মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
হাদীসের গল্প

সততা ও আমানতের এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত {স্বর্ণ ভর্তি একটি কলসির (Jar) কোন দাবীদার খুঁজে পাওয়া গেলো না}

৮ মিনিটে পড়ুন ২ বার দেখা হয়েছে১৩ জুন ২০২০
সততা ও আমানতের এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত {স্বর্ণ ভর্তি একটি কলসির (Jar) কোন দাবীদার খুঁজে পাওয়া গেলো না}
সততা ও আমানতের এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত {স্বর্ণ ভর্তি একটি কলসির (Jar) কোন দাবীদার খুঁজে পাওয়া গেলো না}

লোভ মানব চরিত্রের অত্যন্ত নিন্দনীয় অভ্যাস। এটি মানব চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংস করে দেয় দুনিয়া-আখিরাতের সুখময় আবাসকে।

হযরত কাব বিন মালেক আনসারি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছাগল-পালের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া যতটা না বিপদজনক, মানুষের ইমান আমলের জন্য লোভ-লালসা তার চেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক”। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নাম্বারঃ ২৩৭৬]

লোভী ব্যক্তি কখনোই সৎচরিত্রবান হতে পারে না। কেননা, পরশ্রীকাতরতা, গর্ব-অহংকার, শত্রুতা, অন্যের অনিষ্ট কামনা, অন্যকে ঘৃণা করা, অন্যের উন্নতি ও সুখ সহ্য করতে না পারা, ধন-সম্পদ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ, ভাই-বোনের সম্পর্ক নষ্ট, আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্কে বিচ্ছেদ, পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে মামলা-মোকাদ্দমা এবং দুর্নীতিতে জড়িত হওয়া ইত্যাদি লোভের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, “লোভ হচ্ছে দরিদ্রতা”। অর্থাৎ লোভ করলে আত্মা দরিদ্র হয়ে যায়। কল্ব মরে যায়। ইবাদতে স্বাদ পাওয়া যায় না।

আমাদের সমাজের লোভী মানুষগুলোর আচরণ পর্যবেক্ষন করলে আমরা দেখতে পাই, একজন লোভী মানুষ প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ধারণা ও উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে নিজের লোভকে তুষ্ট করার চেষ্টায় রত থাকে। অন্যকে ঠকিয়ে এবং বঞ্চিত করে সে আনন্দ অনুভব করে। সম্পদকে সে সম্মান ও গৌরবের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে। নিজেকে সম্পদে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সে বিভিন্ন অন্যায় অজুহাত উপস্থাপন, অবিশ্বাস্য জালিয়াতি এবং অকল্পনীয় মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কৃপণতার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা কৃপণতার কারনে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদেরকে কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে তারা কৃপণতা করেছে, তাদেরকে আত্মীয়তা ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তখন তারা তাই করেছে এবং তাদেরকে পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে। [সুনানে আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, হাদিস নাম্বারঃ১৬৯৮]

নিচের ঘটনাটি আমাদেরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে সম্পদের প্রতি লোভ তথা অন্যায় আগ্রহ থেকে বিরত থাকতে এবং আমাদের লোভী মানুষিকতার সংস্কার করণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী জান্নাত অর্জনের প্রতিযোগীতায় প্রতিযোগী হতে সাহায্য করবে।

হ্যাঁ, ঘটনাটি অবশ্যই আমাদেরকে সাহায্য করবে, যদি আমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এবং তাঁর আনীত দ্বীনের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য, জাহান্নামকে ভয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি তথা জান্নাত অর্জনের আন্তরিক ইচ্ছা নিয়ে ঘটনাটি পড়ি।

ঘটনাটির বর্ণনাঃ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির নিকট থেকে একখণ্ড জমি ক্রয় করেছিল। যে ব্যক্তি জমি ক্রয় করে সে ঐ জমিতে একটি স্বর্ণভর্তি কলসী পায়। সে বিক্রেতাকে বলে যে, আপনার স্বর্ণ আপনি নিয়ে নিন। আমি তো আপনার নিকট থেকে শুধু জমিই ক্রয় করেছি। স্বর্ণ ক্রয় করিনি।

