সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করা অন্যতম ফরয দ্বায়িত্ব
৬ মিনিটে পড়ুন৯ জুলাই ২০২০
সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করা অন্যতম ফরয দ্বায়িত্ব
বর্তমান সমাজের যে অবস্থা তাকে কোনোভাবে সুস্থ অবস্থা বলা চলে না। প্রতিদিনের পত্রিকায় যে পরিমাণ গুম, খুন, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, কেলেঙ্কারী, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দুর্নীতি, প্রতারণা , ছিনতাই ইত্যাদির খবর প্রকাশিত হয় তা আমাদের সমাজের মারাত্মক অধঃপতনের চিত্র তুলে ধরে। আমরা এমন একটি সমাজে বাস করছি যেখানে মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নাই। সমাজে খুন, গুম, হত্যা, ছিনতাই হচ্ছে। সমাজে মানুষের অর্থনৈতিক কোন নিরাপত্তা নাই। সমাজে সুদ, ঘুষ, দূর্নীতি হচ্ছে। সমাজে ব্যাকার যুবকের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের ৪০% মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে, যারা ঠিকমত দু-মুঠ খেতে পারে না। দিনের পর দিন ঘর-বাড়ীহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে যাদেরকে ফুটপাত থাকতে হয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে টাকা উপার্জন করে তা দিয়ে ভাল খাবার কিনে খেতে পারে না কারন খাবারের মধ্যে থাকে ফরমালিন। পড়াশুনা করে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখে প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।
আমরা যদি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর পবিত্র সীরাতের দিকে তাকাই তাহলে দেখব তিনি এমন একটি সমাজে এসেছিলেন যা ছিলো পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছনড়ব, সব ধরণের অন্যায়, অত্যাচার, অনাচারে পরিপূর্ণ। ঐ সমাজের লোকেরা মিথ্যা ইলাহদের পূজা করতো, ওজনে কম দিতো, এতিম ও দাসদের অধিকার বঞ্চিত করতো, কথায় কথায় যুদ্ধ আর হানা-হানিতে মেতে উঠতো ইত্যাদি। এমনি এক পরিস্থিতিতে রাসূলুলাহ্ (সাঃ) তাঁর সাহাবীদের সাথে নিয়ে ঐ সমাজকে পরিবর্তনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সমাজের এসব অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে সমাজকে ইসলামের দিকে জোরালোভাবে আহ্বান করেন। তিনি কেবল ব্যক্তিদেরকে সংশোধনে ব্যস্ত থাকেননি বরং পুরো সমাজ দেহটাকেই সুস্থ করার লক্ষ্যে সমাজের সব প্রচলিত মিথ্যা ধ্যান ধারণা ও আনাচারের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন। আজকের বর্তমান সমাজ আর ততকালীন মক্কার কুফর সমাজের মধ্য কোন তফাৎ নেই ।
কারণ আমাদের বর্তমান সমস্যার মূল বা প্রকৃত কারণ হচ্ছে মানব রচিত কুফর জীবন ব্যবস্থা-যেখানে টাকা, ব্যক্তি স্বার্থ হচ্ছে মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। এই ধরণের জীবন ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই এমন সমাজের জন্ম দেয় যেখানে অপরাধ ও দুর্নীতি হয় ব্যাপক ও নিয়ন্ত্রনহীন ।
সমাজের প্রতি ফরয দায়িত্বকে অবহেলা করে শুধু মাত্র ব্যক্তিগতভাবে নামাজ রোজা করে আমরা মুক্তির আশা করতে পারি না। রাসুল (সাঃ) এর উপর যদি আমাদের ভালবাসা থেকে থাকে,আর তাঁর আদর্শ যদি আমরা অনুসরণ করে থাকি তাহলে এই জাহেল সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব ।
“তোমরাই (হচ্ছো দুনিয়ার) সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির (কল্যাণের) জন্যই তোমাদের তুলে আনা হয়েছে, (তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে) তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে, আর তোমরা নিজেরাও আল্লাহের উপর (পুরোপুরি) ঈমান আনবে...”। [আল-ই-ইমরানের আয়াত: ১১০]
“আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম”। [আল-ই-ইমরানের ১০৪]
