আল-কুর’আনঃ ১৪০০ বছর পর...এটা কি অচল?
৮ মিনিটে পড়ুন১৩ জুন ২০২০

আল-কুর’আনঃ ১৪০০ বছর পর...এটা কি অচল?
অপরিমেয় প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সমৃদ্ধ আজকের এই সমাজে অনেক চিন্তাশীল ব্যক্তি রয়েছেন যারা দাবী করেন যে, ধর্মীয় বাণীসমূহ বিশেষভাবে আল-কুর’আন বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে। তারা যুক্তি দেয় কুর’আন কেবলমাত্র তৎকালীন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই প্রযোজ্য ছিল, অর্থাৎ মধযুগীয় আরব সমাজে। তারা প্রমাণ করতে চায় প্রাচীনকালে সমাজসমূহ ছিল আদিম এবং জটিলতাবিহীন। তারা আরও বলতে চায় যে, বর্তমান আধুনিক জীবনধারায়, জটিল সমাজ ব্যবস্থায় এবং বৈশ্বিক রীতি-নীতিতে এটি উপযুক্ত নয়।
সুতরাং, মহাকাশ বিজ্ঞানের এই যুগে কুর’আন কি আদৌ উপযোগী?
মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, আল-কুর’আন আল্লাহ্’র বাণী। তারা আরও বিশ্বাস করে আল-কুর’আন সম্পূর্ণ, অর্থাৎ এটি জীবন সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে এবং আজও এর বিশুদ্ধতা অক্ষুন্ন রয়েছে। অর্থাৎ, নাযিল হওয়ার পর থেকে কোন মানুষ কর্তৃক কুর’আনে কোন কিছু সংযোজন করা হয়নি কিংবা এটা হতে কোন কিছু বাদ দেয়া হয়নি। যাহোক, দৃঢ় বিশ্বাস অর্জনের জন্য ঐশ্বরিক বাণী অবশ্যই পরীক্ষিত ও প্রমাণিত হতে হবে। আর ঐশ্বরিক বাণীসমূহের বৈধতা প্রমাণের জন্য কেবলমাত্র আবেগপূর্ণ অন্ধ বিতর্ক নয় বরং যৌক্তিক প্রমাণের উপস্থিতি থাকা আবশ্যক।
প্রমাণঃ
কুর’আন মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিল করা হয়েছিল। কুর’আন নাযিলের সময়ে পৌত্তলিক আরবগণ কাব্য রচনায় অত্যন্ত পারঙ্গম ছিল এবং তারা এটাকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করতো। কবিতা লেখার জন্য তারা মরুভূমিতে দিনের পর দিন কাটাতে অভ্যস্ত ছিল। আরবী ভাষার প্রাঞ্জলতা এবং প্রকাশভঙ্গীর গভীরতা অতুলনীয়, তাই আরবদের কাছে এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়বস্তু ছিল।
সুতরাং, কুর’আনের রচয়িতা কে হতে পারে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, কুর‘আন কেবলমাত্র নিম্নোক্ত কোন একজন কর্তৃক রচিত হতে পারেঃ
১. অনারব
২. আরব
৩. মুহাম্মদ (সাঃ)
৪. সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ্
শুরুতেই এটা অনুধাবন করা প্রয়োজন যে, কুর‘আন আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছিল। যেহেতু, কুর‘আনে অত্যন্ত উচ্চস্তরের আরবী ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভাষাগত উৎকর্ষতা ও পরম দক্ষতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ, সেহেতু, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, কোন অনারবের পক্ষে কুর‘আন রচনা করা সম্ভব নয়। এটা সর্বজনবিদিত যে, কুর’আন রচনার ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাবির নামক ১৬ বছর বয়সী এক তরুণকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এধরনের অভিযোগের জবাবে বলেনঃ
“আমি তো ভালভাবেই জানি যে, তারা বলেঃ তাকে জনৈক ব্যক্তি শিক্ষা দেয়। যার দিকে তারা ইঙ্গিত করে তার ভাষাতো আরবী নয়, অথচ, এ কুর’আন পরিষ্কার আরবী ভাষায়।”
[সূরা আল-নাহলঃ ১০৩]
একজন অনারব কুর’আন রচনা করেছে - এই হাস্যকর তত্ত্ব ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ার পর, কেউ আবার যুক্তি দিতে পারে যে, কুর’আন আরবরা রচনা করেছে। কিন্তু, কুর’আন শ্রবণের পর ওয়ালিদ ইবনে আল-মুগীরা নামক এক অবিশ্বাসী কবি বলেছিলঃ “কবিতা, সুললিত বন্দনা এবং সুরেলা সঙ্গীত রচনায় তোমরা কেউই আমার সমকক্ষ নও, এবং খোদার কসম, সে যা বলে আমি তা কখনও শুনিনি। কুর’আন এতটাই সুমধুর ও মাধুর্যমন্ডিত যে, এর অবস্থান এমন এক চূড়ায় যা কোন কিছুর পক্ষেই অতিক্রম করা সম্ভব নয়।”
