মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
প্রবন্ধ

গীবত! এক ভয়ংকর গুণাহের নাম!

৩ মিনিটে পড়ুন১৩ জুন ২০২০
বর্তমান সমাজে সবচেয়ে প্রচলিত এক জঘন্যতম গুনাহের নাম! গীবত ছাড়া এখন আমাদের আড্ডা ই জমে না; আড্ডার টপিক খুঁজে বের করা যায় না। হাঁটতে চলতে ফিরতে উঠতে বসতে গীবতের ছড়াছড়ি। দুইজন মানুষ একসাথ হওয়ার দেরি তো অন্যের গীবত করতে দেরি হয় না! আবার আমাদের তো চা দোকান নামক সংসদ আছে! যেখানে অসংখ্য অগণিত গীবতের ছড়াছড়ি! আবার বাড়ির মা-বোনেরা তো আছেই! একে অন্যের পিছনে কথা না বললে যেন তাদের ভাত ই হজম হয় না!

রাসূল (সঃ) এর এক সাহাবী ছিলেন; নাম তার মাইজ (রঃ)। তিনি যেনা করলেন! এটা একমাত্র ওনি আর যার সাথে যেনা করলেন তিনি ছাড়া আর কেউই জানতেন না! স্বয়ং রাসূল (সঃ) ও জানতেন নাহ!

যেনা করার পর মাইজ (রঃ) যেন হুঁশ ফিরে এলো। অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে চটপট করতে লাগলেন! নিজেকে স্থীর রাখতে পারছিলেন না। খাওয়া ঘুম সবই যেন বিরক্তির মনে হচ্ছে। নিজেকে কোনো ভাবেই মানাতে পারছেন নাহ! পাপের পাশ্চিত্য করার জন্য চটপট করতে লাগলেন!

এমতাবস্থায় তিনি রাসূল (সঃ) এর নিকট গেলেন। আর বললেন, ইয়া রাসূল (সঃ) আমি তো যেনা করে ফেলেছি! রাসূল (সঃ) মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
মাইজ (রঃ) ভাবলেন রাসূল (সঃ) শুনতে পাননি, তাই তিনি আবার বললেন ইয়া রাসূল (সঃ) আমি যেনা কেরে ফেলেছি! রাসূল (সঃ) আবারও মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
মাইজ (রঃ) ভাবলেন এবারও রাসূল (সঃ) শুনতে পাননি, তাই তিনি আবার বলতে লাগলেন ইয়া রাসূল (সঃ) আমি যেনা করে ফেলেছি! রাসূল (সঃ) আবারও মুখ ফিরিয়ে নিলেন!
চতুর্থ বারের মতো মাইজ (রঃ) বলতে লাগলেন, ইয়া রাসূল (সঃ) আপনি কি শুনতে পাননি? আমি তো যেনা করে ফেলেছি! এবারও রাসূল (সঃ) মুখ ফিরিয়ে নিলেন!
পঞ্চম বারে রাসূল (সঃ) মাইজ (রঃ) এর দিকে ফিরে বলতে লাগলেন, ইয়া মাইজ; তুমি কি জানো যেনা কি? মাইজ (রঃ) বললেন, হ্যা জানি ইয়া রাসূল (সঃ)।
রাসূল (সঃ) ভাবলেন মাইজ (রঃ) হয়তো কোনো বেগানা নারীর হাত বা শরীর স্পর্শ করছেন; তাই রাসূল (সঃ) আবার বলতে লাগলেন ইয়া মাইজ দোয়াত যেমন তার কালির মধ্যে চুবানো হয় তুমি তেমনই যেনা করেছো? মাইজ (রঃ) বলতে লাগলেন, হ্যা ইয়া রাসূল (সঃ) আমি এমনই যেনা করেছি! আপনি আমাকে শাস্তি দেন! এমতাবস্থায় রাসূল (সঃ) বাকী সাহাবিদের ডেকে এনে মাইজ (রঃ) কে যেনার শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন!

তখন বাকী সাহাবিরা মাইজ (রঃ) কে বুক পরিমাণ মাটিতে গেঁথে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে তার পাপের শাস্তি দিলেন! এমতাবস্থায় ২ জন সাহাবী বলাবলি করতে লাগলেন, মাইজ কিভাবে পারলো (রাসূল সঃ) এর সাহাবী হয়েও জেনা করতে? তার তো এটা করা উচিত হয় নি! এমন আরও অনেক কথা বলাবলি করছিল।

তাদের শেষ কথা রাসূল (সঃ) শুনে ফেললেন আর চুপ করে কিছুদূর এগিয়ে যেতে ই দেখলেন একটা মরা গাধা পড়ে আছে! রাসূল (সঃ) উক্ত দুই সাহাবী কে ডেকে বললেন, তোমরা এই মৃত গাধার মাংস খাও! তারা উভয়ে বলতে লাগলো, এটা কেমন কথা ইয়া রাসূল আল্লাহ (সঃ)? এটা তো জঘন্যতম হারাম! তখন রাসূল পাক (সঃ) তাদের বলতে লাগলেন, তোমরা যে মাইজ (রঃ) এর নামে সমালোচনা করতেছো অর্থাৎ গীবত করতেছো! এটা তার থেকেও বেশী জঘন্যতম হারাম কাজ! রাসূল (সঃ) আরো বললেন, আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি মাইজ এর তওবা আল্লাহ এমন ভাবে কবুল করেছেন যে ; এই তওবা কে ৭০ ভাগ করলে ৭০ জনের তওবাও আল্লাহ কবুল করে নিতেন এবং মাইজ কে আল্লাহ জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকামে স্হান দিয়েছেন।

হাশরের ময়দানে একদল মানুষ নিজেদের মুখের এবং বুকের মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে! এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে রাসূল (সঃ) জিবরাঈল আলাইহিসসালাম কে জিঙ্গেস করবে, হে জিবরাঈল এরা কারা? তখন জিবরাঈল আলাইহিসসালাম বলবেন, ইয়া রাসূল (সঃ) এরা আপনার ঐ সকল উম্মত যারা দুনিয়াতে অন্যের সমালোচনা করতো, গীবত করতো!

এছাড়াও হাদিসে এসেছে, "গীবত কারীরা দুনিয়ায় নামাজ রোযা হজ্ব যাকাত দান-সদকা সবই করবে কিন্তু হাশরের ময়দানে তাদের আমলনামা থাকবে শূন্য"!

আবার হাদিসে এসেছে, "আপনি যার নামে গীবত করেন,করছেন কিংবা করবেন! হাশরের ময়দানে ঐ ব্যক্তি আপনার নেক-আমল গুলো টেনে নিয়ে নিবে"!

ভাবুন তো গীবতের শাস্তি কতটা ভয়াবহ! তাই আসুন গীবত নামক জঘন্যতম এই পাপ থেকে মুক্ত থাকতে আমরা স্বচেষ্ট হই; আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার এবং মানার তৌফিক দান করুক

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
প্রবন্ধ

শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ

ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…

প্রবন্ধ

ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম

১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…

প্রবন্ধ

মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা

হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…