মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
প্রবন্ধ

রাসুল (সা.) এর অবমাননা এবং পশ্চিমা বাকস্বাধীনতার ডাবলস্ট্যান্ডার্ড!

৫ মিনিটে পড়ুন৮ নভেম্বর ২০২০
রাসুল (সা.) এর অবমাননা এবং পশ্চিমা বাকস্বাধীনতার ডাবলস্ট্যান্ডার্ড!
২০০৫ সালে ডেনমার্কের একটি পত্রিকা মহানবী (সা.) সম্বন্ধে আপত্তিকর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে। ২০০৭ সালে সুইডেনের একটি পত্রিকা হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অনুরূপ একটি আপত্তিজনক ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করে। এর প্রতিবাদে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রম্য সাময়িকী শার্লি হেবদো নবী মোহাম্মদ ﷺ কে নিয়ে কার্টুন আঁকে। ২০২০ সালে এই সাময়িকী আবার মুহাম্মাদ ﷺ কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে। মুহাম্মাদ ﷺ কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করলে তা মুসলিমদের আহত করবে সেটা শার্লি হেবদো জানে । কিন্তু তারপরেও তারা মুহাম্মাদ ﷺ কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করছে। এর ফলে মুসলিমরা ব্যথিত হবেন, তাঁদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে, মুসলিমরা অপমানিতবোধ করবেন; এই বিষয়টিই উড়িয়ে দিচ্ছে অনেকে। তারা বলছে এভাবে মুহাম্মাদ ﷺ কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা বাকস্বাধীনতার অংশ। মুসলিমদের এটা মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু আসলেই কী তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী? বাকস্বাধীনতা কী সবার জন্য সবসময় চর্চা করা হয়? নাকি পশ্চিমা বাকস্বাধীনতা একটা সিলেক্টিভ বাকস্বাধীনতা? চলুন, কিছু ঘটনা দেখা যাক…

১। ২০১০ সালে ফ্রান্স একটা আইন পাশ করে। এই আইন অনুসারে ফ্রান্সের জাতীয় পতাকা নষ্ট করা, অবমাননা করা বা অপবিত্র করা অপরাধমূলক কাজ। অথচ শার্লি হেবদো এই ফ্রান্সেরই ম্যাগাজিন আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা এই দেশের সংস্কৃতির একটা অংশ।
লিংক - https://tinyurl.com/yxdbodul

২। ২০২০ সালে জার্মানিতে একটি আইন পাশ করা হয়। এই আইন অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা বা অন্য কোনো পতাকা পোড়ালো সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
লিংক - https://tinyurl.com/y3qqxatz

৩। ২০২০ সালের ২৫ মে। আমেরিকাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গের গলায় হাঁটুচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছিল মার্কিন পুলিশ । এই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে তিনজন ব্রিটিশ তরুণ অনলাইনে ভিডিও আপলোড করে।আর এই অপরাধে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
লিংক -https://tinyurl.com/y4h5f9eg

৪। ২০১৯ এ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে একটি কার্টুন ছাপায়। কার্টুনে দেখা যায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইহুদিরা মাথায় যে টুপি পরে সেই টুপি পরে একটা কুকুরের গলার দড়ি ধরে আছে। কুকুরের মাথায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখ বসানো। আর গলায় ইহুদিদের প্রতীক “ডেভিড স্টার” ঝোলানো। এই কার্টুন প্রকাশের ফলে নিউইয়র্ক টাইমস ব্যাপক সমালোচনার স্বীকার হয়। এক পর্যায়ে তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বাধ্য হয়।
লিংক - https://tinyurl.com/yyttczpu

৫। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়াতে (iowa) একজন ব্যক্তিকে ১৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয় ২০১৯ সালে। চার্চ থেকে ঝোলানো সমকামীদের একটা পতাকা পোড়ানো…এই ছিলো সেই ব্যক্তির অপরাধ ।
লিংক - https://tinyurl.com/y26m3jsw

৬। আগেই বলা হয়েছে লন্ডনের সেনোটাফ হল একটি স্মৃতিসৌধ যা তৈরি করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং তার পরের যুদ্ধগুলোতে নিহত বৃটিশ সাম্রাজ্যের সৈনিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। ২০১০ সালে ২১ বছরের এক তরুণ, ছাত্রদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিল। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সে সেনোটাফের ওপর চড়ে বসে। এর ফলে তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
লিংক -https://tinyurl.com/yyysh6k7

৭। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ১১ নভেম্বর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে। এই অনুষ্ঠানের একটা অনুষঙ্গ হচ্ছে প্লাস্টিকের পপি ফুল । যুদ্ধ থেমে যাবার পর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে অসংখ্য পপি ফুল ফুটেছিল। যুদ্ধে মৃতদের স্মরণ করার জন্য প্রতীক হিসেবে পপি ফুলের প্রচলন শুরু হয়েছে তখন থেকেই। সামরিক বাহিনীতে কর্মরত বা সাবেক সদস্যদের আর্থিক,মানসিক সাহায্য প্রদান করার জন্য এই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে প্লাস্টিকের পপি ফুল বিক্রি করা হয়। ২০১১ সালে এই দিনে ইংল্যান্ডে এক ব্যক্তি দুইটি প্লাস্টিকের পপি ফুল পুড়িয়ে ফেলে। একারণে পুলিশ তাকে কোর্টে হাজির করে। আদালত উক্ত ব্যক্তি যথারীতি দোষী সাব্যস্ত হয়।
লিংক - https://tinyurl.com/y6572vhc

৮। গাড়ি নিয়ে ইংল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান টপ গিয়ার। ২০১৬ সালে টপ গিয়ারের একটি পর্বের শুটিং করা হয় সেনোটাফের কাছে। লন্ডনের এই সেনোটাফ হল একটি স্মৃতিসৌধ যা তৈরি করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং তার পরের যুদ্ধগুলোতে নিহত বৃটিশ সাম্রাজ্যের সৈনিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। সেনোটাফের কাছে শুটিং করায় টপ গিয়ার টিম ব্যাপক পরিমাণ জনসমালোচনার সম্মুখীন হয়। ক্ষিপ্ত জনসাধারণকে শান্ত করার জন্য টপ গিয়ারের একজন উপস্থাপক ক্রিস ইভান্সকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়।
লিংক -https://tinyurl.com/y6572vhc

৯। ২০১৩ সালে একজন ব্রিটিশ দোকানী দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে কৌতুক করে। এই অপরাধে পুলিশ তাকে ৮ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেই দোকানীর ল্যাপটপও কেড়ে নেয় পুলিশ।
লিংক - https://tinyurl.com/y5onmess

১০। লন্ডনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে গ্রীনফেল টাওয়ার। ১৯৭৪ সালে স্থাপিত হয় এই ২৪ তলা বিল্ডিং। ২০১৭ এর জুনে গ্রীনফেল টাওয়ারে আগুন লাগলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যে ৬ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এদের অপরাধ ছিল এরা কার্ডবোর্ড দিয়ে গ্রীনফেল টাওয়ারের মতো ডামি বিল্ডিং বানিয়ে সেখানে আগুন দিয়েছিল মজা (Prank) করার উদ্দেশ্যে।
লিংক - https://tinyurl.com/y3jchzlm

১১। ২০০৯ সালে শার্লি হেবদোতে কাজ করা এক কার্টুনিস্ট তৎকালীন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির ছেলেকে নিয়ে একটি ক্যারিকেচার আঁকে। সেই ক্যারিকেচারে দেখানো হয় সারকোজির পুত্র অর্থের জন্য ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আকানোকে নিজেদের ইতিহাস বানানো খোদ শার্লি হেবদো সেই কার্টুনিস্টকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলে। উক্ত কার্টুনিস্ট এতে রাজি না হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়া।
লিংক - https://tinyurl.com/y6zpndcf

১২. একজন কৌতুক অভিনেতা পাশ্চাত্যের বাকস্বাধীনতার অসারতা নিয়ে ফেইসবুকে একটি কমেন্ট করে। আর এই অপরাধে ফ্রান্স সেই অভিনেতাকে গ্রেফতার করে।
লিংক - https://tinyurl.com/y6lhpowj

ইসলামের ওপর একের পর এক ন্যাক্কারজনক আক্রমণকে বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি বলে জাস্টিফাই করা পশ্চিমা মহান সভ্যতা এই ঘটনাগুলোর কী ব্যাখ্যা দিবে?

পাশ্চাত্যের তথাকথিত বাকস্বাধীনতা বা ব্যক্তি স্বাধীনতার গালভরা বয়ান শুনতে বেশ ভালো লাগে কিন্তু দিনশেষে এসব কিছু আসলে জুলুম , নির্যাতনের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষই স্বাধীন মতামত পেশ করার অধিকার রাখে। ইসলামের সোনালি যুগে একজন সাধারণ নাগরিকেরও সে অধিকার ছিল। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিটিও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না। সচেতন নাগরিকের পরামর্শ, অভিযোগ ও অনুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতেন কর্তা ব্যক্তিরা। এটাকে তারা নিজেদের সঠিক পথে চলার পাথেয় হিসেবে মনে করতেন।

হজরত উমর (রা.) কে বার বার জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এবার জুমার খুতবার শুরু করার সময় এক লোক উনাকে থামিয়ে বললো, বায়তুল মাল থেকে পাওয়া কাপড় থেকে আমরা সবাই এক টুকরা জামা বানাতে পড়েছি কিন্তু আপনি দুইটা জামা বানিয়েছেন কেমনে? তখন উমর (রা.) বললেন, আমার ছেলে আব্দুল্লাহ এর কাপড়ের টুকরো দিয়ে আমি পাজামা বানিয়েছি। এটা ছিল বাকস্বাধীনতার এবং জবাবদিহিতার এক উজ্জল নিদর্শন।

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
প্রবন্ধ

শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ

ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…

প্রবন্ধ

ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম

১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…

প্রবন্ধ

মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা

হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…