সতী নারীর ইজ্জত হরনের চেষ্টা অত:পর যা ঘটল
৮ মিনিটে পড়ুন১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

বর্ণিত আছে যে, বনী ইসরাঈলের একজন বণিক লোক হজ্জ্বে যাওয়ার সময় তার স্ত্রীকে ভাইয়ের গৃহে রেখে যায়। কদিন পর সে মহিলাকে তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। মহিলা তার এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানায়। সে অনেক জবরদস্তি করেও মহিলাকে অপকর্মে রাজি করাতে পারেনি। এ দিকে শয়তানও বসে নেই। একদিন শয়তান মানুষ বেশে সেই লোকের কাছে এসে কু-কর্মে প্রলুব্ধ করে এবং তাকে এই পরামর্শ দেয় যে ‘‘যদি মহিলা তার মনের চাহিদা মেটাতে অসম্মতি জানায়, তবে তার উপর যিনার অপবাদ দিয়ে যেন প্রস্তরঘাত করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে।’’
শয়তানের প্রলোভনে সে পুনরায় মহিলার নিকট কুকর্মের প্রস্তাব দেয় এবং তার প্রস্তাবে সম্মতি না দিলে তার পরিণতি যে ভয়াবহ হবে, সে কথাও তাকে জানিয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও মহিলা রাজি হল না। সুতরাং পাষন্ড লোকটি মহিলার উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে পাথর মেরে হত্যা করার জন্য মহল্লার লোকদের কে নির্দেশ দেয়।
লোকজনেরা মহিলাকে নিয়ে দূরে এক জঙ্গলে প্রস্তরঘাত করে এবং মহিলার মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে জঙ্গলে এক পাশে ফেলে চলে আসে।
কিছুক্ষণ পর এক পথিক জঙ্গলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সে জঙ্গল থেকে মানুষের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিকটে গিয়ে সেই মহিলার হাত–পা খুলে মহিলাকে তার গৃহে নিয়ে আসে। ঐ রাতে লোকটির ঘরে একজন মেহমানের আগমন হয়। মেহমান ঐ সুন্দরী মহিলাকে দেখা মাত্রই তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। রাত যখন গভীর হয় এবং পাশের লোকেরা গভীর নিদ্রায় বিভোর হয় ,তখন আগন্তক মেহমান গৃহস্বামীর যুবতী কন্যাকে ঐ মহিলা মনে করে তার উপর অপকর্মের জন্য চড়াও হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও কুকর্মে রাজি করতে না পেরে মেয়েটিকে হত্যা করে।
প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্বামী ও তার স্ত্রী মনে করল ,এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডটি ঐ মহিলাই ঘটিয়েছে। সুতরাং তার স্ত্রী মহিলার উপর ক্রোধান্বিত হয়ে তার উপর শুরুকরে মারপিটের ঘূর্ণিঝড়। আধমরা করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। মহিলাটি ঘর থেকে বের হয়ে অজানা পথের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।
সে বিষন্ন মনে অজানা পথের উদ্দেশ্যে হেঁটে চলছিল আর নিজের অসহায়ত্বের কথা ভেবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছিল। কিছুদূর পথ অতিক্রম করার পর হঠাৎ সে দেখল, জনৈক লোককে তার ঋণের টাকা পরিশোধ করতে অপরাগ হওয়ায় তার মালিক তাকে শুলিতে চড়িয়ে হত্যা করতে প্রস্তুত। মহিলা লোকটির অসহায়ত্ব দেখে লোকটির প্রতি তার করুণা হল, তার কাছে কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে লোকটির ঋণের টাকা পরিশোধ করে তাকে মালিক থেকে মুক্ত করে দেয়। এতে লোকটি মহিলার নিকট অতিশয় কৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং তার বিনিময়ে সে মহিলার নিকট গোলাম হয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। তবে শয়তান ঘাড়ে সাওয়ার হলে সব উপকার, প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। তেমনি হয়েছিল তার বেলায়ও। মহিলা তার প্রতিশ্রুতিতে রাজি হয়ে পথের সফরে লোকটিকে সাথে নিয়ে চলে।
