মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah
নারী অঙ্গন

ইরানে হিজাব বিতর্ক থেকে উদ্ভুত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফসল

৩ মিনিটে পড়ুন২ অক্টোবর ২০২২
হিজাব আইন লঙ্ঘনের অপরাধে পুলিশের হাতে আটক ২২ বছর বয়সী তরূণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কতিপয় পশ্চিমা সেকুলার মিডিয়া এবং ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা হিজাববিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। তারা মুসলিম নারীদের উপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা প্রদত্ত মহান ইসলামী বাধ্যবাধকতা “হিজাব” কে প্রকাশ্য আক্রমণ করছে এবং তথাকথিত পোশাকের স্বাধীনতার দাবি করছে।

প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হলেও এই বিক্ষোভ মূলত ইরানের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকগোষ্ঠী ও তাদের নেতৃত্বাধীন সেকুলার প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নিষ্পেষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বিগত কয়েক বছর ধরে ইরানের একটি সাধারণ বাস্তবতা। চলমান বিক্ষোভ এই সেকুলার প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগনের ক্ষোভ প্রশমনের উপলক্ষ মাত্র। তথাকথিত ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা আয়াতুল্লাহ খোমেনী ও তার উত্তরসুরী শাসকগণ ইরানে আজ অবধি ইসলামের ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন করে নি। ইসলামকে বাস্তবায়ন করার পরিবর্তে ইরানের সেকুলার শাসকগোষ্ঠী শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছে এবং ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। যাজকশ্রেণী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC) মিলে ইরানে এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে যা শুধুমাত্র তাদের পরিবারের সদস্য এবং তাদেরকে ঘিরে থাকা ক্ষুদ্রগোষ্ঠীকে সমৃদ্ধ করেছে যাদের হাতে ইরানের মুষ্ঠিমেয় সম্পদ কুক্ষিগত হয়েছে ।

ইরানে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি ৪ জন ইরানি যুবকের ১ জন বেকার। প্রতি বছর ইরানের অর্থনীতির আকার ৯.৫ শতাংশ গতিতে হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে ইরান বহুমুখী সামাজিক সমস্যায় ভারাক্রান্ত। ইরানের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী মাদকাসক্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা্র মতে, বছরে ৩৫ লিটার বা তার বেশি অ্যালকোহল সেবনকারী জনগোষ্ঠীর দেশে হিসেবে ইরান বিশ্বের মধ্যে ১৯ তম। ইরানে মাথাপিছু আফিম আসক্তের সংখ্যাও বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

১৯৭৯ সালে মার্কিন সহায়তায় তথাকথিত ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানের শাসকগোষ্ঠী বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসলামী ভূখণ্ডে যেমনঃ আফগানিস্তান,সিরিয়া,লেবানন এবং ইরাকে আমেরিকান স্বার্থই রক্ষা করে যাচ্ছে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ, সিরিয়ায় মুসলিম গণহত্যায় কসাই বাশার সরকারকে সমর্থন এবং ইরাকে গোষ্ঠীগত যুদ্ধে(Sectarian War) প্রাত্যহিক হত্যাকন্ডগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কতৃক মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষিত করার কতিপয় জ্বলন্ত উদাহরণ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সমস্যা মোকাবেলায় এই যাজকশ্রেণী ইতিমধ্যে সর্বোতভাবে তাদের অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

ইরানের জনগোষ্ঠীর ৮০% এর বয়স ৩৫ বছরের কম যারা ইসলামী বিপ্লবের সময় জন্মই নেয় নি কিন্তু ৬০ বছরের বেশি বয়সী যাজকশ্রেণী দ্বারা শাসিত হচ্ছে! এই তরুণ জনগণের বিপ্লব সম্পর্কে কোন স্বচ্ছ ধারণাই নেই। এই জনসংখ্যাগত বিভেদ শুধুমাত্র ইরানের অদক্ষ যাজক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আরও বিক্ষোভের দিকে পরিচালিত করবে যারা (যাজকশ্রেণী) নিজেদের কুৎসিত চেহারা ঢাকতে ইসলামকে বাহ্যিক আবরণ হিসেবে ব্যবহার করছে।

সুতরাং, পশ্চিমা ব্যবস্থা ও আইন কানুনের উপর কতিপয় ইসলামিক আইন চাপিয়ে দিলেই তা কোন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে না। একটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং তার আদর্শিক উত্তরণ ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ না একটি মৌলিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে শাসন ও কতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলাম বিশ্বজগতের মালিক আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা’র পক্ষ থেকে নাযিলকৃত জীবনাদর্শ যা মানুষের প্রতিটি সমস্যার সমাধান দেয় এর আক্বীদা থেকে উৎসরিত চিন্তা ও পদ্ধতির মাধ্যমে। তাই ইসলামী জীবনাদর্শ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে এই জীবনাদর্শকে উম্মাহ তার কনসেপ্ট(Concept), ক্রাইটেরিয়া(Criteria) ও কনভিকশন(Conviction) হিসেবে গ্রহণ করে।

ফলশ্রুতিতে, খিলাফত রাষ্ট্রে জনগণকে বলপূর্বক শাসন করতে হয় না কিংবা কোন আইন কানুন জোড়পূর্বক চাপিয়ে দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আল্লাহ আল হাকিম(সর্বজ্ঞানী) এই শাসনব্যবস্থাকে মানবজাতির সকল সমস্যার পরিপুর্ণ সমাধান ও বরকত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাই খিলাফতের সুদীর্ঘ ১৪০০ বছরের ইতিহাসে জনগণকে শাসক কিংবা ইসলামী আইন কানুনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা যায় নি কিংবা নিরাপত্তার জন্য খিলাফত ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে দেখা যায়নি। বাস্তবে এর বিপরীত চিত্র ছিল, মানুষ আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালার ন্যায়বিচারের নির্ভরযোগ্য ও মানবিক ব্যবস্থার গন্ডিতে আশ্রয় চেয়েছিল।

✦আরও পড়ুন

সব দেখুন
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আনুগত্যের মাধ্যমে বিবাহিত জীবনে প্রশান্তি আসে
নারী অঙ্গন

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আনুগত্যের মাধ্যমে বিবাহিত জীবনে প্রশান্তি আসে

দাম্পত্য সুখ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর আনুগত্য দ্বারা সুরক্ষিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে…

নারী অঙ্গন

বিবাহ বিচ্ছেদ এবং তথাকথিত নারী স্বাধীনতা

বিবাহ মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংসার জীবনে ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যধিক; সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন,…

নারী অঙ্গন

নরসিংদী রেলস্টেশনে তরুণীর অশালীন পোশাক পরিধান এবং শরীয়াগত কারণে এটা অপছন্দ করা

নরসিংদী রেলস্টেশনে এক তরুণীকে হেনেস্তার ঘটনার কথা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে আপনারা গত কয়েকদিন প্রত্যক্ষ করেছেন। আজ একজন মুসলিম নারী তার পোশাকের কারণে…