সেক্যুলার মুসলিম
৩ মিনিটে পড়ুন৬ মে ২০২২

যে মতবাদটিকে ইংরেজিতে secularism বলা হয় তার আরবি প্রতিশব্দ হিসেবে বহুলভাবে علماني [আলমানিয়্যাহ] শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আর বাংলায় এর অনুবাদ করা হয় ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ শব্দ দিয়ে। যদিও ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ সেকুলারিজমের প্রকৃত তাৎপর্য প্রকাশ করে না। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং জনগণ প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারে না।
খ্রিস্টানদের গির্জা কর্তৃক শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার নিমিত্তে, পৃথিবীতে নতুন এক মতবাদের উদ্ভব হয় যা সেকুলারিজম (secularism) নামে পরিচিত। মতবাদটির জন্ম পাশ্চাত্যে।
সেকুলারিজম মানে হলো, ধর্মীয় আইন-কানুন থেকে রাষ্ট্র আলাদা থাকবে, রাষ্ট্রী্য় জীবনে আল্লাহর বিধানকে নিষিদ্ধ করা। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, রাষ্ট্র সবার’, ‘জীবনের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য জীবন নয়’ এই রকম স্লোগানগুলো সেক্যুলারিজম নামক চিন্তা থেকে এসেছে।
পাশ্চাত্যের অভিধানসমুহে “Secular” অর্থ সাধারণত এভাবে করা হয়, not having any connection with religion” ধর্মের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা বা ধর্মহীনতা। (Cambridge English Dictionary)
Oxford Dictionary-তে সেকুলারিজমকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: সমাজের গঠন/সংগঠন, শিক্ষা ইত্যাদিতে ধর্ম যুক্ত হবে না - এই বিশ্বাসের নাম সেকুলারিজম। Wikipedia-তে সেকুলারিজমের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে: ধর্মনিরপেক্ষতার পরিষ্কার মানে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করা।
ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ কখনোই "সবাই সবার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে"- এটা নয়। বরং বলা যেতে পারে, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো রাষ্ট্রের দেয়া সীমার মধ্যে ধর্মপালন অর্থাৎ 'পরাধীনভাবে' সবাই সবার ধর্ম খণ্ডিত আকারে পালন করবে।
তাই যেসব মুসলিম শুধুমাত্র নামাজ, রোজার মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখে রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের অন্যান্য হুকুম পালন করার ব্যাপারে অবহেলা করে তাদেরকে বলা হয় সেকুলার মুসলিম। সেকুলারিজমের প্রকৃত অর্থ না জানার কারণেই অনেক লোক নামাজ পড়েন, হজ্জ পালন করেন আবার সেকুলার।
‘ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়’, ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই ভালো’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হয়। আমাদের দেশে অনেক ধর্মনিরপেক্ষ আলেম আছেন যারা নামায, রোযা, ইবাদত-বন্দেগী কীভাবে আদায় করবে তা শিক্ষা দেয় এবং বলেন যে, ধর্ম পবিত্র জিনিস, ইসলামে রাজনীতি নেই। এই সেক্যুলার আলেমরা তাদের বক্তব্য ইবাদত বন্দেগীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচার প্রক্রিয়া, শিক্ষা-দীক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধর্মকে টেনে আনার ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না।
আল্লাহ হচ্ছেন মালিকিন্ নাস (মানুষের শাসক, সূরা নাস) এবং মালিকাল মুলক (রাষ্ট্রের মালিক, সূরা আলে ইমরান)। রাসূল সা: নিজেই মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার আইন ছিল ইসলামি শরিয়াহ। খিলাফতের সময়েও রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল ইসলাম ও ইসলামি আইন।
আল্লাহ বলছেন, ‘আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দীন ধর্ম বা জীবনবিধান হচ্ছে ইসলাম।’ [সূরা আলে ইমরান : ১৯]