সমুদ্রপথে যাত্রার সময় জাহাজের একটি কক্ষে উভয়ে অবস্থান করে। হঠাৎ একদিন লোকটি মহিলার লাবণ্যময় চেহারা দেখে তার উপর আসক্ত হয়ে পড়ে এবং মহিলাকে কুকর্মে লিপ্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু মহিলা কিছুতেই তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ঐ জাহাজের পাশের একটি কক্ষে অপর একজন বণিক সফরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। গোলামটি মহিলাকে রাজি করতে না পেরে ক্ষোভে জ্বলে উঠে এবং চক্রান্ত করে লোকটি বলে যে, তার নিকট একজন অপূর্ব সুন্দরী দাসী মজুদ আছে, সে ঐ দাসীকে বিক্রি করবে। বণিক লোকটি মহিলার রূপলাবণ্য দেখে তার উপর আসক্ত হয়ে তাকে খরিদ করে নেয় এবং তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করে। মহিলা অনেক অনুনয় বিনয় করে বলল যে, আমি তার বাঁদী নই , বরং যে লোক আমাকে বাঁদী বলে বিক্রি করেছে সে-ই আমার কৃতদাস। সে তার মালিকের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায়, তার মালিক তাকে সাজা দিচ্ছিল। আমি ঐ টাকা পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করে এনেছি। লোকটি মহিলার কথায় কর্ণপাত না করে পাশবিক অত্যাচার করার জন্য তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
আল্লাহর কুদরত বোঝা বড় দায়। এমন সময় সমুদ্র থেকে এমন প্রবল ঘূর্ণিঝড় উঠে ফলে জাহাজ ডুবে যায়। মহিলাটি একটি কাঠের উপর ভাসতে থাকে। কাঠের উপর বসে আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে মগ্ন হয়ে যায় এবং সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আস্তে আস্তে করে সমুদ্রের ওপারে গিয়ে লাগে। যেখানে পৌঁছল সেটি অন্য একটি শহর । এ দুর্ঘটনায় বহুলোক মারা যায়। অনেকের খোঁজও পাওয়া যায়নি। কিন্তু জাহাজের ঐ বণিক লোকটিও কোন রকমে প্রাণে রক্ষা পায়।
মহিলাটি লোকালয়ে এসে জানতে পারে যে ,ঐ দেশের বাদশাহ অত্যন্ত সৎলোক ও আল্লাহভীরু। তখন মহিলাটি মনের মাঝে শান্তি পায়। মহিলাটি বাদশাহর নিকট এসে বলতে থাকে তার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সকল বিপদের কথা। বাদশাহ মনোযোগ সহকারে শুনেন ও তার কষ্টে নিজেও ব্যথিত হন এবং তাকে সান্ত্বনা দেন। মহিলাটিকে নেককার মনে করে শহরের উপকন্ঠে তার জন্য আলাদা করে পর্দা সহকারে একটি ঘর তৈরি করে দেন। মহিলা ঐ গৃহে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে নিয়োজিত রইল।
কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মহিলার ঈমানের কথা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল। দুঃখ- দুর্দশায় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তার নিকট দল বেঁধে আসতে লাগল। যে কেউ তার নিকট দোয়া চেয়েছে সেই সফলকাম হয়েছে। সে এখন ভাল বুযুর্গ মহিলা হিসাবে সবার কাছে আলোচিত ও প্রশংসিত। এদিকে মহিলার স্বামী হজ্বব্রত পালন করে দেশে প্রত্যাবর্তন করে ঘরে তার স্ত্রীকে না পেয়ে ভাইকে জিজ্ঞাসা করে। ভাই উত্তরে বলল, তুমি হজ্বে চলে যাওয়ার পর তোমার স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। তাই যিনার অপরাধে তাকে দন্ডিত করে পাথর মেয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার সাথে মহল্লার একদল লোকও সাক্ষী দিল। হাজী সাহেব ভাইয়ের কথায় চুপ রইল। কোন রকম প্রতি উত্তর করল না। যে যত কিছুই করুক না কেন, মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই দেখেন। অত্যাচারীর অত্যাচার, মজলুমের কান্না সবকিছুই দেখেন ও সু-বিচার করে আজাব গজব দিয়ে থাকেন। তেমনি ভাবে ঐ মজলুম মহিলার বিচার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন গজব তাদেরকে ঘেরাও করতে লাগল। কিছুদিন পর হাজী সাহেবের অত্যাচারী ভাইয়ের চক্ষু অন্ধ হয়ে যায়। তার সাথে যারা সাক্ষী দিয়েছিল তারাও দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে। দেশের খ্যাতিসম্পন্ন ডাক্তার দিয়ে তাদের চিকিৎসা করায়, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। তাদেরকে বিদেশে নিয়েও বিখ্যাত ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তাতেও তারা ব্যর্থ হয়। আসলে পাপের গজবের রোগী কি ঔষধে ভাল হয়। অবশেষে তারা হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসে। এই অবস্থায়ই তাদের দিনগুলো কাটতে থাকে।
এদিকে হাজী সাহেব পার্শ্ববর্তী দেশের জনৈক মহিলার ঈমান ও দোয়া কবুল হওয়ার সংবাদ জানতে পারে। তাই কালবিলম্ব না করে তার ভাই ও সকল অন্ধ লোকদের সাথে নিয়ে ঐ দরবেশ মহিলার নিকট যাওয়ার জন্য যাত্রা করে।
পথে সাক্ষাত হল ঐ লোকের সাথে যে গৃহস্বামীর যুবতী কন্যাকে ঐ সুন্দরী মহিলা মনে করে হত্যা করেছিল। সেও অর্ধাঙ্গ রোগে মুমূর্ষ অবস্থায় পৌঁছেছিল। সেও দেশের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করতে কোন রকম ত্রুটি করেনি। কিন্তু তাদের মতই ব্যর্থ হয়েছে। সেতো একই পাপের পাপী। সেও এখন দোয়ার জন্য মহিলা দরবেশ-এর কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সুতরাং হাজী সাহেব তাকেও সাথে নিয়ে নেয়। আরো কিছুদূর যাওয়ার পর দেখা গেল আরেকটি লোকের সাথে, যে লোকটির শুলীবিদ্ধ হয়ে জীবনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছিল। সে ঐ বিশ্বাসঘাতক অত্যাচারী লোক। সে ক্যান্সার রোগের গজবে ভুগছে। সেও মহিলার নিকট রোগমুক্তির দোয়ার জন্য গমনের অপেক্ষা করছিল। সে হাজী সাহেবকে বলল- আপনাদের সাথে আমিও যাব দোয়ার জন্য। হাজী সাহেব তাকেও সাথে নিলেন। দরবেশ মহিলার দেশে যাওয়ার জন্য একটি সমুদ্র পার হচ্ছে। জাহাজের মধ্যে যে বণিক লোকটি ঐ মহিলার সাথে কুকর্ম করতে চেয়েছিল। ঐ বণিক লোকটিও এখন বেঁচে আছে পঙ্গু অবস্থায়। সমুদ্র পার হয়ে হাজী সাহেবের সাক্ষাৎ হল ঐ পঙ্গু লোকটির সাথে। তাদের যাত্রার উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, আমরা দোয়ার জন্য যাচ্ছি আপনাদের দেশের দরবেশ মহিলার কাছে। পঙ্গু লোকটি বলল-আমিও দোয়ার জন্য মহিলার নিকট যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
হাজী সাহেব সবাইকে সাথে নিয়ে গন্তব্যস্থানে পৌঁছে গেল। মহিলা সেই রোগাক্রান্ত লোকদেরকে দেখে চিনে ফেলল এবং মহিলা পর্দার ভিতর থেকে বলল-তোমরা চিন্তা করে দেখেছ তোমাদের এমন অবস্থা কেন হয়েছে? সত্যি কি রোগ, না আল্লাহর গজব? তোমরা গভীরভাবে খেয়াল করে দেখ অতীতের পাপের কথা। তোমরা সকলে নিজ নিজ অপরাধের কথা আমার সামনে স্বীকার কর। তাহলে তোমাদের জন্য দোয়া করা হবে। এখানে রোগাক্রান্ত লোকেরা মহিলাকে দেখেনি বিধায় তাকে চিনতেও পারেনি। তাই মহিলার এ প্রস্তাবে তারা অসম্মতি জানায়। কিন্তু মহিলাও আরো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিল যে তারা যতক্ষণ নিজ নিজ অপরাধের কথা স্বীকার না করবে , ততক্ষণ দোয়াও করা হবে না। এখন তো তারা উপায়হীন। কাজেই তারা মহিলার কাছে কৃত অপরাধের কথা একের পর এক স্বীকার করতে লাগল। এদিকে মহিলা তার স্বামী হাজী সাহেবকে দেখামাত্রই চিনতে পারল। তাই সে পর্দার আড়াল থেকে বের হয়ে তার স্বামীর সাথে সাক্ষাৎ করল। হাজী সাহেব তাকে দেখামাত্রই অবাক হয়ে বলল- তুমি বেঁচে আছ? মহিলাটি বলল- হ্যাঁ, আমি বেঁচে আছি বলে শুরু করল তার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লোমহর্শক ঘটনাগুলোর বর্ণনা। হাজী সাহেবের চক্ষু দিয়ে তখন তপ্তঅশ্রু ঝরছে। মহিলা সাথে সাথে একথাও জানিয়ে দিল যে, ঐ রোগাক্রান্ত লোকেরাই তার শ্লীতাহানির অপচেষ্টা চালায়। তখন হাজী সাহেব তাদের প্রতি ক্ষেপে যায়। মহিলা হাজী সাহেবকে সান্ত্বনা দেয় যে তাদের পাপের জন্য নিজেরাই এখন ভুগছে, আমাদের কিছু করতে হবে না। আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাদের বিচার করেছেন। উপযুক্ত শ্বাস্তি দিয়েছেন। যা হোক, মহিলা লোকদেরকে বলল, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃত অপরাধের জন্য তওবা কর এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও। আল্লাহ হয়তো তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আমার পক্ষ থেকে তোমাদেরকে মাফ করে দিলাম। একথা বলে মহিলা তাদের জন্য দোয়া করলেন। তারা আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে রোগ থেকে মুক্তি পেল।
শয়তানের প্রলোভনে সে পুনরায় মহিলার নিকট কুকর্মের প্রস্তাব দেয় এবং তার প্রস্তাবে সম্মতি না দিলে তার পরিণতি যে ভয়াবহ হবে, সে কথাও তাকে জানিয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও মহিলা রাজি হল না। সুতরাং পাষন্ড লোকটি মহিলার উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে পাথর মেরে হত্যা করার জন্য মহল্লার লোকদের কে নির্দেশ দেয়।
লোকজনেরা মহিলাকে নিয়ে দূরে এক জঙ্গলে প্রস্তরঘাত করে এবং মহিলার মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে জঙ্গলে এক পাশে ফেলে চলে আসে।
কিছুক্ষণ পর এক পথিক জঙ্গলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সে জঙ্গল থেকে মানুষের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিকটে গিয়ে সেই মহিলার হাত–পা খুলে মহিলাকে তার গৃহে নিয়ে আসে। ঐ রাতে লোকটির ঘরে একজন মেহমানের আগমন হয়। মেহমান ঐ সুন্দরী মহিলাকে দেখা মাত্রই তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। রাত যখন গভীর হয় এবং পাশের লোকেরা গভীর নিদ্রায় বিভোর হয় ,তখন আগন্তক মেহমান গৃহস্বামীর যুবতী কন্যাকে ঐ মহিলা মনে করে তার উপর অপকর্মের জন্য চড়াও হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও কুকর্মে রাজি করতে না পেরে মেয়েটিকে হত্যা করে।
প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্বামী ও তার স্ত্রী মনে করল ,এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডটি ঐ মহিলাই ঘটিয়েছে। সুতরাং তার স্ত্রী মহিলার উপর ক্রোধান্বিত হয়ে তার উপর শুরুকরে মারপিটের ঘূর্ণিঝড়। আধমরা করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। মহিলাটি ঘর থেকে বের হয়ে অজানা পথের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।
সে বিষন্ন মনে অজানা পথের উদ্দেশ্যে হেঁটে চলছিল আর নিজের অসহায়ত্বের কথা ভেবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছিল। কিছুদূর পথ অতিক্রম করার পর হঠাৎ সে দেখল, জনৈক লোককে তার ঋণের টাকা পরিশোধ করতে অপরাগ হওয়ায় তার মালিক তাকে শুলিতে চড়িয়ে হত্যা করতে প্রস্তুত। মহিলা লোকটির অসহায়ত্ব দেখে লোকটির প্রতি তার করুণা হল, তার কাছে কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে লোকটির ঋণের টাকা পরিশোধ করে তাকে মালিক থেকে মুক্ত করে দেয়। এতে লোকটি মহিলার নিকট অতিশয় কৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং তার বিনিময়ে সে মহিলার নিকট গোলাম হয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। তবে শয়তান ঘাড়ে সাওয়ার হলে সব উপকার, প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। তেমনি হয়েছিল তার বেলায়ও। মহিলা তার প্রতিশ্রুতিতে রাজি হয়ে পথের সফরে লোকটিকে সাথে নিয়ে চলে।
সমুদ্রপথে যাত্রার সময় জাহাজের একটি কক্ষে উভয়ে অবস্থান করে। হঠাৎ একদিন লোকটি মহিলার লাবণ্যময় চেহারা দেখে তার উপর আসক্ত হয়ে পড়ে এবং মহিলাকে কুকর্মে লিপ্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু মহিলা কিছুতেই তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ঐ জাহাজের পাশের একটি কক্ষে অপর একজন বণিক সফরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। গোলামটি মহিলাকে রাজি করতে না পেরে ক্ষোভে জ্বলে উঠে এবং চক্রান্ত করে লোকটি বলে যে, তার নিকট একজন অপূর্ব সুন্দরী দাসী মজুদ আছে, সে ঐ দাসীকে বিক্রি করবে। বণিক লোকটি মহিলার রূপলাবণ্য দেখে তার উপর আসক্ত হয়ে তাকে খরিদ করে নেয় এবং তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করে। মহিলা অনেক অনুনয় বিনয় করে বলল যে, আমি তার বাঁদী নই , বরং যে লোক আমাকে বাঁদী বলে বিক্রি করেছে সে-ই আমার কৃতদাস। সে তার মালিকের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায়, তার মালিক তাকে সাজা দিচ্ছিল। আমি ঐ টাকা পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করে এনেছি। লোকটি মহিলার কথায় কর্ণপাত না করে পাশবিক অত্যাচার করার জন্য তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
আল্লাহর কুদরত বোঝা বড় দায়। এমন সময় সমুদ্র থেকে এমন প্রবল ঘূর্ণিঝড় উঠে ফলে জাহাজ ডুবে যায়। মহিলাটি একটি কাঠের উপর ভাসতে থাকে। কাঠের উপর বসে আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে মগ্ন হয়ে যায় এবং সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আস্তে আস্তে করে সমুদ্রের ওপারে গিয়ে লাগে। যেখানে পৌঁছল সেটি অন্য একটি শহর । এ দুর্ঘটনায় বহুলোক মারা যায়। অনেকের খোঁজও পাওয়া যায়নি। কিন্তু জাহাজের ঐ বণিক লোকটিও কোন রকমে প্রাণে রক্ষা পায়।
মহিলাটি লোকালয়ে এসে জানতে পারে যে ,ঐ দেশের বাদশাহ অত্যন্ত সৎলোক ও আল্লাহভীরু। তখন মহিলাটি মনের মাঝে শান্তি পায়। মহিলাটি বাদশাহর নিকট এসে বলতে থাকে তার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সকল বিপদের কথা। বাদশাহ মনোযোগ সহকারে শুনেন ও তার কষ্টে নিজেও ব্যথিত হন এবং তাকে সান্ত্বনা দেন। মহিলাটিকে নেককার মনে করে শহরের উপকন্ঠে তার জন্য আলাদা করে পর্দা সহকারে একটি ঘর তৈরি করে দেন। মহিলা ঐ গৃহে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে নিয়োজিত রইল।
কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মহিলার ঈমানের কথা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল। দুঃখ- দুর্দশায় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তার নিকট দল বেঁধে আসতে লাগল। যে কেউ তার নিকট দোয়া চেয়েছে সেই সফলকাম হয়েছে। সে এখন ভাল বুযুর্গ মহিলা হিসাবে সবার কাছে আলোচিত ও প্রশংসিত। এদিকে মহিলার স্বামী হজ্বব্রত পালন করে দেশে প্রত্যাবর্তন করে ঘরে তার স্ত্রীকে না পেয়ে ভাইকে জিজ্ঞাসা করে। ভাই উত্তরে বলল, তুমি হজ্বে চলে যাওয়ার পর তোমার স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল। তাই যিনার অপরাধে তাকে দন্ডিত করে পাথর মেয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার সাথে মহল্লার একদল লোকও সাক্ষী দিল। হাজী সাহেব ভাইয়ের কথায় চুপ রইল। কোন রকম প্রতি উত্তর করল না। যে যত কিছুই করুক না কেন, মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই দেখেন। অত্যাচারীর অত্যাচার, মজলুমের কান্না সবকিছুই দেখেন ও সু-বিচার করে আজাব গজব দিয়ে থাকেন। তেমনি ভাবে ঐ মজলুম মহিলার বিচার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন গজব তাদেরকে ঘেরাও করতে লাগল। কিছুদিন পর হাজী সাহেবের অত্যাচারী ভাইয়ের চক্ষু অন্ধ হয়ে যায়। তার সাথে যারা সাক্ষী দিয়েছিল তারাও দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে। দেশের খ্যাতিসম্পন্ন ডাক্তার দিয়ে তাদের চিকিৎসা করায়, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। তাদেরকে বিদেশে নিয়েও বিখ্যাত ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তাতেও তারা ব্যর্থ হয়। আসলে পাপের গজবের রোগী কি ঔষধে ভাল হয়। অবশেষে তারা হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসে। এই অবস্থায়ই তাদের দিনগুলো কাটতে থাকে।
এদিকে হাজী সাহেব পার্শ্ববর্তী দেশের জনৈক মহিলার ঈমান ও দোয়া কবুল হওয়ার সংবাদ জানতে পারে। তাই কালবিলম্ব না করে তার ভাই ও সকল অন্ধ লোকদের সাথে নিয়ে ঐ দরবেশ মহিলার নিকট যাওয়ার জন্য যাত্রা করে।
পথে সাক্ষাত হল ঐ লোকের সাথে যে গৃহস্বামীর যুবতী কন্যাকে ঐ সুন্দরী মহিলা মনে করে হত্যা করেছিল। সেও অর্ধাঙ্গ রোগে মুমূর্ষ অবস্থায় পৌঁছেছিল। সেও দেশের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করতে কোন রকম ত্রুটি করেনি। কিন্তু তাদের মতই ব্যর্থ হয়েছে। সেতো একই পাপের পাপী। সেও এখন দোয়ার জন্য মহিলা দরবেশ-এর কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সুতরাং হাজী সাহেব তাকেও সাথে নিয়ে নেয়। আরো কিছুদূর যাওয়ার পর দেখা গেল আরেকটি লোকের সাথে, যে লোকটির শুলীবিদ্ধ হয়ে জীবনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছিল। সে ঐ বিশ্বাসঘাতক অত্যাচারী লোক। সে ক্যান্সার রোগের গজবে ভুগছে। সেও মহিলার নিকট রোগমুক্তির দোয়ার জন্য গমনের অপেক্ষা করছিল। সে হাজী সাহেবকে বলল- আপনাদের সাথে আমিও যাব দোয়ার জন্য। হাজী সাহেব তাকেও সাথে নিলেন। দরবেশ মহিলার দেশে যাওয়ার জন্য একটি সমুদ্র পার হচ্ছে। জাহাজের মধ্যে যে বণিক লোকটি ঐ মহিলার সাথে কুকর্ম করতে চেয়েছিল। ঐ বণিক লোকটিও এখন বেঁচে আছে পঙ্গু অবস্থায়। সমুদ্র পার হয়ে হাজী সাহেবের সাক্ষাৎ হল ঐ পঙ্গু লোকটির সাথে। তাদের যাত্রার উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, আমরা দোয়ার জন্য যাচ্ছি আপনাদের দেশের দরবেশ মহিলার কাছে। পঙ্গু লোকটি বলল-আমিও দোয়ার জন্য মহিলার নিকট যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