জমির মালিক বলে, আমি জমি এবং জমির অভ্যন্তরস্থ সবকিছু আপনার নিকট বিক্রয় করেছি। তারা দু'জনে মীমাংসার জন্যে তৃতীয় এক ব্যক্তিকে সালিশ নির্ধারণ করে। সে ব্যক্তি বলে, আপনাদের কোন ছেলে-মেয়ে আছে কি? একজন বললো, আমার একটি পুত্র সন্তান আছে। অন্যজন বললো, আমার আছে একটি কন্যা সন্তান। মীমাংসাকারী ব্যক্তিটি বললো, ঐ মেয়েকে ঐ ছেলেটির নিকট বিয়ে দিয়ে দিন। ঐ স্বর্ণ দু’জনের জন্যে ব্যয় করুন এবং ঐ দু’জনকে দান করে দিন।

রেফারেন্সঃ

১. [সহিহ বুখারী {(অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)}, হাদিস নাম্বারঃ ৩৪৭২, হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস]
২. {সহিহ মুসলিম (অধ্যায়ঃ বিচার বিধান), হাদিস নাম্বারঃ ৪৩৮৯, হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস}
৩. {রিয়াদুস সলেহিন (অধ্যায়ঃ বিবিধ চিত্তকর্ষী হাদিসসমূহ), হাদিস নাম্বারঃ ১৮৩৫, হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস}
৪. {হাদিস সম্ভার (অধ্যায়ঃ শাসন অধ্যায়), হাদিস নাম্বারঃ ১৮০৬, হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস}
৫. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
(ইসলামের ইতিহাসঃ আদি-অন্ত)
বঙ্গানুবাদ দ্বিতীয় খণ্ড (পৃষ্ঠা নাম্বারঃ ২৭৩)
লেখকঃ হাফিজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (রহঃ)

বনী ইসরাঈলের বর্ণনায় ইমাম বুখারী (রহঃ) এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুসলিম (রহঃ)-ও হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, বাদশাহ যুলকারনাইন-এর যুগে এ ঘটনাটি ঘটেছিল। যুলকারনাইনের যুগ তো বনী ইসরাঈলের যুগের বহু পূর্বে ছিল। আল্লাহই ভাল জানেন।[হাফিজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (রহঃ)]

আরেকটি বর্ণনায় ঘটনাটি এভাবে পাওয়া যায়ঃ

ইসহাক ইবন বিশররে তাঁর আল মুরতাদা গ্রন্থে সাঈদ ইবন আবী আরুবাহ----হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যুলকারনাইন নিজে তার অধীনস্থ রাজা-বাদশাহ এবং কর্মচারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন। কারো সম্পর্কে কোন বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনা তার গোচরে এলে তিনি সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। নিজে সরাসরি অবগত না হয়ে কারো অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন না।

একদিন তিনি ছদ্মবেশে এক শহরে ঘুরছিলেন। একাদিক্রমে কয়েকদিন তিনি এক বিচারকের আদালতে বসেন। তিনি দেখলেন, কেউই বিচার প্রার্থী হয়ে ঐ বিচারকের আদালতে আসে না। বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত এ অবস্থা লক্ষ্য করার পর যুলকারনাইন যখন এ বিচারক সম্বন্ধে কিছুই জানতে পারলেন না তখন তিনি ওখান থেকে ফিরে যেতে মনস্থ করেন। সেদিনই তিনি লক্ষ্য করলেন, দু’জন লোক বিচারপ্রার্থী হয়ে উক্ত বিচারকের নিকট এসেছে। একজন আরজি পেশ করে বলে যে, মাননীয় বিচারক! আমি ঐ ব্যক্তি থেকে একটি বাড়ি ক্রয় করে তা আবাদ করি। ঐ বাড়িতে আমি গুপ্ত ধনের সন্ধান পাই। আমি তাকে এটি নিয়ে যেতে বলি। কিন্তু সে তা নিয়ে যেতে অস্বীকার করে।

অপরজনকে উদ্দেশ্য করে বিচারক বলেন, এ ব্যাপারে তুমি কি বল? জবাবে সে বললো, আমি কখনো এ মাটির নিচে কোন সম্পদ লুকিয়ে রাখিনি এবং এ গুপ্তধন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। সুতরাং এটি আমার নয়। আমি তা গ্রহণ করব না। বাদী বলে, মাননীয় বিচারক। কাউকে আমার নিকট থেকে তা নিয়ে আসতে আদেশ করুন। তারপর আপনার যেখানে খুশী তা ব্যবহার করবেন। বিচারক বললেন, তুমি নিজে যে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে চাও আমাকে তার মধ্যে জড়াতে চাচ্ছো? তুমি আমার প্রতি সুবিচার করনি। আমি মনে করি, দেশের আইনেও এরূপ বিধান নেই। বিচারক আরও বললেন, আচ্ছা, আমি কি এমন একটি ব্যবস্থা করব যাতে তোমাদের উভয়ের প্রতি ইনসাফ হয়। তারা বললো, অবশ্যই।

