নরসিংদী রেলস্টেশনে তরুণীর অশালীন পোশাক পরিধান এবং শরীয়াগত কারণে এটা অপছন্দ করা
৩ মিনিটে পড়ুন১০ জুন ২০২২
নরসিংদী রেলস্টেশনে এক তরুণীকে হেনেস্তার ঘটনার কথা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে আপনারা গত কয়েকদিন প্রত্যক্ষ করেছেন। আজ একজন মুসলিম নারী তার পোশাকের কারণে আরেকজন মুসলিম নারী কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয় কারণ সে শরীয়াগত কারণে এটা পছন্দ করেনি। আজ সেকুলার রাষ্ট্র আবার হেনস্তাকারী নারীকে রিমান্ডে নিয়ে হেনস্তা করছে।
এই ঘটনা নিয়ে সমাজের তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী তাদের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন।
নারী কি পোশাক পরবে, কোথায় যাবে, কি করবে এগুলো শুধুমাত্র নারীই নির্ধারণ করবে, সমাজ করবে না বা কোনো ব্যক্তি করবে না।
ছোট পোশক পরাই ধর্ষণের আসল কারণ নয়৷ সঠিক মানসিকতা, সম্মানবোধ এবং শালীন দৃষ্টিভঙ্গি দরকার৷
পোশাকই যদি মূল সমস্যা হয় তাহলে কোলের বাচ্চারা, হিজাব পরা মেয়েরা হেনেস্তার শিকার হয় কেন?
বিচারহীনতা নারীর প্রতি হেনেস্তার বা ধর্ষণের মূল কারণ।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ধর্ষণের অন্যতম কারণ।
একটা মেয়ে অশালীন কাপড়ে রাস্তায় বের হইসে। তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভেসে উঠছে আপনার চোখের সামনে! কোন পুরুষ ব্যক্তির মধ্যে যদি পৌরষত্ব থাকে তাহলে তার সুড়সুড়ি লাগবে এবং এইটা পুরুষদের জন্য স্বাভাবিক একটা নিয়ম যার মধ্যে পৌরষত্ব আছে। তাই পুরুষদের নোংরা মানসিকতার পাশাপাশি নারীর অশালীন পোশাক ও ধর্ষণের অন্যতম কারণ।
ভোগবাদী পুরুষেরা সব সময় চায় যে নারীরা যাতে খোলামেলা, কম বসনায় থাকে। বর্তমান সময়ে নাটক, সিনেমার মূল আকর্ষণ থাকে নারীদের শরীর এবং অন্তরঙ্গ মুহর্তসমূহ। নারী স্বাধীনতার নামে নারীদেরকে সস্তা পণ্যে তৈরী করা হয়েছে। নারীর শরীর নিয়ে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার অর্থ উপার্জন করছে যুক্তরাষ্ট্র। পর্ন ইন্ডাস্ট্রি হল যুক্তরাষ্ট্রর অন্যতম লাভজনক শিল্প।
প্রকৃত সমাধানকে আড়াল করে বিচারহীনতা, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, সঠিক মানসিকতা ইত্যাদি সমাধানকে নারী হেনস্তার কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। গণতান্ত্রিক সেকুলার এই সমাজে সৃষ্টিকর্তা থেকে সমস্যার সমাধান নেয়া হয় না। সেকুলার মানুষেরা নিজেদের মস্তিস্কপ্রসূত সমাধান দিয়ে সমাধান করতে গিয়ে আরো সমস্যা তৈরী করে।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্য পর্দার বিধান করেছেন যাতে সমাজে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনা কমে যায়।
হে নবী! তুমি মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। আর এটাই তাদের জন্য উত্তম। বস্ত্ততপক্ষে তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত’ (সুরা নূর ৩০)
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে ও নিজেদের দেহ-সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, কেবল সেসব অংশ ছাড়া যা আপনা আপনি প্রকাশিত হয়ে পড়ে। (সুরা নূর ৩১) বর্তমান সেকুলার ব্যবস্তা নারীকে পুরুষের বিপরীতে এবং পুরুষদেরকে নারীদের বিপরীতে দায়িত্ব, সম্পদ, ক্ষমতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় নামিয়েছে। ফলে নারী ও পুরুষদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। সামাজিক বন্ধনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আল্লাহ নারী ও পুরুষদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তি হিসেবে তাকওয়াকে ঠিক করে দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থে তাকওয়া সম্পন্ন বা মুত্তাকী হলো ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর নির্দেশসমূহ মেনে চলে। এছাড়াও পর্দা-বিধান সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করলে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, এ বিধানের পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের নৈতিক চরিত্রের হিফাযত হয়।
তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন।’ (সূরা হুজুরাত: ১৩)
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, নারী পর্দাবৃত থাকার বস্তু। যখন সে পর্দাহীন হয়ে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। (তিরমিযী: ১১৭৩)
‘দুনিয়ার অনেক সুবসনা ও সজ্জিতা নারী আখেরাতে বসনহীনা (উলঙ্গ বলে বিবেচিত) হবে।’ (বুখারি, মুয়াত্তা, তিরমিজি)
সেকূলার রাষ্ট্র হওয়ার কারণে আমাদের শরীয়া সংরক্ষিত হচ্ছে না বরং এক নারীর কারণে আরেক মুসলিম নারী অপদস্থ হচ্ছে। কাফেরদের জীবন ব্যবস্থা সুরক্ষিত হচ্ছে আর আমাদের নারীরা একের পর এক অপদস্থ হচ্ছে। যে ব্যবস্থার শিকার উভয় মুসলিম নারী সে ব্যবস্থার মুলোৎপাটন করে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এ অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।
এই ঘটনা নিয়ে সমাজের তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী তাদের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন।
নারী কি পোশাক পরবে, কোথায় যাবে, কি করবে এগুলো শুধুমাত্র নারীই নির্ধারণ করবে, সমাজ করবে না বা কোনো ব্যক্তি করবে না।
ছোট পোশক পরাই ধর্ষণের আসল কারণ নয়৷ সঠিক মানসিকতা, সম্মানবোধ এবং শালীন দৃষ্টিভঙ্গি দরকার৷
পোশাকই যদি মূল সমস্যা হয় তাহলে কোলের বাচ্চারা, হিজাব পরা মেয়েরা হেনেস্তার শিকার হয় কেন?
বিচারহীনতা নারীর প্রতি হেনেস্তার বা ধর্ষণের মূল কারণ।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ধর্ষণের অন্যতম কারণ।
একটা মেয়ে অশালীন কাপড়ে রাস্তায় বের হইসে। তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভেসে উঠছে আপনার চোখের সামনে! কোন পুরুষ ব্যক্তির মধ্যে যদি পৌরষত্ব থাকে তাহলে তার সুড়সুড়ি লাগবে এবং এইটা পুরুষদের জন্য স্বাভাবিক একটা নিয়ম যার মধ্যে পৌরষত্ব আছে। তাই পুরুষদের নোংরা মানসিকতার পাশাপাশি নারীর অশালীন পোশাক ও ধর্ষণের অন্যতম কারণ।
ভোগবাদী পুরুষেরা সব সময় চায় যে নারীরা যাতে খোলামেলা, কম বসনায় থাকে। বর্তমান সময়ে নাটক, সিনেমার মূল আকর্ষণ থাকে নারীদের শরীর এবং অন্তরঙ্গ মুহর্তসমূহ। নারী স্বাধীনতার নামে নারীদেরকে সস্তা পণ্যে তৈরী করা হয়েছে। নারীর শরীর নিয়ে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার অর্থ উপার্জন করছে যুক্তরাষ্ট্র। পর্ন ইন্ডাস্ট্রি হল যুক্তরাষ্ট্রর অন্যতম লাভজনক শিল্প।
প্রকৃত সমাধানকে আড়াল করে বিচারহীনতা, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, সঠিক মানসিকতা ইত্যাদি সমাধানকে নারী হেনস্তার কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। গণতান্ত্রিক সেকুলার এই সমাজে সৃষ্টিকর্তা থেকে সমস্যার সমাধান নেয়া হয় না। সেকুলার মানুষেরা নিজেদের মস্তিস্কপ্রসূত সমাধান দিয়ে সমাধান করতে গিয়ে আরো সমস্যা তৈরী করে।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্য পর্দার বিধান করেছেন যাতে সমাজে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনা কমে যায়।
