রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং ন্যাটো
৪ মিনিটে পড়ুন১ মার্চ ২০২২
শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ। ইউক্রেন যাতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ না দেয় এজন্য হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে চুক্তি ছিল, ইউক্রেন পশ্চিমা সামরিক জোট NATO তে যোগ দিবেনা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে রাশিয়ার সাথে চুক্তিভঙ্গ করে ইউক্রেন। ইউক্রেন যদি আমেরিকার জোটে যোগ দেয় তাহলে রাশিয়ার সীমানায় চলে আসবে যুক্তরাষ্ট্র,আর এটা রাশিয়ার জন্য বড় একটা বিপদ।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অন্যতম মূল কারণ 'ন্যাটো'
ন্যাটো (NATO- North Atlantic Treaty Organisation) হলো ৩০ টি দেশের একটা সামরিক জোট যা ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়। এর নেতৃত্বে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আরো সহজ করে বললে ন্যাটো হলো আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ৩০ টি দেশের একটি জোট যারা একত্রে মিলে কমন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে!
ইরাকে আমেরিকা মূলত যুদ্ধ করলেও সেখানে ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যরা যেমন, ব্রিটেন, কানাডা ইত্যাদি দেশও কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ন্যাটোতে পারমাণবিক শক্তিধর আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ছাড়াও অর্থনৈতিক পরাশক্তি জার্মানি, স্পেন, ইতালি, কানাডা রয়েছে। সবগুলো দেশের সামরিক শক্তি একসাথে নিলে হয় ন্যাটো। এখানেই সমস্যাটা।
আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সাবেক পুঁজিবাদী ব্লকের শক্তি ন্যাটো। চায়না এবং রাশিয়া আলাদাভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হলেও সামরিক কোন জোটে তারা সরাসরি নেই এবং দুই দেশের সরাসরি স্বার্থ এক এবং অভিন্ন নয়।
এদিকে সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটবিয়া, লিথুনিয়া, রোমানিয়া এবং স্লোভাকিয়া ইতোমধ্যে ন্যাটোর সদস্য হয়ে গেছে! ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইউকোনোভিচ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর ইউক্রেন চালাচ্ছে মার্কিনপন্থী সরকার। তারাও চাচ্ছে ন্যাটো জোটে যোগ দিতে। রাশিয়ার আপত্তি হলো ইউক্রেন যদি ন্যাটো জোটে যোগ দেয়, তাহলে রাশিয়ার সীমানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে যাবে (রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের দৈর্ঘ্য দীর্ঘ ২২৯৫ কিলোমিটার!)। এতে রাশিয়ার শক্তি নিশ্চিতভাবেই হ্রাস পাবে এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এই সংকটকে কিউবার ক্ষেপনাস্ত্র সংকটের সাথে তুলনা করা যায়। ১৯৬২ সালে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ কিলোমিটার দূরে কিউবায় পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বহু দেনদরবারের মাধ্যমে রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়। রাশিয়ার যুক্তি হলো, ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হলে ইউক্রেনের মাটি ব্যবহার করে ন্যাটো বা আমেরিকা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা সহজেই নিতে পারবে, তখন রাশিয়ার কিছু করার থাকবে না। তাই যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দিতে দেওয়া হবে না।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। রাশিয়া অনেক বড় দেশ হলেও এর বেশিরভাগ সীমান্ত বরফে আচ্ছাদিত। কৃষ্ণসাগরে প্রবেশ, ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ বা ইউরোপের সাথে বাণিজ্য সবকিছুর জন্য রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন হলো অত্যাবশ্যকীয় একটি দেশ। রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই চাইবে না সেখানে পশ্চিমাপন্থী কোন সরকার থাকুক, আর সে সবসময় টেনশনে থাকুক। সুতরাং সে নিজের পছন্দের কাউকে বসাবেই।
