মুসা (আঃ) ও মেষ পালক
৬ মিনিটে পড়ুন২৫ মে ২০২১

হযরত মূসা আলাইহেস সালামের যুগের কথা। একদিন হযরত মূসা নবী এক পাহাড়ী পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় রাস্তার পাশ থেকে একটি করুন আওয়াজ তার কানে এলো। ব্যাপার কি দেখার জন্য যেদিক থেকে আওয়াজ আসছে সেদিকে তিনি এগিয়ে গেলেন এবং একটি টিলার পাশে দেখতে পেলেন যে, সরল সাদাসিদে মেষ পালক আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে মুনাজাত ও কান্নাকাটি করছে। মেষ পালক আল্লাহর উদ্দেশ্যে বলছে, “হে আমার প্রভু! যদি জানতাম তুমি কোথায় থাকো তাহলে আমি নিজেই তোমার কাছে ছুটে গিয়ে তোমার গোলামী করতাম, তোমার মাথার চুলে তেল দিয়ে ভাঁজ করে দিতাম, তোমার জুতা সেলাই করতাম, তোমার কাপড়-চোপড় ধুয়ে দিতাম। হে খোদা, আমি তোমাকে খুব ভালবাসি। যদি তোমাকে কখনো দেখতে পাই তাহলে তোমার পদতলে আমার জান কোরবান করে দেবো। আমার সকল ভেড়া, ছাগল ও দুম্বা তোমাকে দিয়ে দেবো। হে খোদা, আমি তোমার ঠিকানা জানতে চাই, পনির, তেলে ভাজা রুটি ও দুধ নিয়ে যাবো। প্রতিদিন তোমার কাছে যাবো, তোমার যত কাজ আছে সব করে দেবো, তোমার ঘর-দুয়ার ঝাড়ু দেবো, তুমি অসুস্থ হলে তোমার সেবা করবো .....................”
মেষ পালক এভাবে তার মনের কথা গুনগুনিয়ে বলে যাচ্ছিলো। হযরত মূসা (আঃ) মেষ পালকের এসব কথায় চটে গেলেন। তার সামনে গিয়ে তাকে ডেকে বললেনঃ হে আল্লাহর বান্দা, এসব কি যা’তা কথা বলছো? এসব কথা কুফরি কালাম; এসব কথা বলা গুনাহ। এসব খারাপ কথা। তোমাকে তওবা করতে হবে। আর কক্ষণো এসব কথা মুখে আনবে না। শিগগির কথা থামাও, মুখ বন্ধ করো।
মেষ পালক বললো, তুমি কে? এখানে এসে নাক গলাচ্ছো কেনো? আমি তো কোন খারাপ কথা বলছি না। আমি মুনাজাতে মশগুল, নিজের প্রভুর ইবাদত করছি। আমি খোদা-পরাস্ত, খোদা পূজারী। তবে তুমি কি খোদা পরাস্ত নও?
মূসা নবী বললেন, নিশ্চয়ই আমি খোদা পরাস্ত। কি করে সম্ভব যে, আমি খোদা পরাস্ত নই। আমি নিজেই মানুষকে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী শিক্ষা দেই। আমি বলছি না যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করো না। কিন্তু আমরা যে খোদার উপাসনা করি তার ঘর নেই, জায়গা নেই, শরীর নেই, কাপড়-চোপড় নেই, হাত-পা নেই, মাথা নেই, পেট নেই, খাদ্যের প্রয়োজন নেই, অক্ষম ও অভাবী নন। তুমি এ সমস্ত কথা যা বলছো, যে কেউ তা বলবে সে কাপের হয়ে যাবে। সে ধর্ম থেকে খারেজ হয়ে যাবে। আল্লাহর তো কোন কিছুরই অভাব ও চাহিদা নেই।
মেষ পালক রাখাল এ কথা শুনে খুব পেয়ে গেলো এবং লজ্জিত হয়ে বললো, তবে এই খোদা, যার তরে জীবন বিলিয়ে দিতে চাই সে কেমন মানুষ যে, তার কিছুই নেই, আবার কোন কিছুর প্রয়োজনও নেই? মূসা নবী বললেন, আল্লাহ মানুষের মতো নন। এক অদ্বিতীয় খোদা সব কিছুর ঊর্ধ্বে ও সবার সেরা। কোন কিছুই তার মতো নয়। খোদাকে চোখে দেখা যায় না। সবখানেই তিনি আছেন, তবে কোন কিছুর সাথেই মিশ্রিত নন, আবার কোন কিছু থেকেই পৃথক নন। সব ক্ষমতা তার হাতেই। এই হচ্ছেন সেই খোদা আমরা যার ইবাদত বন্দেগী করি।
মেষ পালক বললো, যাও বাবা! আমি এসব কিছু বুঝি না। আমি আল্লাহকে ভালবাসি, তার জন্য জান বিলিয়ে দেবো, তার খেদমত করতে চাই, তার পায়ের ধূলি আমার চোখে মাখবো। যাও যাও, তুমি আবার কোন ছার যে, আমাকে খোদা সম্পর্কে ভয় দেখাতে এসেছো?
মূসা (আঃ) বললেন, আরে বাবা আমি মূসা, আল্লাহর পয়গম্বর। আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে ভাল কাজ চান। যদি খোদার খেদমত করতে চাও তাহলে মানুষের উপকার করো, কারো ক্ষতি করো না। খোদা এটাই চান। নিজের জন্য কিছুই চান না। কেউ আল্লাহকে দেখতেও পায় না। তুমি যে সব কথা বলেছো তা থেকে তওবা করো, আর এসব কথা বলো না, এসব কথায় গুনাহ হয়। আমার ভয় হচ্ছে, তুমি যেসব কথা বলছো তাতে আল্লাহর রাগ হবে এবং আল্লাহ আসমানী বালামুসিবত নাজিল করবেন, অগ্নি বৃষ্টি হবে হবে ও সৃষ্টিকে পুড়িয়ে মারবেন। যদি আরেকবার এ ধরনের কথা বলো ধর্ম থেকেই বিচ্যুৎ হয়ে যাবে এবং আল্লাহ তোমাকে অপছন্দ করবেন।
মেষ পালক ভয়ে ও অনুতাপে মাথা চাপড়াতে লাগলো। নিজের জামা নিজেই ছিঁড়ে ফেললো। দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলো এবং মুসার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে কান্নারত অবস্থায় মরুভূমির দিকে ছুটে চললো এবং দেখতে দেখতে অদৃশ্য হয়ে গেলো।
হযরত মূসা আলাইহেসসালামও এ দুঃখজনক পরিস্থিতির কারণে কষ্ট পেলেন আর ভাবতে লাগলেন কি করে এ ধরনের সহজ সরলমনা সাদাসিদা মানুষকে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান দান করা যায়। তিনি খুবই বিচলিত হয়ে পড়লেন। এমনি সময় আল্লাহর তরফ থেকে মূসা নবীর কাছে ওহী নাজিল হলো। আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মূসা, তুমি তোমার এই আচরণ দিয়ে আমার বান্দাকে আমার কাছ থেকে দূর করে দিলে। তুমি এজন্যে নবী হয়েছো যে, লোকজনকে আমার নিকটবর্তী করবে, তাদের নিরাশ করার জন্য নয়। হে মূসা, আমি চাই মানুষ খোদার স্মরণ করুক ও তার উপর আশা-ভরসা রাখুক। শিক্ষিতরা ভালোভাবে কথাবার্তা বলতে পারে। কিন্তু সাদাসিধে অন্তরের মানুষেরও খোদার ইবাদত করা আবশ্যক। মানুষের আমল-আখলাক ভালো হওয়া চাই। উত্তম কথাবার্তা সবাই জানে না। অন্তর ও দীল আল্লাহর সাথে থাকলে বাকি কাজও ঠিক হয়ে যাবে। আমি তোমাকে পাঠিয়েছি, তুমি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান জানাবে এবং তাদের অন্তরকে ঈমানের নূরে আলোকিত করবে। এই মেষ পালক যাই করুক না কেনো আমার দোস্ত ছিলো এবং খোদার দিকে মুখ ফিরিয়ে ছিলো।কিন্তু তুমি তার মন ভেঙ্গে দিয়েছো, হে মূসা........................।
যেনো হযরত মূসাকে বলা হলো, হে মূসা, দুনিয়াতে এমন অনেক লোক আছে যারা আল্লাহকে না দেখেই ঈমান আনে, দ্বীন, পয়গম্বর ও কিতাবে বিশ্বাস স্থাপন করে। আবার কেউ কেউ আছে যারা আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তি পূজা করে, সাপ পূজা করে, বাছুর পূজা করে ও অন্যান্য কিছুর পূজা করে যা মানুষের আক্কেল বুদ্ধি সায় দেয় না। বীর পুরুষ সেই, যে ঐসব গুমরাহদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত করে। মূর্তি পূজারীদের ছেড়ে দিয়ে ঐ বীর আল্লাহর উপাসকদের মনে কক্ষণো আঘাত হানে না।
ততক্ষণে হযরত মূসা আলাইহেসসালাম মেষ পালককে যা বলেছিলেন সে ব্যাপারে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলেন। লজ্জা ও অনুতাপ তাকে ঘিরে ধরলো আর সাথে সাথেই চললেন ঐ মেষ পালকের উদ্দেশ্যে । রাখাল যে পথে অদৃশ্য হয়েছেন সে পথে অনেক ছুটাছুটির পর শেষ পর্যন্ত তার দেখা পেলেন। তাকে বললেন, হে মেষ পালক! তুমি খুবই ভাগ্যবান। আল্লাহ্র তরফ থেকে নির্দেশ এসেছে। আমি তোমাকে শক্তভাবে বুঝিয়েছি, যাও এখন আর কোন বাধা নেই।
হে মেষ পালক, তুমি খোদার সাথে থাকো, যেখানে যে অবস্থায়ই থাকো না কেনো খোদাকে স্মরণ করো। যে ভাষাতে যে কথাতেই খোদাকে ডাকো না কেনো খোদা তা কবুল করবেন। আল্লাহ্ সত্যকে চিনেন, নিয়তকে জানেন। তিনি তোমার দিলের পবিত্রতাকে পছন্দ করেছেন।
মেষ পালক আক্ষেপ করে বললেন, হে মূসা আমার দফা-রফা হয়ে গেছে। আমি অনুতাপে এতোই ভস্মীভূত হয়েছি যে, যা জানতাম না তা জেনে গেছি। যে আল্লাহ সব কিছু জানেন তিনি আমার দীলের বর্তমান অবস্থাও ভালো করে জানেন। আমি জানি যে, আমার দীল আল্লাহ্র সাথে আছে, আমি গুনাহগার নই। আমার মুখ যদি সুন্দর সুন্দর কথা বলতে না জানে তাহলে এমুখ বন্ধই করে দেবো, আমার আর বলার কিছু নেই; ওয়াসসালাম।
মেষ পালক এভাবে তার মনের কথা গুনগুনিয়ে বলে যাচ্ছিলো। হযরত মূসা (আঃ) মেষ পালকের এসব কথায় চটে গেলেন। তার সামনে গিয়ে তাকে ডেকে বললেনঃ হে আল্লাহর বান্দা, এসব কি যা’তা কথা বলছো? এসব কথা কুফরি কালাম; এসব কথা বলা গুনাহ। এসব খারাপ কথা। তোমাকে তওবা করতে হবে। আর কক্ষণো এসব কথা মুখে আনবে না। শিগগির কথা থামাও, মুখ বন্ধ করো।
মেষ পালক বললো, তুমি কে? এখানে এসে নাক গলাচ্ছো কেনো? আমি তো কোন খারাপ কথা বলছি না। আমি মুনাজাতে মশগুল, নিজের প্রভুর ইবাদত করছি। আমি খোদা-পরাস্ত, খোদা পূজারী। তবে তুমি কি খোদা পরাস্ত নও?