কুর’আনের ঐশ্বরিক সত্যতায় যাদের অবিশ্বাস ছিল, তাদের প্রতি অনুরূপ কিছু রচনা করে নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়েছিলঃ
“তারা কি বলে? কুর’আন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ্ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।”
[সূরা হুদঃ ১৩]
যখন আরবরা এধরনের কোন কিছু আনতে ব্যর্থ হয়েছিল তখন আবারও তাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলা হয়েছিলঃ
“এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও - এক আল্লাহ্’কে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।”
[সূরা আল-বাকারাহ্ঃ ২৩]
“মানুষ কি বলে যে, এটি বানিয়ে এনেছ? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো একটিই সূরা, আর ডেকে নাও, যাদেরকে নিতে সক্ষম হও আল্লাহ্ ব্যতিত, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।”
[সূরা ইউনুসঃ ৩৮]
তাই তারা কুর’আন-এর মতো একইরকম কোন কিছু রচনা করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা তাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এবং এখনও পর্যন্ত মুসলিম কিংবা অমুসলিম, আরব কিংবা অনারব সকলের জন্যই এই চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। পরিষ্কারভাবেই এটি কোন আরবের রচনা নয়, অনারবতো দূরে থাক।
কুর’আনের এই চ্যালেঞ্জ তুলনাহীন, কারণ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুর’আনের সত্যতা খন্ডন করার জন্য মানুষকে তার নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করার তাগিদ দিয়েছেন। এটি খুবই গভীর, অথচ সরল একটি চ্যালেঞ্জ। ইসলামের সমগ্র ইতিহাস কল্পনা করে দেখুন, আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন যে, ইসলামের সমস্ত ভিত্তি ধ্বংস করার জন্য এর শত্রুদের কেবলমাত্র এই একটি চ্যালেঞ্জকে পরাজিত করাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন অমুসলিম আরব কিংবা অনারব কেউই এটা করতে সমর্থ হয়নি, যদিও আরবী ভাষার সকল উপাদান তাদের নখদর্পণে রয়েছে।
এটাও যুক্তিগ্রাহ্য নয় যে, কুর’আন মুহাম্মাদ (সাঃ) রচনা করেছেন, কারণ তিনিও আরবদেরই একজন। এছাড়াও, তাঁর প্রতিভা যে স্তরেরই হোক না কেন, তিনি একজন মানুষ, এবং তিনি তাঁর গোত্র ও জাতিরই একজন। যেহেতু, আরবরা কুর’আনের মতো কোন কিছু রচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেহেতু এটি সমভাবে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর জন্যও প্রযোজ্য। তিনি (সাঃ) নিজেও অনুরূপ কিছু রচনা করতে ব্যর্থ অতএব কুর’আন তাঁর (সাঃ) কাছ থেকে আসেনি। এটাও অনুধাবন করা জরুরী যে, মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে অবজ্ঞাকারী তৎকালীন আরবদের কেউই কখনো দাবী করেনি কুর’আন মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর বক্তব্য, কিংবা তাঁর বক্তব্যের মতো একইরকম কোন কিছু, অথচ এই আরবরা আরবী ভাষা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং দক্ষ ছিল। উপরন্তু, দালিলিক প্রমাণ রয়েছে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) ছিলেন নিরক্ষর, অর্থাৎ তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না, বস্তুত তাঁর নিরক্ষরতাই একটি প্রমাণ।
এছাড়াও, মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর বক্তব্য (হাদীস) কুর’আনের ভাষাশৈলী হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমনকি যখন মুহাম্মাদ (সাঃ) একইসাথে নাযিলকৃত কুর’আনের আয়াত উচ্চারণ করতেন এবং নিজস্ব ভাষাশৈলীতে কথা বলতেন, তখনও এদু’য়ের মধ্যকার পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বোঝা যেত। কিভাবে একজন মানুষ একটানা ২৩ বছর ভিন্ন ভিন্ন ভাষাশৈলীতে কথা বলা চালিয়ে যেতে পারে? তবে আশ্চর্যজনকভাবে মানুষেরা তাঁর (সাঃ) নিজের বক্তব্যের ভাষাশৈলী অনুকরণ করতে পারতো, কিন্তু তারা কখনই কুর’আনের ভাষাশৈলী অনুকরণ করতে সক্ষম হয়নি!
সত্যঃ
আমরা প্রমাণ করেছি যে, কুর’আন কোন অনারব, আরব কিংবা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর পক্ষ থেকে আসেনি। অতএব, আমাদের জন্য কেবলমাত্র একটি উৎসই অবশিষ্ট রইল, সেটি হচ্ছে আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা। তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) বলেনঃ
“এরা কি লক্ষ্য করে না কুর’আনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কারও পক্ষ থেকে নাযিল হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।”
[সূরা আন-নিসাঃ ৮২]
আজ পর্যন্ত মুসলিম এবং অমুসলিম পন্ডিতগণ কুর’আনে কোন অসঙ্গতি বা ভুল খুঁজে বের করতে সক্ষম হননি। বিশেষত, যদি কেউ বর্তমানে প্রকাশিত কুর’আনের কোনো অনুলিপির সাথে সর্বপ্রথম প্রকাশিত অনুলিপিসমূহের কোন একটির সাথে অক্ষরে-অক্ষরে তুলনা করে তবে দেখতে পাবে যে, একটি অক্ষরও বাদ হয়নি কিংবা নতুন কোন অক্ষরও যুক্ত হয়নি। ইসলামের প্রথম শতাব্দীতে লিপিবদ্ধ কুর’আনের কপিসমূহ আজও ইস্তাম্বুল ও তাসখন্দে সংরক্ষিত রয়েছে।
অতএব, এটা যুক্তিযুক্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, কুর’আন কোন মানুষ কর্তৃক রচিত হয়নি এবং সত্যই কুর’আন হচ্ছে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র বাণী।
অতএব, কুর’আন নাযিলের উদ্দেশ ̈ কি?
বর্তমান সমাজে কুর’আন নাযিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেক ধরনের মতামত প্রচলিত রয়েছে। কিছু মুসলিম বলে যে, এটা হচ্ছে “শান্তির কিতাব”, যাতে কেবলমাত্র আধ্যাত্মিকতা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সন্নিবেশিত রয়েছে, যেমনঃ নামায, রোযা ও যাকাত, এবং যদি কেউ এসব ব্যক্তিগত ইবাদতসমূহ পালন করে তবে সে তার ব্যক্তিগত জীবনে আনন্দ এবং প্রশান্তি লাভ করবে। কিছু মুসলিম এটাও বলে যে, এটি হচ্ছে “বিজ্ঞানময় কিতাব”, যাতে অনেক ধরনের বৈজ্ঞানিক বিষ্ময় বিদ্যমান, যেমনঃ ভ্রুণতত্ত্ব এবং জ্যোতির্বিদ্যা। তারা যুক্তি প্রদান করে যে, কুর’আন জীবনের প্রারম্ভিক অবস্থা সম্পর্কে গভীরে প্রবেশ করে, এবং ভ্রুণের বেড়ে উঠার পর্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করে, যদিওবা ১৪০০ বছর পূর্বে অণুবীক্ষণ যন্ত্র কিংবা আল্ট্রাসাউন্ড আবিষ্কৃত হয়নি।
যদিওবা এসব মতামতসমূহ ভূল নয়, তথাপি এগুলো অসম্পূর্ণ, এবং এগুলো কুর’আনের প্রতি খুবই সংকীর্ণ ও আংশিক দৃষ্টিভঙ্গী বহন করে। কুর’আনের আয়াতসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাই, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুর’আনকে মানুষের সমস্যাসমূহের সামগ্রিক সমাধান হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেনঃ
“... এবং আমি আপনার প্রতি এমন গ্রন্থ নাযিল করেছি যাতে রয়েছে প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্যে সুসংবাদ।
[সূরা আল-নাহলঃ ৮৯]
প্রকৃতপক্ষে, কুর’আনে আধ্যাত্মিকতা ও ব্যক্তিগত ইবাদত থেকে শুরু করে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়সহ মানুষের জীবনের সকল দিক সম্পর্কে বক্তব্য রয়েছে।
অতএব, বর্তমান সমাজে আমরা যেসব সমস্যা্র মোকাবিলা করি সেগুলোর কার্যকর সমাধান প্রদানে ইসলাম সক্ষম। ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যাসমূহের সমাধান দিতে পারে, যেগুলো মূলত আধুনিক ভোগবাদী দর্শনের সমাজব্যবস্থার ফলাফল, যেমনঃ হতাশা, মাদকের ভয়াল থাবা, ভঙ্গুর পরিবারিক ব্যবস্থা এবং জটিল প্রাক-বৈবাহিক ও ধ্বংসাত্মক বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কসমূহ, এগুলোর পাশাপাশি আরও রয়েছে ব্যাপক নারী নির্যাতন ও হিংস্র অপরাধসমূহ। ইসলাম পুঁজিবাদ থেকে উদ্ভুত অর্থনৈতিক সমস্যসমূহের সমাধান দিতে সক্ষম, যেমনঃ সম্পদের চরম বৈষম্য, বিশ্বায়ন, বেকারত্ব এবং দুর্নীতি। এছাড়াও এটা চলমান তীব্র বৈশ্বিক সমস্যাসমূহেরও সমাধান দিতে পারে, যেমনঃ সহিংস সংঘর্ষ, যুদ্ধ, শরণার্থী সংকট এবং অভিবাসন সমস্যা।
অতএব, কুর’আন হচ্ছে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থার ভিত্তি, যা কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিষয়াদির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই কেবল কুর’আন তেলাওয়াত করা, কিংবা এটাকে একটি পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা আমাদের একমাত্র দায়িত্ব নয়। বরং, আল-কুর’আনকে গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্যকে মানুষের নিকট উপস্থাপন করা আমাদের সবার উপর অর্পিত দায়িত্ব। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
“অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয়েছে এবং মুশরিকদের পরোয়া করবেন না।”
[সূরা আল-হিজরঃ ৯৪]
অপরিমেয় প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সমৃদ্ধ আজকের এই সমাজে অনেক চিন্তাশীল ব্যক্তি রয়েছেন যারা দাবী করেন যে, ধর্মীয় বাণীসমূহ বিশেষভাবে আল-কুর’আন বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে। তারা যুক্তি দেয় কুর’আন কেবলমাত্র তৎকালীন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই প্রযোজ্য ছিল, অর্থাৎ মধযুগীয় আরব সমাজে। তারা প্রমাণ করতে চায় প্রাচীনকালে সমাজসমূহ ছিল আদিম এবং জটিলতাবিহীন। তারা আরও বলতে চায় যে, বর্তমান আধুনিক জীবনধারায়, জটিল সমাজ ব্যবস্থায় এবং বৈশ্বিক রীতি-নীতিতে এটি উপযুক্ত নয়।
সুতরাং, মহাকাশ বিজ্ঞানের এই যুগে কুর’আন কি আদৌ উপযোগী?
মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, আল-কুর’আন আল্লাহ্’র বাণী। তারা আরও বিশ্বাস করে আল-কুর’আন সম্পূর্ণ, অর্থাৎ এটি জীবন সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে এবং আজও এর বিশুদ্ধতা অক্ষুন্ন রয়েছে। অর্থাৎ, নাযিল হওয়ার পর থেকে কোন মানুষ কর্তৃক কুর’আনে কোন কিছু সংযোজন করা হয়নি কিংবা এটা হতে কোন কিছু বাদ দেয়া হয়নি। যাহোক, দৃঢ় বিশ্বাস অর্জনের জন্য ঐশ্বরিক বাণী অবশ্যই পরীক্ষিত ও প্রমাণিত হতে হবে। আর ঐশ্বরিক বাণীসমূহের বৈধতা প্রমাণের জন্য কেবলমাত্র আবেগপূর্ণ অন্ধ বিতর্ক নয় বরং যৌক্তিক প্রমাণের উপস্থিতি থাকা আবশ্যক।
প্রমাণঃ
কুর’আন মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর নাযিল করা হয়েছিল। কুর’আন নাযিলের সময়ে পৌত্তলিক আরবগণ কাব্য রচনায় অত্যন্ত পারঙ্গম ছিল এবং তারা এটাকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করতো। কবিতা লেখার জন্য তারা মরুভূমিতে দিনের পর দিন কাটাতে অভ্যস্ত ছিল। আরবী ভাষার প্রাঞ্জলতা এবং প্রকাশভঙ্গীর গভীরতা অতুলনীয়, তাই আরবদের কাছে এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়বস্তু ছিল।
সুতরাং, কুর’আনের রচয়িতা কে হতে পারে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, কুর‘আন কেবলমাত্র নিম্নোক্ত কোন একজন কর্তৃক রচিত হতে পারেঃ
১. অনারব
২. আরব
৩. মুহাম্মদ (সাঃ)
৪. সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ্
শুরুতেই এটা অনুধাবন করা প্রয়োজন যে, কুর‘আন আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছিল। যেহেতু, কুর‘আনে অত্যন্ত উচ্চস্তরের আরবী ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভাষাগত উৎকর্ষতা ও পরম দক্ষতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ, সেহেতু, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, কোন অনারবের পক্ষে কুর‘আন রচনা করা সম্ভব নয়। এটা সর্বজনবিদিত যে, কুর’আন রচনার ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাবির নামক ১৬ বছর বয়সী এক তরুণকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এধরনের অভিযোগের জবাবে বলেনঃ
“আমি তো ভালভাবেই জানি যে, তারা বলেঃ তাকে জনৈক ব্যক্তি শিক্ষা দেয়। যার দিকে তারা ইঙ্গিত করে তার ভাষাতো আরবী নয়, অথচ, এ কুর’আন পরিষ্কার আরবী ভাষায়।”
[সূরা আল-নাহলঃ ১০৩]
একজন অনারব কুর’আন রচনা করেছে - এই হাস্যকর তত্ত্ব ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ার পর, কেউ আবার যুক্তি দিতে পারে যে, কুর’আন আরবরা রচনা করেছে। কিন্তু, কুর’আন শ্রবণের পর ওয়ালিদ ইবনে আল-মুগীরা নামক এক অবিশ্বাসী কবি বলেছিলঃ “কবিতা, সুললিত বন্দনা এবং সুরেলা সঙ্গীত রচনায় তোমরা কেউই আমার সমকক্ষ নও, এবং খোদার কসম, সে যা বলে আমি তা কখনও শুনিনি। কুর’আন এতটাই সুমধুর ও মাধুর্যমন্ডিত যে, এর অবস্থান এমন এক চূড়ায় যা কোন কিছুর পক্ষেই অতিক্রম করা সম্ভব নয়।”
কুর’আনের ঐশ্বরিক সত্যতায় যাদের অবিশ্বাস ছিল, তাদের প্রতি অনুরূপ কিছু রচনা করে নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়েছিলঃ
“তারা কি বলে? কুর’আন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ্ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।”
[সূরা হুদঃ ১৩]
যখন আরবরা এধরনের কোন কিছু আনতে ব্যর্থ হয়েছিল তখন আবারও তাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলা হয়েছিলঃ
“এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও - এক আল্লাহ্’কে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।”
[সূরা আল-বাকারাহ্ঃ ২৩]
“মানুষ কি বলে যে, এটি বানিয়ে এনেছ? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো একটিই সূরা, আর ডেকে নাও, যাদেরকে নিতে সক্ষম হও আল্লাহ্ ব্যতিত, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।”
[সূরা ইউনুসঃ ৩৮]
তাই তারা কুর’আন-এর মতো একইরকম কোন কিছু রচনা করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা তাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এবং এখনও পর্যন্ত মুসলিম কিংবা অমুসলিম, আরব কিংবা অনারব সকলের জন্যই এই চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। পরিষ্কারভাবেই এটি কোন আরবের রচনা নয়, অনারবতো দূরে থাক।