উভয় দেশ ধর্ম হিসেবে অর্থোডক্স খ্রিস্টান। উভয় দেশের হাতে আছে আমাদের মজলুম মুসলিম ভাই-বোনদের রক্তের দাগ। রাশিয়া আমাদের রক্ত ঝরাচ্ছে সিরিয়ায়। ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সমর্থকদের অন্যতম এই ইউক্রেন। ইউক্রেন ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে আমেরিকা আগ্রাসনের পক্ষে লড়াই করেছে। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে অসহায় মুসলিমদের ওপরে বোমা মেরে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে হত্যা করেছিলো আমেরিকা। আর তাদের কাধে কাধ মিলিয়ে এই ইউক্রেন সহ ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এই হত্যাযঙ্গে অংশগ্রহন করেছিল।
রাশিয়া চেচনিয়া আক্রমণ করেছে। রাশিয়া Crimea দখল করেছে। রাশিয়া সিরিয়ায় বোমা বর্ষণ করেছে। রাশিয়া লিবিয়ায় ভাড়াটে সৈন্য পাঠিয়েছে। বিশ্ব পুতিনকে চেচেন, দাগেস্তানি, লিবিয়ান, ক্রিমিয়ান তাতার এবং সিরিয়ানদের হত্যা করা থেকে বিরত করেনি। কিন্তু সেই চেচেন, দাগেস্তানি, লিবিয়ান, ক্রিমিয়ান তাতার এবং সিরিয়ানরা মুসলিম ছিল তাই বিশ্ব পাত্তা দেয়নি! সিরিয়ায় হাজার হাজার বোমা বর্ষণ করেছে অনেক মানুষ কে হত্যা করেছে, যা মিডিয়া কভার করেনি। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অত্যাচারের ৯৯ শতাংশই কোনো মিডিয়া প্রকাশ করেনা। ইউক্রেনে হামলার পর আজ সবাই প্রতিবাদ করছে। এইটা ভন্ডামি ছাড়া কিছু না। মুসলমানদের রক্ত খুব সস্তা!
বৃহস্পতিবার পুতিন যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন : ‘আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে হৃদয়ের গভীর থেকে বলতে চাই— প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনাকে মানবতার দোহাই, যুদ্ধ বন্ধ করুন, ইউক্রেন থেকে আপনার সৈন্যবহর ফিরিয়ে নিন এবং সেখানে শান্তি স্থাপনের জন্য দায়িত্বশীল হোন। ইতোমধ্যে গত কয়েক বছরে ওই অঞ্চলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’
আচ্ছা গুতেরেস আঙ্কেল, এমন দোহাই, এমন কাতর কণ্ঠ তো আগে শুনিনি। আপনার আমলে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন হলো, সিরিয়া-ইয়েমেন পুড়ে খাক হলো। কৈ এমন আর্তস্বর তো শোনা যায় নি। আর মজলুম মুসলিম জনপদগুলোতে কী পরিমাণ বনি আদম আহত-নিহত ও গৃহহীন হয়েছেন তা কি অনুমান-অনুভব করতে পারেন?
নববী যুগে রোম ও পারস্যের মধ্যকার যুদ্ধ চলছিল৷ সে সময় মুসলমানরা রোমকে সাপোর্ট দিয়েছিলেন৷ মনে মনে চেয়েছিলেন রোম জয়ী হোক৷ কারণ রোমানরা ছিলো আহলে কিতাব৷ আর পারস্যরা ছিলো অগ্নিপূজক, মুশরিক৷ প্রথম দিকে রোম পরাজিত হলেও কয়েক বছরের মাথায় রোম বিজয়ী হয়৷ তখন মুসলমানরা আনন্দিত হয়েছিলেন৷ সূরা রুমের শুরুর দিকে সেই আলোচনা এসেছে৷
কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে মুসলমানদের পক্ষ-বিপক্ষ নেওয়াটা কঠিন৷ কারণ উভয় দেশই খ্রিস্টান প্রধান দেশ৷ ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয়েরই হাত মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত। একজন মুসলিম, কাফির কর্তিক তাওহীদবাদীদের গণহত্যার কথা স্মরণ করে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বলে:
সুতরাং আমি কিভাবে কাফির জাতির ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করব! [সূরা আল আরাফ:৯৩]
কাফের, মুশরিকদের থেকে আমরা মুসলিমরা কখনো নিরাপদ না। তাদের থেকে আমাদেরকে একমাত্র নিরাপত্তা দিতে পারে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা তথা খিলাফত ব্যবস্থা। খিলাফত ব্যবস্থা মুসলিম ভূমিগুলোকে এক করবে এবং আমাদের দুর্দান্ত মুসলিম সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিম ও অমুসলিম সবাইকে রক্ষা করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবে।
রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই, খলিফা হচ্ছেন ঢাল স্বরূপ যার পেছনে থেকে জনগণ যুদ্ধ করে এবং যার মাধ্যমে জনগণ নিজেদেরকে রক্ষা করে।” [মুসলিম]
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অন্যতম মূল কারণ 'ন্যাটো'
ন্যাটো (NATO- North Atlantic Treaty Organisation) হলো ৩০ টি দেশের একটা সামরিক জোট যা ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়। এর নেতৃত্বে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আরো সহজ করে বললে ন্যাটো হলো আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ৩০ টি দেশের একটি জোট যারা একত্রে মিলে কমন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে!
