মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
প্রবন্ধ

মৃত্যুকে স্মরণ করা

৪ মিনিটে পড়ুন২২ জুন ২০২০
দুনিয়ার জীবনের কর্মকাণ্ডই হবে আখিরাতের জীবনের সুখ-শান্তির মানদণ্ড। তাই দুনিয়াতে থাকতেই শাস্তি বা মুক্তির যে কোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুনিয়াতে উত্তম আমল করতে না পারলে পরকালে শেষ বিচারের দিন ভোগান্তি, অশান্তি, দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকবে না।

'প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে,যতক্ষন না তোমরা কবরে উপনিত হও- এ ঠিক নয়,তোমরা শীঘ্রই তা জানতে পারবে ।।'' (সূরা তাকাসুর -- ১-৩)

হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) মানুষের পা একবিন্দু নড়তে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার কাছে এই পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা না হবে।
১. নিজের জীবনকাল সে কোন কাজে অতিবাহিত করেছে?
২. যৌবনের শক্তি সামর্থ্য কোথায় ব্যয় করেছে?
৩. ধন-সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে? ৪. কোথায় তা ব্যয় করেছে? এবং
৫. সে (দীনের) যতটুকু জ্ঞানার্জন করেছে সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে? (তিরমিযি)


দুনিয়ার অন্যায় অপরাধ থেকে মুক্ত থেকে পরকালের শান্তির আবাস তৈরিতে মৃত্যু স্মরণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সুরা আল ইমরানের ১৮৫ আয়াতে বলেন, 'কুল্লু নাফসিন যাইকাতুল মাউত।

“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমরা নিজ নিজ কাজের প্রতিফল সম্পূর্ণভাবেই কিয়ামাতের দিন পাবে….” [সূরা আলে ইমরান-১৮৫]

“অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরান্বিত করতে পারবে না।” [সূরা নাহল-৬১]

মৃত্যু যখন অবশ্যই আসবে, মৃত্যুর স্মরণ তাই জরুরি। মৃত্যুর চেয়ে বড় সত্যি আর কিছু কী আছে এই পৃথিবীতে? জীবনের মোহে পড়ে আমরা বেশিরভাগ সময়েই মৃত্যুর মতো অবধারিত সত্য ভুলে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ি। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর অসংখ্য হাদিস রয়েছে। যা থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো-

হজরত ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা:) কে জিজ্ঞাসা করা হলো- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! সবচাইতে বুদ্ধিমান লোক কে ? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি অধিকহারে মৃত্যুকে স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত থাকে। (ইবনে মাজাহ)

হজরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, সংকটময় মুহূর্তে বান্দা যখন মৃত্যুকে স্মরণ করে, তখন এ স্মরণ তার সংকটময়তাকে দূর করে দেয় আর সুখের কালে মৃত্যুকে স্মরণ করে তখন এ স্মরণ তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্যকে দূরে ঠেলে দেয়।

হজরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- হে মানব সম্প্রদায়! সুখ-শান্তি বিনাশকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি করে স্মরণ করো। (তিরমিজি -২৩০৭, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

এক আনসার রাসূলুল্লাহ (সা:) এর কাছে আসে। সে নবীকে (সা.) সালাম করে বলে, হে আল্লাহর রাসুল, সর্বাপেক্ষা উত্তম ইমানদার কে? তিনি বলেছেন, তাদের মধ্যে যাদের চরিত্র উত্তম। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করে, সর্বাপেক্ষা পারদর্শী ইমানদার কে? তিনি বললেন, যারা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করে এবং মৃত্যু-পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য উত্তমরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, এরাই সর্বোত্তম দূরদর্শী (ইবনে মাজাহ-৪২৬০)

উপদেশের জন্য মৃত্যু এবং ধনাঢ্যতার জন্য বিশ্বাসই যথেষ্ট (তাবরানি)

ইবনে উমার (রা:) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) আমার কাঁধ ধরে বললেন: “দুনিয়াতে এভাবে কাটাও যেন তুমি একজন মুসাফির বা পথিক।” [বুখারি ৬৪১৬]

ইবনে মাসঊদ (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা:) একটি বর্গক্ষেত্র আঁকলেন, তার মাঝ বরাবর কয়েকটি সরল রেখা টানলেন যা বর্গক্ষেত্র ভেদ করে বাইরে চলে গেছে। তিনি মধ্যবর্তী এ রেখাটির সাথে যুক্ত আরো কতগুলো ছোট ছোট সরল রেখা (আড়াআড়ি ভাবে) টানলেন, তারপর বলেন: “এটা হল মানুষ এবং এটা তার মৃত্যু যা তাকে বেষ্টন করে আছে। (বর্গক্ষেত্র ভেদ করে) বাইরে বেরিয়ে যাওয়া রেখাটুকু হচ্ছে তার আশা-আকাঙ্ক্ষা। ছোট ছোট রেখাগুলো হল তার জীবনের বিপদাপদ। একটি বিপদ থেকে ছুটতে পারলে অপর বিপদ এসে তাকে বিচলিত করে।। আবার দ্বিতীয়টি থেকে রেহাই পেলে তৃতীয়টি তাকে নিষ্পেষিত করে।” (বুখারী)

আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন: “সাতটি জিনিস প্রকাশ পাওয়ার পূর্বেই তোমরা নেক কাজের দিকে সত্ত্বর অগ্রসর হও।(১) তোমরা কি অপেক্ষা করছো এমন দরিদ্র্যের যা অমনোযোগী (অক্ষম) করে দেয়, (২) অথবা এমন প্রাচুর্যের যা ধর্মদ্রোহী বানায়, (৩) অথবা এরূপ রোগ-ব্যাধির যা (দৈহিক সামর্থ্যকে) তছনছ করে দেয়, (৪) অথবা এমন বৃদ্ধাবস্থার যা জ্ঞান-বুদ্ধিকে লোপ করে দেয়, (৫) অথবা এমন মৃত্যুর যা অলক্ষ্যেই উপস্থিত হয়, (৬) কিংবা দাজ্জালের, যা অপেক্ষামাণ নিকৃষ্ট অনুপস্থিত বস্তু, (৭) অথবা কিয়ামাতের যা অত্যন্ত বিভীষিকাময় ও তিক্ত। (তিরমিযী)

আল্লাহ (সুব.) বলেন, হে নবী, আপনি বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করতে চাও, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের কাছে পৌঁছবে। অতঃপর তোমরা অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। আর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন তোমাদের সেসব কর্ম, যা তোমরা দুনিয়াতে করতে (সুরা জুমা-৮)

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। [সূরা মুনাফিকুন:৯-১১]

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন মানবজাতিকে খালি, উলঙ্গ ও খত্নাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমতাবস্থায় তো নারী-পুরুষ পরস্পরের দিকে তাকাবে! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা! সে দিনের অবস্থা এত ভয়াবহ হবে যে, (নারী-পুরুষ) একে অপরের দিকে তাকানোর কোনো চিন্তাই করবে না। (বুখারি মুসলিম ও মিশকাত)


✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
প্রবন্ধ

শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ

ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…

প্রবন্ধ

ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম

১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…

প্রবন্ধ

মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা

হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…