বিচারক বাদীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমার কি কোন পুত্র সন্তান আছে? সে বললোঃ জ্বী, হ্যাঁ। অপরজনকে বললেন, তোমার কি কোন কন্যা সন্তান আছে? সে বললোঃ জী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, দু'জনেই যাও তোমার মেয়েকে তার ছেলের সাথে বিবাহ দিয়ে দাও। এ সম্পদ থেকে তাদের বিবাহের ব্যয় নির্বাহ করবে। আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা তাদেরকে দিয়ে দেবে। সেটি দ্বারা তারা তাদের সংসার চালাবে। তাহলে দু'জনেই এ ধনের লাভ-ক্ষতির সমান অংশীদার হবে।

বিচারকের রায় শুনে বাদশাহ যুলকারনাইন মুগ্ধ হলেন। তারপর বিচারককে ডেকে বললেন, আপনার মত এমন চমৎকার করে বিচার অন্য কেউ করতে পারে বলে আমার মনে হয় না। অন্য কোন বিচারক এমন ফয়সালা দিতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না। বিচারক বাদশাহকে চিনেননি। তিনি বললেন, কেউ কি এছাড়া অন্য কোন রায় দিতে পারে? যুলকারনাইন বললেন, হ্যাঁ, দেয়ই তো। বিচারক বললেন, তারপরও ওদের দেশে কি বৃষ্টি বর্ষিত হয়? একথা শুনে বিস্মিত হলেন যুলকারনাইন। তিনি মন্তব্য করলেন, এরূপ লোকের বদৌলতেই আসমান-যমীন এখনও টিকে রয়েছে।

রেফারেন্সঃ

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া
(ইসলামের ইতিহাসঃ আদি-অন্ত)
বঙ্গানুবাদ দ্বিতীয় খণ্ড (পৃষ্ঠা নাম্বারঃ ২৭৪)
লেখকঃ হাফিজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (রহঃ)

ঘটনা থেকে শিক্ষাঃ

১. সততা বান্দার এমন একটি শ্রেষ্ঠ গুণাবলি যার কারণে আল্লাহ বান্দাকে দুনিয়াতে সম্মানিত করেন এবং আখেরাতে করবেন ব্যাপকভাবে পুরস্কৃত।

উক্ত ঘটনার দু’ব্যক্তির মাঝে আমরা সততার এক আদর্শস্থানীয় দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। আমরা দেখতে পাই যে, দু’জন ব্যক্তিই তাদের জ্ঞান বহির্ভূত সম্পত্তি (মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত স্বর্ণের কলসি) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে যেহেতু তারা দু’জনই জানত যে উক্ত সম্পত্তি তাদের নয়।

২. উক্ত ঘটনাটি আমাদেরকে পার্থিব সম্পদের মোহগ্রস্ততা থেকে বিমুখ হতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করে।

মানুষের একটি স্বাবাবিক প্রবৃত্তি হলো সে সম্পদকে ভালোবাসবে এবং স্বর্ণ, রৌপ্য ও দুনিয়ার অন্যান্য সম্পদে সম্পদশালী হতে চাইবে।

আল্লাহ (সুবঃ) কুরআনে বলছেনঃ নারী জাতি, সন্তান সন্তুতি, কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা রুপা, পছন্দসই ঘোড়া, গৃহপালিত জন্তু ও জমিনের ফসলকে (সব সময়ই) মানব সন্তানের জন্যে লোভনীয় করে রাখা হয়েছে। এ সব হচ্ছে পার্থিব জীবনেরে ভোগের সামগ্রী (মাত্র! স্থায়ী জীবনের) উৎকৃষ্ট আশ্রয় তো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে। [সূরা আলে ইমরানঃ ১৪]

এটা আবশ্যক নয় যে, একজন মানুষ পার্থিব সম্পদের প্রতি তার ভালোবাসাকে ত্যাগ করবে। কিন্তু এটা অত্যাবশ্যক যে, সে অবশ্যই সম্পদের প্রতি তার ভালোবাসাকে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা তথা তাঁর আদেশ-নিষেদের আজ্ঞাধীন করবে। ফলে সে হারাম উপায়ে সম্পদ উপার্জন থেকে বিরত থাকবে এবং হালাল উপায়ে সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রেও সে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে ও প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ ও সম্মান উপার্জনের চেষ্টায় রত থেকে আল্লাহ প্রদত্ত অলঙ্গনীয় (ফরজ) আদেশ-নিষেদের প্রতি অবজ্ঞা বা অবহেলা প্রদর্শন করবেনা।

