আখ্যায়িত করলেন।

রাসূল (সাঃ) এই নির্দেশ অনুসারে নামায তো পড়লেনইনা, অধিকন্তু কতিপয় সাহাবীকে পাঠিয়ে দিয়ে মসজিদটি আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিলেন।

সূরা তাওবার সংশ্লিষ্ট আয়াতে এই মসজিদটিকে তিনটি কারণে মসজিদে যেরার বলা হয়েছেঃ

এক. তা দ্বারা ইসলামের ক্ষতি সাধন ও কুফরী প্রতিষ্ঠার সংকল্প করা হয়েছিল।

দুই. তা দ্বারা মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিন. সেখানে ইসলামের শত্রুদেরকে আশ্রয় দেয়ার ফন্দি আটা হয়েছিল।

উল্লেখিত তিনটি উদ্দেশ্যে যখন যেখানেই কোন গৃহ নির্মাণ, কোন দল বা প্রতিষ্ঠান গঠন কিংবা আর কোন ধরনের স্থাপনার কাজ করা হবে, তখন তা মসজিদে যেরারেরই পর্যায়ভুক্ত হবে এবং মুসলমানদের দায়িত্ব হবে তা প্রথম সুযোগেই ধ্বংস করা, চাই তা মসজিদ হোক বা অন্য কোন আকারেই গঠিত হোক।

এ কারণে হযরত ওমর (রাঃ) এক মসজিদের পার্শ্বে আর একটি মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করেন।

অনুরূপভাবে কোন প্রতিষ্ঠিত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় নিয়োজিত দল বা সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান গঠন করা বৈধ হবে না।

শিক্ষাঃ
(১) মুসলমান নাম ধারণ করেও ইসলামের চিহ্নিত শত্রুদের আনুগত্য করা সুস্পষ্ট মোনাফেকীর লক্ষণ।

(২) অজ্ঞতা বা ভুলবশত কোন অন্যায় কাজের ওয়াদা করলে সেই ওয়াদা ভংগ করা শুধু জায়েয নয় বরং ওয়াজিব।

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ
খিলাফতের ইতিহাস

কুরআনের সংরক্ষণ ও একজন ইহুদী পন্ডিতের ইসলাম গ্রহণ

আব্বাসীয় খলীফা মামূনুর রশীদের দরবারে মাঝে মাঝে শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হত। এতে তৎকালীন বিভিন্ন বিষয়ে বিদগ্ধ পন্ডিতগণ…

গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!
খিলাফতের ইতিহাস

গর্ব করার মত এক ইতিহাস!!

ওসমানীয় খেলাফত চলছে তখন, ১৮৪৫ সাল। খলিফা আব্দুল মাজিদ ইস্তাম্বুলের মসনদে। এসময়ে এসেও ইউরোপের অবস্থা খুব একটা সুবিধার ছিলনা, বিভিন্ন আর্থিক-সামাজিক…

হযরত ওমরের চুমু!
খিলাফতের ইতিহাস

হযরত ওমরের চুমু!

হযরত ওমরের শাসন চলছে। শুরু হয়েছে রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যুদ্ধে বন্দি হয়েছেন অনেক মুসলিম সৈনিক। সঙ্গে বন্দি একজন সাহাবিও। রাসূল (সাঃ) - এর…