ইরাকে আমেরিকা মূলত যুদ্ধ করলেও সেখানে ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যরা যেমন, ব্রিটেন, কানাডা ইত্যাদি দেশও কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ন্যাটোতে পারমাণবিক শক্তিধর আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ছাড়াও অর্থনৈতিক পরাশক্তি জার্মানি, স্পেন, ইতালি, কানাডা রয়েছে। সবগুলো দেশের সামরিক শক্তি একসাথে নিলে হয় ন্যাটো। এখানেই সমস্যাটা।
আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সাবেক পুঁজিবাদী ব্লকের শক্তি ন্যাটো। চায়না এবং রাশিয়া আলাদাভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হলেও সামরিক কোন জোটে তারা সরাসরি নেই এবং দুই দেশের সরাসরি স্বার্থ এক এবং অভিন্ন নয়।
এদিকে সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটবিয়া, লিথুনিয়া, রোমানিয়া এবং স্লোভাকিয়া ইতোমধ্যে ন্যাটোর সদস্য হয়ে গেছে! ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইউকোনোভিচ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর ইউক্রেন চালাচ্ছে মার্কিনপন্থী সরকার। তারাও চাচ্ছে ন্যাটো জোটে যোগ দিতে। রাশিয়ার আপত্তি হলো ইউক্রেন যদি ন্যাটো জোটে যোগ দেয়, তাহলে রাশিয়ার সীমানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে যাবে (রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের দৈর্ঘ্য দীর্ঘ ২২৯৫ কিলোমিটার!)। এতে রাশিয়ার শক্তি নিশ্চিতভাবেই হ্রাস পাবে এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এই সংকটকে কিউবার ক্ষেপনাস্ত্র সংকটের সাথে তুলনা করা যায়। ১৯৬২ সালে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ কিলোমিটার দূরে কিউবায় পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বহু দেনদরবারের মাধ্যমে রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়। রাশিয়ার যুক্তি হলো, ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হলে ইউক্রেনের মাটি ব্যবহার করে ন্যাটো বা আমেরিকা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা সহজেই নিতে পারবে, তখন রাশিয়ার কিছু করার থাকবে না। তাই যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দিতে দেওয়া হবে না।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। রাশিয়া অনেক বড় দেশ হলেও এর বেশিরভাগ সীমান্ত বরফে আচ্ছাদিত। কৃষ্ণসাগরে প্রবেশ, ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ বা ইউরোপের সাথে বাণিজ্য সবকিছুর জন্য রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন হলো অত্যাবশ্যকীয় একটি দেশ। রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই চাইবে না সেখানে পশ্চিমাপন্থী কোন সরকার থাকুক, আর সে সবসময় টেনশনে থাকুক। সুতরাং সে নিজের পছন্দের কাউকে বসাবেই।
উভয় দেশ ধর্ম হিসেবে অর্থোডক্স খ্রিস্টান। উভয় দেশের হাতে আছে আমাদের মজলুম মুসলিম ভাই-বোনদের রক্তের দাগ। রাশিয়া আমাদের রক্ত ঝরাচ্ছে সিরিয়ায়। ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সমর্থকদের অন্যতম এই ইউক্রেন। ইউক্রেন ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে আমেরিকা আগ্রাসনের পক্ষে লড়াই করেছে। আবার ২০০৩ সালে ইরাকে অসহায় মুসলিমদের ওপরে বোমা মেরে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে হত্যা করেছিলো আমেরিকা। আর তাদের কাধে কাধ মিলিয়ে এই ইউক্রেন সহ ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এই হত্যাযঙ্গে অংশগ্রহন করেছিল।
রাশিয়া চেচনিয়া আক্রমণ করেছে। রাশিয়া Crimea দখল করেছে। রাশিয়া সিরিয়ায় বোমা বর্ষণ করেছে। রাশিয়া লিবিয়ায় ভাড়াটে সৈন্য পাঠিয়েছে। বিশ্ব পুতিনকে চেচেন, দাগেস্তানি, লিবিয়ান, ক্রিমিয়ান তাতার এবং সিরিয়ানদের হত্যা করা থেকে বিরত করেনি। কিন্তু সেই চেচেন, দাগেস্তানি, লিবিয়ান, ক্রিমিয়ান তাতার এবং সিরিয়ানরা মুসলিম ছিল তাই বিশ্ব পাত্তা দেয়নি! সিরিয়ায় হাজার হাজার বোমা বর্ষণ করেছে অনেক মানুষ কে হত্যা করেছে, যা মিডিয়া কভার করেনি। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অত্যাচারের ৯৯ শতাংশই কোনো মিডিয়া প্রকাশ করেনা। ইউক্রেনে হামলার পর আজ সবাই প্রতিবাদ করছে। এইটা ভন্ডামি ছাড়া কিছু না। মুসলমানদের রক্ত খুব সস্তা!