৩. ইসলামি শরীয়ত বহির্ভূত কাজকর্ম এবং সন্দেহজনক বস্তু ও আচরণ থেকে দূরে থাকা তাকওয়া বা আল্লাহভীতির পরিচয়। উক্ত ঘটনায় ক্রেতা-বিক্রেতা দু’জনের চরিত্রেই আমরা তাকওয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করি। আমরা দেখতে পাই দু'জন ব্যক্তিই মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত স্বর্ণের কলসীর মালিকানা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে যেহেতু তারা জানত উক্ত স্বর্ণের কলসির প্রকৃত মালিক তারা নয়।

৪. উক্ত ঘটনাটি আমাদেরকে এ শিক্ষাও দেয় যে, আমরা যখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ছোট-বড় বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে মতানৈক্যে পৌঁছে যাই তখন যেন আমরা তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে আমাদের মধ্যে বিচারক হিসেবে নিয়োগ করি। বিচারক অবশ্যই বিচার ফায়সালা করবেন ইসলামী শরীয়তের ভিত্তিতে এবং তিনি হবেন একজন ঈমানদার, তাকওয়াবান ও জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি তার জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করবেন এবং ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করবেন।

৫. হালাল উপায়ে, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সম্মান উপার্জনের চেষ্টা করা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা মানুষের একটি অতি উত্তম গুণ।

সম্পদ ও সম্মান দুনিয়াতে মানুষের জন্য আল্লাহর পরীক্ষাস্বরূপ। কেননা উক্ত সম্পদ ও সম্মান কোন পথে অর্জিত হয়েছে এবং কিভাবে তা ব্যয়িত হয়েছে তার পরিপূর্ণ হিসাব বান্দাকে আল্লাহর নিকট দিতে হবে। আল্লাহ যাকে পার্থিব জীবনে অঢেল সম্পত্তি দান করেন তার যথাযথ ব্যবহার যেমন তাকে আখিরাতে ব্যপকভাবে সম্মানিত করবে তেমনি এর অপব্যবহার তাকে ঢেলে দেবে জাহান্নামের অতল গহ্বরে।

৬. আমরা সম্পদ ও সম্মান কে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করব। প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ ও সম্মানের হিসেব থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইব। আমরা মুমিনদের মতো করে এই দোয়া করব যে, “হে আল্লাহ, আমাকে এই পার্থিব সম্পদের খুব বেশীও দিও না আবার খুব কমও দিও না যেন আমি আমার সীমা অতিক্রম না করি এবং আমার দায়িত্বগুলোও ভুলে না যাই। চিত্তবিনষ্টকারী সম্পদের প্রাচুর্যতার চাইতে স্বল্প কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্পদ উত্তম”।

আল্লাহ আমাদেরকে উক্ত দু’ব্যক্তির মতো সৎ চরিত্রের অধিকারী, তাকওয়াবান, নির্লোভ, আমানতদার ও নিয়ামতের শোকরগোজারী হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

সম্পাদনাঃ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশকারী বান্দার সাথে আল্লাহর কথোপকথন
হাদীসের গল্প

সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশকারী বান্দার সাথে আল্লাহর কথোপকথন

মুমিন তার পাপের কারণে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে। কিন্তু তার ঈমানের কারণে এক সময় সে জান্নাতে যাবে। জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা ও বান্দার…

তাহলে সে নামায শেষ করার পর সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়
হাদীসের গল্প

তাহলে সে নামায শেষ করার পর সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়

হযরত আমর ইবনে আবাসা (রাঃ) বলেন, জাহেলী যুগে আমি যখন মানুষকে মূর্তিপূজা করতে দেখতাম আমার কাছে মনে হত, নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট। এদের এ সকল কাজ সম্পূর্ণ…

হযরত হাতেব ইবনে আবী বালতায়া (রাঃ) ও সারা নান্মী গায়িকার ঘটনা
হাদীসের গল্প

হযরত হাতেব ইবনে আবী বালতায়া (রাঃ) ও সারা নান্মী গায়িকার ঘটনা

বদর যুদ্ধের পর মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কার সারা নান্মী একজন গায়িকা প্রথমে মদীনায় আগমন করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা…