মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
প্রবন্ধ

ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম

২ মিনিটে পড়ুন ১ বার দেখা হয়েছে২৯ আগস্ট ২০২৪
১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চের "দ্রুত, ধীরগতির এবং যানজট: ধনী ও দরিদ্র দেশগুলিতে শহুরে পরিবহন" শিরোনামের এই গবেষণা। (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ৩০/০৯/২০২৩)

পুঁজিবাদী সরকার গত কয়েক দশক ধরে মেগা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই ধরনের প্রকল্পের উন্নয়ন ব্যয় এবং বাস্তবায়ন বৃদ্ধির সাথে সাথে ঢাকার যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বসবাসযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮ সালে ঢাকায় মোটর গাড়ির গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার যেখানে ২০২০ সালে তা ঘণ্টায় ৪.৫ কিলোমিটারে পৌঁছেছে – যা হাঁটার গতির চেয়ে ও কম! আর এখন ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ জরিপ বলছে যে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধীর শহর! অথচ যানজট নিরসনে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন টাকা খরচ করা হয়েছে। সম্প্রতি টাকা নগরীতে প্রথম মেট্রোরেল চালু করা হয়েছে যা বানাতে খরচ হয়েছে ৩৩০ বিলিয়ন টাকা। ৯০ বিলিয়ন টাকা দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে চালু করা হয়েছে। এর আগে ৮টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে।

পুঁজিবাদী উন্নয়ন মানবকেন্দ্রিক নয়, বরং মুনাফাকেন্দ্রিক। এর উন্নয়নের প্রেরণা জনগণের সমস্যা সমাধান নয়, বরং শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের ক্রোনি পুঁজিপতিদের স্বার্থ পূরণ করা। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাদী সরকার নিজেদের জন্য জনগণের অর্থ লুটপাট করতে এবং তাদের দেশি-বিদেশি মিত্রদের খুশি করতে মরিয়া মেগা প্রকল্প গ্রহণ করছে। এই কারণেই এই প্রকল্পগুলির বেশিরভাগই বাংলাদেশের ট্রাফিক এবং বাসযোগ্যতার অবস্থার উন্নতি করেনি, বরং জীবনযাত্রা এবং পরিবহন খরচ অনেক বেশি বাড়িয়েছে। পুঁজিবাদী উন্নয়ন সরকারের বন্ধুদের মোটাতাজা করে কিন্তু জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়।

যেহেতু পুঁজিবাদ শাসন থেকে ধর্মকে পৃথক করার উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছে, তাই এটি শাসকদের থেকে জবাবদিহির (স্রষ্টার কাছে) উপর ভিত্তি করে অভিভাবকত্ব বন্ধ করে দেয়। এই মৌলিক ত্রুটির কারণে পুঁজিবাদী শাসকরা তাদের বন্ধুদের স্বার্থের রক্ষক হয়ে ওঠে। কিন্তু ইসলামে শাসন করা একটি কঠোর দায়িত্ব, শাসকরা কখনোই জবাবদিহিতার বাইরে যেতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

“তোমাদের প্রত্যেকেই একজন মেষপালক এবং তার পালের জন্য দায়ী। জনগণের নেতা (খলিফা) একজন অভিভাবক এবং তার প্রজাদের জন্য দায়ী”।

সুতরাং, আল্লাহর ভয় এবং জনগণের জবাবদিহিতা যে খিলাফত ব্যবস্থাকে সর্বোত্তম জনসেবামূলক শাসক ব্যবস্থায় পরিণত করে, ইতিহাস তার সাক্ষী। এই ধরনের জবাবদিহিতা এতটাই বাস্তব যে খলিফাহ উমর (রা.) বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি কেবল তার লোকদের জন্যই নয়, তার রাজত্বের অধীনে বসবাসকারী পশুদের জন্যও দায়ী। তার একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল,

"রাস্তা সমতল না হওয়ার কারণে যদি একটি খচ্চর বা একটি গাধা ও পড়ে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন কেন তিনি এই পশুদের জন্য রাস্তা মেরামত করেননি।"

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
প্রবন্ধ

শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ

ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…

প্রবন্ধ

মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা

হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…

প্রবন্ধ

কি আজকে রকেট প্রযুক্তিতে দ্রুত, বিশ্ব-নেতৃস্থানীয় অগ্রগতি করতে ইসলামী উম্মাহকে বাধা দিচ্ছে?

বিভিন্ন খবরে দেখলাম, ২৩ আগস্ট ২০২৩, ভারত চাঁদে একটি রকেট সফলভাবে পাঠিয়েছে। কি আজকে রকেট প্রযুক্তিতে দ্রুত, বিশ্ব-নেতৃস্থানীয় অগ্রগতি করতে ইসলামী…