“আল্লাহ এক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্য জিবরাইল(আঃ)-কে পাঠালেন। জিবরাইল(আঃ) জিজ্ঞেস করলো, সেখানে একজন ধার্মিক মানুষ আছে যে আপনার স্মরণে প্রত্যেক মুহুর্ত ব্যয় করে, তাকে ও কি ধ্বংস করতে হবে? আল্লাহ বললেন, তাকেও ধ্বংস করে দাও, কারণ সে তাদের সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করত না।” [মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী]
“এক শহরের অধিবাসীদের উপর আল্লাহ শাস্তি প্রদান করেন । তাদের মধ্যে আবার হাজার লোক এমন ছিলো যাদের আমল নবীদের আমলের সমতুল্য । জিজ্ঞেস করা হলো, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! কেন তবে তাদের উপর শাস্তি এসেছিল ?' রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন , "এই কারনে যে, (বাকীদের পাপকাজ করতে দেখেও) তারা আল্লাহ'র উদ্দেশ্যে বাকীদের উপর ক্ষুব্ধ হতো না এবং তাদেরকে (পাপকাজ থেকে) বারন করতো না।" (আবু দাউদ) )
“তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি অন্যায় কাজ হতে দেখলে সে যেন তার হাত দ্বারা তা প্রতিহত করে। তার এই সামর্থ্য না থাকলে সে যেন তার মুখ দ্বারা তা প্রতিহত করে। তার এই সামর্থ্যও না থাকলে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিহত করে (ঘৃণার মাধ্যমে), আর এটা হলো দূর্বলতম ঈমান।” [মুসলিম, তিরমিযী]
"যারা আল্লাহ্র হুকুম মেনে চলে তাদের সাথে থেকে যারা সেগুলো (আল্লাহ্'র হুকুম)-কে নিজেদের প্রবৃত্তির খেয়ালে লঙ্ঘন করে, (এরা উভয়ই) যেন তাদের মত যারা একই জাহাজে আরোহণ করে। তাদের একাংশ জাহাজের উপরের অংশে তাদের জায়গা করে নিয়েছে এবং অন্যরা এর নীচের অংশে নিজেদের জায়গা করে নেয়। যখন নিচের লোকদের পিপাসা নিবৃত্ত করার প্রয়োজন হয় তখন তাদেরকে জাহাজের উপরের অংশের লোকদের অতিক্রম করে যেতে হয়। (তাই) তারা (নিচের অংশের লোকেরা) নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে নিল, 'আমরা যদি জাহাজের নীচের দিকে একটা ফুটো করে নিই তাহলে জাহাজের উপরের অংশের লোকদের কোন সমস্যা করব না।' এখন যদি উপরের অংশের অধিকারীরা নিচের ডেক-এর লোকদেরকে এ কাজ করতে দেয় তবে নিশ্চিতভাবেই তারা সবাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অবশ্য তারা (উপরের অংশের লোক) যদি তাদের (নীচের লোকদের)কে এ কাজ থেকে বিরত রাখে, (তবে) তারা (উপরের অংশের লোক) রক্ষা পাবে এবং এভাবে (জাহাজের) সবাই রক্ষা পাবে। " [বুখারী ]
তাই কেউ ব্যক্তিগত ইবাদত ঠিকমতো চালিয়ে গেলো আর সমাজে যেসব অব্যবস্থাপনা চলছে সে ব্যাপারে কিছু করলো না বা বলল না তখন সেটা কোন ইসলামী চিন্তা বলে গ্রহণযোগ্য হবে না । উপরোক্ত হাদীসদ্বয় থেকে এটা পরিষ্কারভাবে আনুধাবন হয়, যে সমাজে যখন জুলুম, অনাচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তখন ঐ সমাজে বসবাসরত মুসলমানদের জন্য ঐ সমাজের পরিবর্তন করার জন্য কাজ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। আর এ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে না আসলে সবাই একসাথে শাস্তিযোগ্য হবে।হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রাসূলুলাহ্ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি :
“মানুষ কোন অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখেও তার দুই হাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করলে অচিরেই আল্লাহ্ তা’আলা তাদের সকলকে (অর্থাৎ অত্যাচারী ও যারা অত্যাচার মেনে নেয় উভয়কে) তাঁর ব্যাপক আযাবে নিক্ষেপ করবেন।” [তিরমিযী]
“যখন কোন জাতি পাপাচারে লিপ্ত হয় এবং কেউই তাদের প্রতিরোধ করেনা তখন আল্লাহ্ গোটা জাতির উপর শাস্তি নাযিল করেন যা তাদের সকলকে ছেয়ে ফেলে।” [আবু দাউদ/৩৭৭৫]
“তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং লোকদের কল্যানময় কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ্ কোন আযাবের মাধ্যমে তোমাদের ধ্বংস করে দেবেন কিংবা তোমাদের মধ্য থেকে সর্বাধিক পাপাচারী, অন্যায়কারী ও জালিম লোকদের তোমাদের উপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দেবেন। এসময় তোমাদের মধ্যেকার নেককার লোকেরা মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও কান্নাকাটি করবে, কিন্তু তা কিছুতেই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ]
“এক ব্যাক্তি উঠে দাঁড়িয়ে মুহাম্মাদ রাসুল্ললাহ (সাঃ) এর কাছে যায় (যখন তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে ছিলেন) এবং জিজ্ঞাসা করেন, “ও রাসুলুল্লাহ, কারা সর্বোত্তম মানুষ?”; তিনি (সাঃ) উত্তর দিলেন, “তারাই হচ্ছে সর্বোত্তম মানুষ যারা কুরআন বেশী তিলাওয়াত করে, আল্লাহ্র ব্যাপারে সবচেয়ে সচেতন (বা হালাল/হারাম এর ব্যাপারে সতর্ক), সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করে এবং আত্মীয়স্বজনদের সাথে সম্পর্ক রাখে”। [মুসনাদে আহমাদ]
‘অত্যাচারী শাসকের নিকট হক কথা বলা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ।’’ (তিরমিযী ২১৭৪, আবূ দাউদ ৪৩৪৪)
তাই আসেন আমরা বর্তমান কুফর সমাজকে পরিবর্তন করে ইসলামী রাষ্ট্র তথা খিলাফত ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করি।
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছেন, তিনি অবশ্যি তাদের পৃথিবীতে খিলাফত (রাষ্ট্র ক্ষমতা) দান করবেন, যেমনিভাবে খিলাফত দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তী লোকদের । তিনি তাদের ভয়ভীতি ও আতংকের পরিবর্তে তাদের নিরাপত্তা প্রদান করবেন। (সুরা নূরঃ ৫৫)
বর্তমান সমাজের যে অবস্থা তাকে কোনোভাবে সুস্থ অবস্থা বলা চলে না। প্রতিদিনের পত্রিকায় যে পরিমাণ গুম, খুন, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, কেলেঙ্কারী, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দুর্নীতি, প্রতারণা , ছিনতাই ইত্যাদির খবর প্রকাশিত হয় তা আমাদের সমাজের মারাত্মক অধঃপতনের চিত্র তুলে ধরে। আমরা এমন একটি সমাজে বাস করছি যেখানে মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নাই। সমাজে খুন, গুম, হত্যা, ছিনতাই হচ্ছে। সমাজে মানুষের অর্থনৈতিক কোন নিরাপত্তা নাই। সমাজে সুদ, ঘুষ, দূর্নীতি হচ্ছে। সমাজে ব্যাকার যুবকের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের ৪০% মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে, যারা ঠিকমত দু-মুঠ খেতে পারে না। দিনের পর দিন ঘর-বাড়ীহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে যাদেরকে ফুটপাত থাকতে হয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে টাকা উপার্জন করে তা দিয়ে ভাল খাবার কিনে খেতে পারে না কারন খাবারের মধ্যে থাকে ফরমালিন। পড়াশুনা করে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখে প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।
আমরা যদি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর পবিত্র সীরাতের দিকে তাকাই তাহলে দেখব তিনি এমন একটি সমাজে এসেছিলেন যা ছিলো পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছনড়ব, সব ধরণের অন্যায়, অত্যাচার, অনাচারে পরিপূর্ণ। ঐ সমাজের লোকেরা মিথ্যা ইলাহদের পূজা করতো, ওজনে কম দিতো, এতিম ও দাসদের অধিকার বঞ্চিত করতো, কথায় কথায় যুদ্ধ আর হানা-হানিতে মেতে উঠতো ইত্যাদি। এমনি এক পরিস্থিতিতে রাসূলুলাহ্ (সাঃ) তাঁর সাহাবীদের সাথে নিয়ে ঐ সমাজকে পরিবর্তনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সমাজের এসব অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে সমাজকে ইসলামের দিকে জোরালোভাবে আহ্বান করেন। তিনি কেবল ব্যক্তিদেরকে সংশোধনে ব্যস্ত থাকেননি বরং পুরো সমাজ দেহটাকেই সুস্থ করার লক্ষ্যে সমাজের সব প্রচলিত মিথ্যা ধ্যান ধারণা ও আনাচারের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন। আজকের বর্তমান সমাজ আর ততকালীন মক্কার কুফর সমাজের মধ্য কোন তফাৎ নেই ।