মূসা নবী বললেন, নিশ্চয়ই আমি খোদা পরাস্ত। কি করে সম্ভব যে, আমি খোদা পরাস্ত নই। আমি নিজেই মানুষকে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী শিক্ষা দেই। আমি বলছি না যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করো না। কিন্তু আমরা যে খোদার উপাসনা করি তার ঘর নেই, জায়গা নেই, শরীর নেই, কাপড়-চোপড় নেই, হাত-পা নেই, মাথা নেই, পেট নেই, খাদ্যের প্রয়োজন নেই, অক্ষম ও অভাবী নন। তুমি এ সমস্ত কথা যা বলছো, যে কেউ তা বলবে সে কাপের হয়ে যাবে। সে ধর্ম থেকে খারেজ হয়ে যাবে। আল্লাহর তো কোন কিছুরই অভাব ও চাহিদা নেই।
মেষ পালক রাখাল এ কথা শুনে খুব পেয়ে গেলো এবং লজ্জিত হয়ে বললো, তবে এই খোদা, যার তরে জীবন বিলিয়ে দিতে চাই সে কেমন মানুষ যে, তার কিছুই নেই, আবার কোন কিছুর প্রয়োজনও নেই? মূসা নবী বললেন, আল্লাহ মানুষের মতো নন। এক অদ্বিতীয় খোদা সব কিছুর ঊর্ধ্বে ও সবার সেরা। কোন কিছুই তার মতো নয়। খোদাকে চোখে দেখা যায় না। সবখানেই তিনি আছেন, তবে কোন কিছুর সাথেই মিশ্রিত নন, আবার কোন কিছু থেকেই পৃথক নন। সব ক্ষমতা তার হাতেই। এই হচ্ছেন সেই খোদা আমরা যার ইবাদত বন্দেগী করি।
মেষ পালক বললো, যাও বাবা! আমি এসব কিছু বুঝি না। আমি আল্লাহকে ভালবাসি, তার জন্য জান বিলিয়ে দেবো, তার খেদমত করতে চাই, তার পায়ের ধূলি আমার চোখে মাখবো। যাও যাও, তুমি আবার কোন ছার যে, আমাকে খোদা সম্পর্কে ভয় দেখাতে এসেছো?
মূসা (আঃ) বললেন, আরে বাবা আমি মূসা, আল্লাহর পয়গম্বর। আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে ভাল কাজ চান। যদি খোদার খেদমত করতে চাও তাহলে মানুষের উপকার করো, কারো ক্ষতি করো না। খোদা এটাই চান। নিজের জন্য কিছুই চান না। কেউ আল্লাহকে দেখতেও পায় না। তুমি যে সব কথা বলেছো তা থেকে তওবা করো, আর এসব কথা বলো না, এসব কথায় গুনাহ হয়। আমার ভয় হচ্ছে, তুমি যেসব কথা বলছো তাতে আল্লাহর রাগ হবে এবং আল্লাহ আসমানী বালামুসিবত নাজিল করবেন, অগ্নি বৃষ্টি হবে হবে ও সৃষ্টিকে পুড়িয়ে মারবেন। যদি আরেকবার এ ধরনের কথা বলো ধর্ম থেকেই বিচ্যুৎ হয়ে যাবে এবং আল্লাহ তোমাকে অপছন্দ করবেন।
মেষ পালক ভয়ে ও অনুতাপে মাথা চাপড়াতে লাগলো। নিজের জামা নিজেই ছিঁড়ে ফেললো। দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলো এবং মুসার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে কান্নারত অবস্থায় মরুভূমির দিকে ছুটে চললো এবং দেখতে দেখতে অদৃশ্য হয়ে গেলো।
হযরত মূসা আলাইহেসসালামও এ দুঃখজনক পরিস্থিতির কারণে কষ্ট পেলেন আর ভাবতে লাগলেন কি করে এ ধরনের সহজ সরলমনা সাদাসিদা মানুষকে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান দান করা যায়। তিনি খুবই বিচলিত হয়ে পড়লেন। এমনি সময় আল্লাহর তরফ থেকে মূসা নবীর কাছে ওহী নাজিল হলো। আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মূসা, তুমি তোমার এই আচরণ দিয়ে আমার বান্দাকে আমার কাছ থেকে দূর করে দিলে। তুমি এজন্যে নবী হয়েছো যে, লোকজনকে আমার নিকটবর্তী করবে, তাদের নিরাশ করার জন্য নয়। হে মূসা, আমি চাই মানুষ খোদার স্মরণ করুক ও তার উপর আশা-ভরসা রাখুক। শিক্ষিতরা ভালোভাবে কথাবার্তা বলতে পারে। কিন্তু সাদাসিধে অন্তরের মানুষেরও খোদার ইবাদত করা আবশ্যক। মানুষের আমল-আখলাক ভালো হওয়া চাই। উত্তম কথাবার্তা সবাই জানে না। অন্তর ও দীল আল্লাহর সাথে থাকলে বাকি কাজও ঠিক হয়ে যাবে। আমি তোমাকে পাঠিয়েছি, তুমি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান জানাবে এবং তাদের অন্তরকে ঈমানের নূরে আলোকিত করবে। এই মেষ পালক যাই করুক না কেনো আমার দোস্ত ছিলো এবং খোদার দিকে মুখ ফিরিয়ে ছিলো।কিন্তু তুমি তার মন ভেঙ্গে দিয়েছো, হে মূসা........................।
যেনো হযরত মূসাকে বলা হলো, হে মূসা, দুনিয়াতে এমন অনেক লোক আছে যারা আল্লাহকে না দেখেই ঈমান আনে, দ্বীন, পয়গম্বর ও কিতাবে বিশ্বাস স্থাপন করে। আবার কেউ কেউ আছে যারা আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তি পূজা করে, সাপ পূজা করে, বাছুর পূজা করে ও অন্যান্য কিছুর পূজা করে যা মানুষের আক্কেল বুদ্ধি সায় দেয় না। বীর পুরুষ সেই, যে ঐসব গুমরাহদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত করে। মূর্তি পূজারীদের ছেড়ে দিয়ে ঐ বীর আল্লাহর উপাসকদের মনে কক্ষণো আঘাত হানে না।
ততক্ষণে হযরত মূসা আলাইহেসসালাম মেষ পালককে যা বলেছিলেন সে ব্যাপারে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলেন। লজ্জা ও অনুতাপ তাকে ঘিরে ধরলো আর সাথে সাথেই চললেন ঐ মেষ পালকের উদ্দেশ্যে । রাখাল যে পথে অদৃশ্য হয়েছেন সে পথে অনেক ছুটাছুটির পর শেষ পর্যন্ত তার দেখা পেলেন। তাকে বললেন, হে মেষ পালক! তুমি খুবই ভাগ্যবান। আল্লাহ্র তরফ থেকে নির্দেশ এসেছে। আমি তোমাকে শক্তভাবে বুঝিয়েছি, যাও এখন আর কোন বাধা নেই।
হে মেষ পালক, তুমি খোদার সাথে থাকো, যেখানে যে অবস্থায়ই থাকো না কেনো খোদাকে স্মরণ করো। যে ভাষাতে যে কথাতেই খোদাকে ডাকো না কেনো খোদা তা কবুল করবেন। আল্লাহ্ সত্যকে চিনেন, নিয়তকে জানেন। তিনি তোমার দিলের পবিত্রতাকে পছন্দ করেছেন।
মেষ পালক আক্ষেপ করে বললেন, হে মূসা আমার দফা-রফা হয়ে গেছে। আমি অনুতাপে এতোই ভস্মীভূত হয়েছি যে, যা জানতাম না তা জেনে গেছি। যে আল্লাহ সব কিছু জানেন তিনি আমার দীলের বর্তমান অবস্থাও ভালো করে জানেন। আমি জানি যে, আমার দীল আল্লাহ্র সাথে আছে, আমি গুনাহগার নই। আমার মুখ যদি সুন্দর সুন্দর কথা বলতে না জানে তাহলে এমুখ বন্ধই করে দেবো, আমার আর বলার কিছু নেই; ওয়াসসালাম।
✦আরও পড়ুন

শিক্ষামূলক গল্প
এবারের হজ্বের ইমামকে বদমাশ বলা হচ্ছে কেন?

শিক্ষামূলক গল্প
বারসিসার কাহিনী – যেভাবে শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেয়
এটি জুরায়জের ঘটনার বিপরীত। জুরায়জ ছিলেন পুতঃপবিত্র আর বারসীসা ছিল পথ-ভ্রষ্ট। আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ كَمَثَلِ ٱلشَّيْطَٰنِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَٰنِ…

শিক্ষামূলক গল্প
মুক্তির জন্য নিজের সৎলোক হওয়াই যথেষ্ট নয়!
তাফসীরে বাহরে মুহীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইউশা ইবনে নূনের (আঃ) নিকট একবার ওহী এল যে, তোমার জাতির এক লক্ষ লোককে আযাবের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে। এদের…