আল্লাহ বলছেন, "হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।" [সূরা বাকারা: ২০৮]
ইবন কাসীর (রহ.) এ-আয়াতের তাফসীরে বর্ণনা করেন, ইবন আব্বাস (রা.) এ-আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, এ-আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, "তোমরা পরিপূর্ণভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর দ্বীনের সমস্ত আইনের আনুগত্য কর এবং সেখান থেকে কোনো কিছুই পরিত্যাগ করো না।"
আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা তালাশ বা অবলম্বন করবে, তার কাছ থেকে সেটি কোনোদিনই গ্রহণ করা হবে না। আর সে ব্যক্তি পরকালে হবে ব্যর্থ ও মহা ক্ষতিগ্রস্ত’। (সূরা আলে ইমরান : ৮৫)
"তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা আর কিয়ামতের দিন এরা কঠিন শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।" [সূরা বাকারা : ৮৫]
মুখে যতই ইসলামের সেবক দাবি করুক, আংশিক ইসলাম বিশ্বাসকারী সেকুলার ব্যক্তি পৃথিবীতে লাঞ্ছিত হবেই, আর কিয়ামতে পাবে কঠোর শাস্তি। এটাই মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষণা।
ইসলামে থাকাবস্থায় মুসলিমদের পক্ষে আংশিক বা পূর্ণ ইসলাম ত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। ধর্মকে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বানিয়ে রাখার অধিকারও নেই। ইসলামের পাশাপাশি অপর কোনো ধর্ম বা জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করারও উপায় নেই। জীবনের কোনো ক্ষেত্রে কোনো পর্যায়ে ধর্মহীন হওয়ার অবকাশও নাই। মুসলমানদের কেবল মুসলমান হতে হবে, সেক্যুলার মুসলমান হওয়ার কোনো উপায় নেই।
খ্রিস্টানদের গির্জা কর্তৃক শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার নিমিত্তে, পৃথিবীতে নতুন এক মতবাদের উদ্ভব হয় যা সেকুলারিজম (secularism) নামে পরিচিত। মতবাদটির জন্ম পাশ্চাত্যে।
সেকুলারিজম মানে হলো, ধর্মীয় আইন-কানুন থেকে রাষ্ট্র আলাদা থাকবে, রাষ্ট্রী্য় জীবনে আল্লাহর বিধানকে নিষিদ্ধ করা। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, রাষ্ট্র সবার’, ‘জীবনের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য জীবন নয়’ এই রকম স্লোগানগুলো সেক্যুলারিজম নামক চিন্তা থেকে এসেছে।
পাশ্চাত্যের অভিধানসমুহে “Secular” অর্থ সাধারণত এভাবে করা হয়, not having any connection with religion” ধর্মের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা বা ধর্মহীনতা। (Cambridge English Dictionary)
Oxford Dictionary-তে সেকুলারিজমকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: সমাজের গঠন/সংগঠন, শিক্ষা ইত্যাদিতে ধর্ম যুক্ত হবে না - এই বিশ্বাসের নাম সেকুলারিজম। Wikipedia-তে সেকুলারিজমের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে: ধর্মনিরপেক্ষতার পরিষ্কার মানে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করা।
ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ কখনোই "সবাই সবার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে"- এটা নয়। বরং বলা যেতে পারে, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো রাষ্ট্রের দেয়া সীমার মধ্যে ধর্মপালন অর্থাৎ 'পরাধীনভাবে' সবাই সবার ধর্ম খণ্ডিত আকারে পালন করবে।
তাই যেসব মুসলিম শুধুমাত্র নামাজ, রোজার মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখে রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের অন্যান্য হুকুম পালন করার ব্যাপারে অবহেলা করে তাদেরকে বলা হয় সেকুলার মুসলিম। সেকুলারিজমের প্রকৃত অর্থ না জানার কারণেই অনেক লোক নামাজ পড়েন, হজ্জ পালন করেন আবার সেকুলার।