কারণ আমাদের বর্তমান সমস্যার মূল বা প্রকৃত কারণ হচ্ছে মানব রচিত কুফর জীবন ব্যবস্থা-যেখানে টাকা, ব্যক্তি স্বার্থ হচ্ছে মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। এই ধরণের জীবন ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই এমন সমাজের জন্ম দেয় যেখানে অপরাধ ও দুর্নীতি হয় ব্যাপক ও নিয়ন্ত্রনহীন ।
সমাজের প্রতি ফরয দায়িত্বকে অবহেলা করে শুধু মাত্র ব্যক্তিগতভাবে নামাজ রোজা করে আমরা মুক্তির আশা করতে পারি না। রাসুল (সাঃ) এর উপর যদি আমাদের ভালবাসা থেকে থাকে,আর তাঁর আদর্শ যদি আমরা অনুসরণ করে থাকি তাহলে এই জাহেল সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব ।
“তোমরাই (হচ্ছো দুনিয়ার) সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির (কল্যাণের) জন্যই তোমাদের তুলে আনা হয়েছে, (তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে) তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে, আর তোমরা নিজেরাও আল্লাহের উপর (পুরোপুরি) ঈমান আনবে...”। [আল-ই-ইমরানের আয়াত: ১১০]
“আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম”। [আল-ই-ইমরানের ১০৪]
“আল্লাহ এক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্য জিবরাইল(আঃ)-কে পাঠালেন। জিবরাইল(আঃ) জিজ্ঞেস করলো, সেখানে একজন ধার্মিক মানুষ আছে যে আপনার স্মরণে প্রত্যেক মুহুর্ত ব্যয় করে, তাকে ও কি ধ্বংস করতে হবে? আল্লাহ বললেন, তাকেও ধ্বংস করে দাও, কারণ সে তাদের সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করত না।” [মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী]
“এক শহরের অধিবাসীদের উপর আল্লাহ শাস্তি প্রদান করেন । তাদের মধ্যে আবার হাজার লোক এমন ছিলো যাদের আমল নবীদের আমলের সমতুল্য । জিজ্ঞেস করা হলো, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! কেন তবে তাদের উপর শাস্তি এসেছিল ?' রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন , "এই কারনে যে, (বাকীদের পাপকাজ করতে দেখেও) তারা আল্লাহ'র উদ্দেশ্যে বাকীদের উপর ক্ষুব্ধ হতো না এবং তাদেরকে (পাপকাজ থেকে) বারন করতো না।" (আবু দাউদ) )
“তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি অন্যায় কাজ হতে দেখলে সে যেন তার হাত দ্বারা তা প্রতিহত করে। তার এই সামর্থ্য না থাকলে সে যেন তার মুখ দ্বারা তা প্রতিহত করে। তার এই সামর্থ্যও না থাকলে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিহত করে (ঘৃণার মাধ্যমে), আর এটা হলো দূর্বলতম ঈমান।” [মুসলিম, তিরমিযী]
"যারা আল্লাহ্র হুকুম মেনে চলে তাদের সাথে থেকে যারা সেগুলো (আল্লাহ্'র হুকুম)-কে নিজেদের প্রবৃত্তির খেয়ালে লঙ্ঘন করে, (এরা উভয়ই) যেন তাদের মত যারা একই জাহাজে আরোহণ করে। তাদের একাংশ জাহাজের উপরের অংশে তাদের জায়গা করে নিয়েছে এবং অন্যরা এর নীচের অংশে নিজেদের জায়গা করে নেয়। যখন নিচের লোকদের পিপাসা নিবৃত্ত করার প্রয়োজন হয় তখন তাদেরকে জাহাজের উপরের অংশের লোকদের অতিক্রম করে যেতে হয়। (তাই) তারা (নিচের অংশের লোকেরা) নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে নিল, 'আমরা যদি জাহাজের নীচের দিকে একটা ফুটো করে নিই তাহলে জাহাজের উপরের অংশের লোকদের কোন সমস্যা করব না।' এখন যদি উপরের অংশের অধিকারীরা নিচের ডেক-এর লোকদেরকে এ কাজ করতে দেয় তবে নিশ্চিতভাবেই তারা সবাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অবশ্য তারা (উপরের অংশের লোক) যদি তাদের (নীচের লোকদের)কে এ কাজ থেকে বিরত রাখে, (তবে) তারা (উপরের অংশের লোক) রক্ষা পাবে এবং এভাবে (জাহাজের) সবাই রক্ষা পাবে। " [বুখারী ]