কুর’আনের এই চ্যালেঞ্জ তুলনাহীন, কারণ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুর’আনের সত্যতা খন্ডন করার জন্য মানুষকে তার নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করার তাগিদ দিয়েছেন। এটি খুবই গভীর, অথচ সরল একটি চ্যালেঞ্জ। ইসলামের সমগ্র ইতিহাস কল্পনা করে দেখুন, আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন যে, ইসলামের সমস্ত ভিত্তি ধ্বংস করার জন্য এর শত্রুদের কেবলমাত্র এই একটি চ্যালেঞ্জকে পরাজিত করাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন অমুসলিম আরব কিংবা অনারব কেউই এটা করতে সমর্থ হয়নি, যদিও আরবী ভাষার সকল উপাদান তাদের নখদর্পণে রয়েছে।
এটাও যুক্তিগ্রাহ্য নয় যে, কুর’আন মুহাম্মাদ (সাঃ) রচনা করেছেন, কারণ তিনিও আরবদেরই একজন। এছাড়াও, তাঁর প্রতিভা যে স্তরেরই হোক না কেন, তিনি একজন মানুষ, এবং তিনি তাঁর গোত্র ও জাতিরই একজন। যেহেতু, আরবরা কুর’আনের মতো কোন কিছু রচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেহেতু এটি সমভাবে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর জন্যও প্রযোজ্য। তিনি (সাঃ) নিজেও অনুরূপ কিছু রচনা করতে ব্যর্থ অতএব কুর’আন তাঁর (সাঃ) কাছ থেকে আসেনি। এটাও অনুধাবন করা জরুরী যে, মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে অবজ্ঞাকারী তৎকালীন আরবদের কেউই কখনো দাবী করেনি কুর’আন মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর বক্তব্য, কিংবা তাঁর বক্তব্যের মতো একইরকম কোন কিছু, অথচ এই আরবরা আরবী ভাষা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং দক্ষ ছিল। উপরন্তু, দালিলিক প্রমাণ রয়েছে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) ছিলেন নিরক্ষর, অর্থাৎ তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না, বস্তুত তাঁর নিরক্ষরতাই একটি প্রমাণ।
এছাড়াও, মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর বক্তব্য (হাদীস) কুর’আনের ভাষাশৈলী হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমনকি যখন মুহাম্মাদ (সাঃ) একইসাথে নাযিলকৃত কুর’আনের আয়াত উচ্চারণ করতেন এবং নিজস্ব ভাষাশৈলীতে কথা বলতেন, তখনও এদু’য়ের মধ্যকার পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বোঝা যেত। কিভাবে একজন মানুষ একটানা ২৩ বছর ভিন্ন ভিন্ন ভাষাশৈলীতে কথা বলা চালিয়ে যেতে পারে? তবে আশ্চর্যজনকভাবে মানুষেরা তাঁর (সাঃ) নিজের বক্তব্যের ভাষাশৈলী অনুকরণ করতে পারতো, কিন্তু তারা কখনই কুর’আনের ভাষাশৈলী অনুকরণ করতে সক্ষম হয়নি!
সত্যঃ
আমরা প্রমাণ করেছি যে, কুর’আন কোন অনারব, আরব কিংবা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর পক্ষ থেকে আসেনি। অতএব, আমাদের জন্য কেবলমাত্র একটি উৎসই অবশিষ্ট রইল, সেটি হচ্ছে আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা। তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) বলেনঃ
“এরা কি লক্ষ্য করে না কুর’আনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কারও পক্ষ থেকে নাযিল হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।”
[সূরা আন-নিসাঃ ৮২]
আজ পর্যন্ত মুসলিম এবং অমুসলিম পন্ডিতগণ কুর’আনে কোন অসঙ্গতি বা ভুল খুঁজে বের করতে সক্ষম হননি। বিশেষত, যদি কেউ বর্তমানে প্রকাশিত কুর’আনের কোনো অনুলিপির সাথে সর্বপ্রথম প্রকাশিত অনুলিপিসমূহের কোন একটির সাথে অক্ষরে-অক্ষরে তুলনা করে তবে দেখতে পাবে যে, একটি অক্ষরও বাদ হয়নি কিংবা নতুন কোন অক্ষরও যুক্ত হয়নি। ইসলামের প্রথম শতাব্দীতে লিপিবদ্ধ কুর’আনের কপিসমূহ আজও ইস্তাম্বুল ও তাসখন্দে সংরক্ষিত রয়েছে।
অতএব, এটা যুক্তিযুক্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, কুর’আন কোন মানুষ কর্তৃক রচিত হয়নি এবং সত্যই কুর’আন হচ্ছে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র বাণী।
অতএব, কুর’আন নাযিলের উদ্দেশ ̈ কি?