‘ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়’, ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই ভালো’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হয়। আমাদের দেশে অনেক ধর্মনিরপেক্ষ আলেম আছেন যারা নামায, রোযা, ইবাদত-বন্দেগী কীভাবে আদায় করবে তা শিক্ষা দেয় এবং বলেন যে, ধর্ম পবিত্র জিনিস, ইসলামে রাজনীতি নেই। এই সেক্যুলার আলেমরা তাদের বক্তব্য ইবাদত বন্দেগীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচার প্রক্রিয়া, শিক্ষা-দীক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধর্মকে টেনে আনার ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না।
আল্লাহ হচ্ছেন মালিকিন্ নাস (মানুষের শাসক, সূরা নাস) এবং মালিকাল মুলক (রাষ্ট্রের মালিক, সূরা আলে ইমরান)। রাসূল সা: নিজেই মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার আইন ছিল ইসলামি শরিয়াহ। খিলাফতের সময়েও রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল ইসলাম ও ইসলামি আইন।
আল্লাহ বলছেন, ‘আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দীন ধর্ম বা জীবনবিধান হচ্ছে ইসলাম।’ [সূরা আলে ইমরান : ১৯]
আল্লাহ বলছেন, "হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।" [সূরা বাকারা: ২০৮]
ইবন কাসীর (রহ.) এ-আয়াতের তাফসীরে বর্ণনা করেন, ইবন আব্বাস (রা.) এ-আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, এ-আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, "তোমরা পরিপূর্ণভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর দ্বীনের সমস্ত আইনের আনুগত্য কর এবং সেখান থেকে কোনো কিছুই পরিত্যাগ করো না।"
আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা তালাশ বা অবলম্বন করবে, তার কাছ থেকে সেটি কোনোদিনই গ্রহণ করা হবে না। আর সে ব্যক্তি পরকালে হবে ব্যর্থ ও মহা ক্ষতিগ্রস্ত’। (সূরা আলে ইমরান : ৮৫)
"তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা আর কিয়ামতের দিন এরা কঠিন শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে।" [সূরা বাকারা : ৮৫]
মুখে যতই ইসলামের সেবক দাবি করুক, আংশিক ইসলাম বিশ্বাসকারী সেকুলার ব্যক্তি পৃথিবীতে লাঞ্ছিত হবেই, আর কিয়ামতে পাবে কঠোর শাস্তি। এটাই মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষণা।
ইসলামে থাকাবস্থায় মুসলিমদের পক্ষে আংশিক বা পূর্ণ ইসলাম ত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। ধর্মকে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বানিয়ে রাখার অধিকারও নেই। ইসলামের পাশাপাশি অপর কোনো ধর্ম বা জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করারও উপায় নেই। জীবনের কোনো ক্ষেত্রে কোনো পর্যায়ে ধর্মহীন হওয়ার অবকাশও নাই। মুসলমানদের কেবল মুসলমান হতে হবে, সেক্যুলার মুসলমান হওয়ার কোনো উপায় নেই।
✦আরও পড়ুন
✦ প্রবন্ধ ✦শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
প্রবন্ধ
শীঘ্রই ইহুদিরা পরাজিত হবে এবং জেরুজালেম ইসলামী খিলাফতের রাজধানী হবে ইনশাআল্লাহ
ফিলিস্তিন হল মসজিদ আল-আকসার বাড়ি, মক্কার মসজিদ আল-হারামের পরে পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের…
✦ প্রবন্ধ ✦ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
প্রবন্ধ
ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায় প্রথম
১৫২টি দেশের ১,২০০ টিরও বেশি শহরের ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করে একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের কোলাহলপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বিশ্বের ধীরতম শহরের তালিকায়…
✦ প্রবন্ধ ✦মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
প্রবন্ধ
মুসলমানদের জন্য রবিউল আউয়ালের শিক্ষা
হে মুসলমানগণ! রবিউল আউয়াল মাসে, সমস্ত মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ, চূড়ান্ত নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিযুক্ত করার ঘটনা ঘটেছিল। আবু আল-হাসান…