তাই কেউ ব্যক্তিগত ইবাদত ঠিকমতো চালিয়ে গেলো আর সমাজে যেসব অব্যবস্থাপনা চলছে সে ব্যাপারে কিছু করলো না বা বলল না তখন সেটা কোন ইসলামী চিন্তা বলে গ্রহণযোগ্য হবে না । উপরোক্ত হাদীসদ্বয় থেকে এটা পরিষ্কারভাবে আনুধাবন হয়, যে সমাজে যখন জুলুম, অনাচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তখন ঐ সমাজে বসবাসরত মুসলমানদের জন্য ঐ সমাজের পরিবর্তন করার জন্য কাজ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। আর এ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে না আসলে সবাই একসাথে শাস্তিযোগ্য হবে।হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রাসূলুলাহ্ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি :
“মানুষ কোন অত্যাচারীকে অত্যাচার করতে দেখেও তার দুই হাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করলে অচিরেই আল্লাহ্ তা’আলা তাদের সকলকে (অর্থাৎ অত্যাচারী ও যারা অত্যাচার মেনে নেয় উভয়কে) তাঁর ব্যাপক আযাবে নিক্ষেপ করবেন।” [তিরমিযী]
“যখন কোন জাতি পাপাচারে লিপ্ত হয় এবং কেউই তাদের প্রতিরোধ করেনা তখন আল্লাহ্ গোটা জাতির উপর শাস্তি নাযিল করেন যা তাদের সকলকে ছেয়ে ফেলে।” [আবু দাউদ/৩৭৭৫]
“তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং লোকদের কল্যানময় কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। অন্যথায় আল্লাহ্ কোন আযাবের মাধ্যমে তোমাদের ধ্বংস করে দেবেন কিংবা তোমাদের মধ্য থেকে সর্বাধিক পাপাচারী, অন্যায়কারী ও জালিম লোকদের তোমাদের উপর শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দেবেন। এসময় তোমাদের মধ্যেকার নেককার লোকেরা মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও কান্নাকাটি করবে, কিন্তু তা কিছুতেই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ]
“এক ব্যাক্তি উঠে দাঁড়িয়ে মুহাম্মাদ রাসুল্ললাহ (সাঃ) এর কাছে যায় (যখন তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে ছিলেন) এবং জিজ্ঞাসা করেন, “ও রাসুলুল্লাহ, কারা সর্বোত্তম মানুষ?”; তিনি (সাঃ) উত্তর দিলেন, “তারাই হচ্ছে সর্বোত্তম মানুষ যারা কুরআন বেশী তিলাওয়াত করে, আল্লাহ্র ব্যাপারে সবচেয়ে সচেতন (বা হালাল/হারাম এর ব্যাপারে সতর্ক), সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করে এবং আত্মীয়স্বজনদের সাথে সম্পর্ক রাখে”। [মুসনাদে আহমাদ]
‘অত্যাচারী শাসকের নিকট হক কথা বলা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ।’’ (তিরমিযী ২১৭৪, আবূ দাউদ ৪৩৪৪)
তাই আসেন আমরা বর্তমান কুফর সমাজকে পরিবর্তন করে ইসলামী রাষ্ট্র তথা খিলাফত ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করি।
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছেন, তিনি অবশ্যি তাদের পৃথিবীতে খিলাফত (রাষ্ট্র ক্ষমতা) দান করবেন, যেমনিভাবে খিলাফত দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তী লোকদের । তিনি তাদের ভয়ভীতি ও আতংকের পরিবর্তে তাদের নিরাপত্তা প্রদান করবেন। (সুরা নূরঃ ৫৫)
✦আরও পড়ুন
✦ প্রবন্ধ ✦শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
প্রবন্ধ
শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…
✦ প্রবন্ধ ✦ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
প্রবন্ধ
ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…
✦ প্রবন্ধ ✦মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
প্রবন্ধ
মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…