হে নবী! তুমি মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। আর এটাই তাদের জন্য উত্তম। বস্ত্ততপক্ষে তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত’ (সুরা নূর ৩০)
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে ও নিজেদের দেহ-সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, কেবল সেসব অংশ ছাড়া যা আপনা আপনি প্রকাশিত হয়ে পড়ে। (সুরা নূর ৩১) বর্তমান সেকুলার ব্যবস্তা নারীকে পুরুষের বিপরীতে এবং পুরুষদেরকে নারীদের বিপরীতে দায়িত্ব, সম্পদ, ক্ষমতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় নামিয়েছে। ফলে নারী ও পুরুষদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। সামাজিক বন্ধনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আল্লাহ নারী ও পুরুষদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তি হিসেবে তাকওয়াকে ঠিক করে দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থে তাকওয়া সম্পন্ন বা মুত্তাকী হলো ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর নির্দেশসমূহ মেনে চলে। এছাড়াও পর্দা-বিধান সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করলে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, এ বিধানের পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের নৈতিক চরিত্রের হিফাযত হয়।
তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন।’ (সূরা হুজুরাত: ১৩)
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, নারী পর্দাবৃত থাকার বস্তু। যখন সে পর্দাহীন হয়ে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। (তিরমিযী: ১১৭৩)
‘দুনিয়ার অনেক সুবসনা ও সজ্জিতা নারী আখেরাতে বসনহীনা (উলঙ্গ বলে বিবেচিত) হবে।’ (বুখারি, মুয়াত্তা, তিরমিজি)
সেকূলার রাষ্ট্র হওয়ার কারণে আমাদের শরীয়া সংরক্ষিত হচ্ছে না বরং এক নারীর কারণে আরেক মুসলিম নারী অপদস্থ হচ্ছে। কাফেরদের জীবন ব্যবস্থা সুরক্ষিত হচ্ছে আর আমাদের নারীরা একের পর এক অপদস্থ হচ্ছে। যে ব্যবস্থার শিকার উভয় মুসলিম নারী সে ব্যবস্থার মুলোৎপাটন করে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এ অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।
✦আরও পড়ুন

নারী অঙ্গন
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আনুগত্যের মাধ্যমে বিবাহিত জীবনে প্রশান্তি আসে
দাম্পত্য সুখ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর আনুগত্য দ্বারা সুরক্ষিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে…
✦ নারী অঙ্গন ✦ইরানে হিজাব বিতর্ক থেকে উদ্ভুত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফসল
নারী অঙ্গন
ইরানে হিজাব বিতর্ক থেকে উদ্ভুত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফসল
হিজাব আইন লঙ্ঘনের অপরাধে পুলিশের হাতে আটক ২২ বছর বয়সী তরূণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কতিপয় পশ্চিমা সেকুলার মিডিয়া এবং…
✦ নারী অঙ্গন ✦বিবাহ বিচ্ছেদ এবং তথাকথিত নারী স্বাধীনতা
নারী অঙ্গন
বিবাহ বিচ্ছেদ এবং তথাকথিত নারী স্বাধীনতা
বিবাহ মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংসার জীবনে ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যধিক; সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন,…