হাজী সাহেব সবাইকে সাথে নিয়ে গন্তব্যস্থানে পৌঁছে গেল। মহিলা সেই রোগাক্রান্ত লোকদেরকে দেখে চিনে ফেলল এবং মহিলা পর্দার ভিতর থেকে বলল-তোমরা চিন্তা করে দেখেছ তোমাদের এমন অবস্থা কেন হয়েছে? সত্যি কি রোগ, না আল্লাহর গজব? তোমরা গভীরভাবে খেয়াল করে দেখ অতীতের পাপের কথা। তোমরা সকলে নিজ নিজ অপরাধের কথা আমার সামনে স্বীকার কর। তাহলে তোমাদের জন্য দোয়া করা হবে। এখানে রোগাক্রান্ত লোকেরা মহিলাকে দেখেনি বিধায় তাকে চিনতেও পারেনি। তাই মহিলার এ প্রস্তাবে তারা অসম্মতি জানায়। কিন্তু মহিলাও আরো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিল যে তারা যতক্ষণ নিজ নিজ অপরাধের কথা স্বীকার না করবে , ততক্ষণ দোয়াও করা হবে না। এখন তো তারা উপায়হীন। কাজেই তারা মহিলার কাছে কৃত অপরাধের কথা একের পর এক স্বীকার করতে লাগল। এদিকে মহিলা তার স্বামী হাজী সাহেবকে দেখামাত্রই চিনতে পারল। তাই সে পর্দার আড়াল থেকে বের হয়ে তার স্বামীর সাথে সাক্ষাৎ করল। হাজী সাহেব তাকে দেখামাত্রই অবাক হয়ে বলল- তুমি বেঁচে আছ? মহিলাটি বলল- হ্যাঁ, আমি বেঁচে আছি বলে শুরু করল তার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লোমহর্শক ঘটনাগুলোর বর্ণনা। হাজী সাহেবের চক্ষু দিয়ে তখন তপ্তঅশ্রু ঝরছে। মহিলা সাথে সাথে একথাও জানিয়ে দিল যে, ঐ রোগাক্রান্ত লোকেরাই তার শ্লীতাহানির অপচেষ্টা চালায়। তখন হাজী সাহেব তাদের প্রতি ক্ষেপে যায়। মহিলা হাজী সাহেবকে সান্ত্বনা দেয় যে তাদের পাপের জন্য নিজেরাই এখন ভুগছে, আমাদের কিছু করতে হবে না। আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাদের বিচার করেছেন। উপযুক্ত শ্বাস্তি দিয়েছেন। যা হোক, মহিলা লোকদেরকে বলল, তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃত অপরাধের জন্য তওবা কর এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও। আল্লাহ হয়তো তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আমার পক্ষ থেকে তোমাদেরকে মাফ করে দিলাম। একথা বলে মহিলা তাদের জন্য দোয়া করলেন। তারা আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে রোগ থেকে মুক্তি পেল।
✦আরও পড়ুন

নারী অঙ্গন
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আনুগত্যের মাধ্যমে বিবাহিত জীবনে প্রশান্তি আসে
দাম্পত্য সুখ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর আনুগত্য দ্বারা সুরক্ষিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে…
✦ নারী অঙ্গন ✦ইরানে হিজাব বিতর্ক থেকে উদ্ভুত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফসল
নারী অঙ্গন
ইরানে হিজাব বিতর্ক থেকে উদ্ভুত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফসল
হিজাব আইন লঙ্ঘনের অপরাধে পুলিশের হাতে আটক ২২ বছর বয়সী তরূণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কতিপয় পশ্চিমা সেকুলার মিডিয়া এবং…
✦ নারী অঙ্গন ✦বিবাহ বিচ্ছেদ এবং তথাকথিত নারী স্বাধীনতা
নারী অঙ্গন
বিবাহ বিচ্ছেদ এবং তথাকথিত নারী স্বাধীনতা
বিবাহ মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংসার জীবনে ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যধিক; সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন,…