বৃহস্পতিবার পুতিন যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন : ‘আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে হৃদয়ের গভীর থেকে বলতে চাই— প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনাকে মানবতার দোহাই, যুদ্ধ বন্ধ করুন, ইউক্রেন থেকে আপনার সৈন্যবহর ফিরিয়ে নিন এবং সেখানে শান্তি স্থাপনের জন্য দায়িত্বশীল হোন। ইতোমধ্যে গত কয়েক বছরে ওই অঞ্চলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’
আচ্ছা গুতেরেস আঙ্কেল, এমন দোহাই, এমন কাতর কণ্ঠ তো আগে শুনিনি। আপনার আমলে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন হলো, সিরিয়া-ইয়েমেন পুড়ে খাক হলো। কৈ এমন আর্তস্বর তো শোনা যায় নি। আর মজলুম মুসলিম জনপদগুলোতে কী পরিমাণ বনি আদম আহত-নিহত ও গৃহহীন হয়েছেন তা কি অনুমান-অনুভব করতে পারেন?
নববী যুগে রোম ও পারস্যের মধ্যকার যুদ্ধ চলছিল৷ সে সময় মুসলমানরা রোমকে সাপোর্ট দিয়েছিলেন৷ মনে মনে চেয়েছিলেন রোম জয়ী হোক৷ কারণ রোমানরা ছিলো আহলে কিতাব৷ আর পারস্যরা ছিলো অগ্নিপূজক, মুশরিক৷ প্রথম দিকে রোম পরাজিত হলেও কয়েক বছরের মাথায় রোম বিজয়ী হয়৷ তখন মুসলমানরা আনন্দিত হয়েছিলেন৷ সূরা রুমের শুরুর দিকে সেই আলোচনা এসেছে৷
কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে মুসলমানদের পক্ষ-বিপক্ষ নেওয়াটা কঠিন৷ কারণ উভয় দেশই খ্রিস্টান প্রধান দেশ৷ ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয়েরই হাত মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত। একজন মুসলিম, কাফির কর্তিক তাওহীদবাদীদের গণহত্যার কথা স্মরণ করে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বলে:
সুতরাং আমি কিভাবে কাফির জাতির ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করব! [সূরা আল আরাফ:৯৩]
কাফের, মুশরিকদের থেকে আমরা মুসলিমরা কখনো নিরাপদ না। তাদের থেকে আমাদেরকে একমাত্র নিরাপত্তা দিতে পারে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা তথা খিলাফত ব্যবস্থা। খিলাফত ব্যবস্থা মুসলিম ভূমিগুলোকে এক করবে এবং আমাদের দুর্দান্ত মুসলিম সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিম ও অমুসলিম সবাইকে রক্ষা করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবে।
রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই, খলিফা হচ্ছেন ঢাল স্বরূপ যার পেছনে থেকে জনগণ যুদ্ধ করে এবং যার মাধ্যমে জনগণ নিজেদেরকে রক্ষা করে।” [মুসলিম]
✦আরও পড়ুন
✦ প্রবন্ধ ✦শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
প্রবন্ধ
শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…
✦ প্রবন্ধ ✦ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
প্রবন্ধ
ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…
✦ প্রবন্ধ ✦মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
প্রবন্ধ
মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…