বর্তমান সমাজে কুর’আন নাযিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেক ধরনের মতামত প্রচলিত রয়েছে। কিছু মুসলিম বলে যে, এটা হচ্ছে “শান্তির কিতাব”, যাতে কেবলমাত্র আধ্যাত্মিকতা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সন্নিবেশিত রয়েছে, যেমনঃ নামায, রোযা ও যাকাত, এবং যদি কেউ এসব ব্যক্তিগত ইবাদতসমূহ পালন করে তবে সে তার ব্যক্তিগত জীবনে আনন্দ এবং প্রশান্তি লাভ করবে। কিছু মুসলিম এটাও বলে যে, এটি হচ্ছে “বিজ্ঞানময় কিতাব”, যাতে অনেক ধরনের বৈজ্ঞানিক বিষ্ময় বিদ্যমান, যেমনঃ ভ্রুণতত্ত্ব এবং জ্যোতির্বিদ্যা। তারা যুক্তি প্রদান করে যে, কুর’আন জীবনের প্রারম্ভিক অবস্থা সম্পর্কে গভীরে প্রবেশ করে, এবং ভ্রুণের বেড়ে উঠার পর্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করে, যদিওবা ১৪০০ বছর পূর্বে অণুবীক্ষণ যন্ত্র কিংবা আল্ট্রাসাউন্ড আবিষ্কৃত হয়নি।
যদিওবা এসব মতামতসমূহ ভূল নয়, তথাপি এগুলো অসম্পূর্ণ, এবং এগুলো কুর’আনের প্রতি খুবই সংকীর্ণ ও আংশিক দৃষ্টিভঙ্গী বহন করে। কুর’আনের আয়াতসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাই, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুর’আনকে মানুষের সমস্যাসমূহের সামগ্রিক সমাধান হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেনঃ
“... এবং আমি আপনার প্রতি এমন গ্রন্থ নাযিল করেছি যাতে রয়েছে প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্যে সুসংবাদ।
[সূরা আল-নাহলঃ ৮৯]
প্রকৃতপক্ষে, কুর’আনে আধ্যাত্মিকতা ও ব্যক্তিগত ইবাদত থেকে শুরু করে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়সহ মানুষের জীবনের সকল দিক সম্পর্কে বক্তব্য রয়েছে।
অতএব, বর্তমান সমাজে আমরা যেসব সমস্যা্র মোকাবিলা করি সেগুলোর কার্যকর সমাধান প্রদানে ইসলাম সক্ষম। ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যাসমূহের সমাধান দিতে পারে, যেগুলো মূলত আধুনিক ভোগবাদী দর্শনের সমাজব্যবস্থার ফলাফল, যেমনঃ হতাশা, মাদকের ভয়াল থাবা, ভঙ্গুর পরিবারিক ব্যবস্থা এবং জটিল প্রাক-বৈবাহিক ও ধ্বংসাত্মক বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কসমূহ, এগুলোর পাশাপাশি আরও রয়েছে ব্যাপক নারী নির্যাতন ও হিংস্র অপরাধসমূহ। ইসলাম পুঁজিবাদ থেকে উদ্ভুত অর্থনৈতিক সমস্যসমূহের সমাধান দিতে সক্ষম, যেমনঃ সম্পদের চরম বৈষম্য, বিশ্বায়ন, বেকারত্ব এবং দুর্নীতি। এছাড়াও এটা চলমান তীব্র বৈশ্বিক সমস্যাসমূহেরও সমাধান দিতে পারে, যেমনঃ সহিংস সংঘর্ষ, যুদ্ধ, শরণার্থী সংকট এবং অভিবাসন সমস্যা।
অতএব, কুর’আন হচ্ছে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থার ভিত্তি, যা কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিষয়াদির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই কেবল কুর’আন তেলাওয়াত করা, কিংবা এটাকে একটি পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা আমাদের একমাত্র দায়িত্ব নয়। বরং, আল-কুর’আনকে গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্যকে মানুষের নিকট উপস্থাপন করা আমাদের সবার উপর অর্পিত দায়িত্ব। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
“অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয়েছে এবং মুশরিকদের পরোয়া করবেন না।”
[সূরা আল-হিজরঃ ৯৪]
✦আরও পড়ুন
✦ প্রবন্ধ ✦শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
প্রবন্ধ
শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…
✦ প্রবন্ধ ✦ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
প্রবন্ধ
ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…
✦ প্রবন্ধ ✦মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
প্রবন্ধ
মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…