সুলতান মাহমুদের বুদ্ধিমান গোলাম
৫ মিনিটে পড়ুন১৩ জুন ২০২০

একবার সুলতান মাহমুদ শিকারে বের হবার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি তার আমীর ওমরাহ ও সভাসদদের বিশজনকে দাওয়াত করলেন এবং সবাইকে তৈরি থাকার জন্য বললেন। পরের দিন শিকারের উদ্দেশ্যে সুলতান রওনা হলেন। শহর থেকে বের হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আমীর ওমরাহগণ দেখতে পেলেন যে, তাদের আগে আগে সুলতানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঘোড়া চালাচ্ছে আয়াজ। একজন কৃষ্ণাঙ্গ গোলাম তাদের আগে আগে ও সুলতানের পাশাপাশি চলায় তারা বিরক্ত হলেন। পরস্পর বলতে লাগলেন, “আমাদের মত জ্ঞানী-গুনী ও বুদ্ধিমান লোক থাকতে সুলতান কেন যে একজন কৃষ্ণাঙ্গ গোলামকে শিকারের ময়দানে নিয়ে এসেছে বুঝতে পারছি না। এর একটা বিহিত করতেই হবে।”
এরপর তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে এক আমীরকে সুলতানের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সুলতানকে কি বলতে হবে তাকে তাও বুঝিয়ে দেয়া হলো। নির্বাচিত লোকটি ঘোড়া হাঁকিয়ে সামনে গেলেন এবং সুলতানের অনুমতি নিয়ে তার পাশাপাশি চলতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তিনি সুলতানকে বললেন, “আমরা যদি জানতে পারতাম যে, আয়াজের প্রতি সুলতানের স্নেহের কারণ কি তাহলে হয়তো বিরক্ত হতাম না। কিন্তু এই যে অকারণে তাকে মান সম্মান দেয়া হচ্ছে এর ফলে সুলতানের প্রতি আমাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ কমে যেতে পারে।”
এ কথা শুনে সুলতান বললেনঃ আপনারা যেহেতু আয়াজকে মেনে নিতে পারছেন না তাহলে একটা পরীক্ষা হয়ে যাক। যদি আমার ভুল হয়ে থাকে তবে আমি তা জেনে যাবো। আর যদি আমি সঠিক কাজ করে থাকি তাহলে আপনারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন।”
এই বলে সুলতান হুকুম দিলেন সবাইকে দাঁড়িয়ে যেতে। এরপর তিনি মাঠের ডান দিকে বেশ কিছূ দূরের একটি গাছ দেখিয়ে আয়াজকে বললেন, আয়াজ শোন্, ঐ গাছটি দেখছিস তো? দৌড়ে ঐ গাছের তলায় গিয়ে গাছের দিকে মুখ করে দাঁড়াবি। যখন তরবারি ও বর্শার শব্দ পাবি কেবল তখনি তোর তরবারি গাছের তলায় রেখে ছুটে আসবি আমার কাছে।”
আয়াজ ‘জো হুকুম’ বলেই তার ঘোড়া ছুটালো গাছের দিকে। সুলতান মাহমুদ এ সময় আমীর ও সেনাপতিদের উদ্দেশ্যে বললেন, “শুনুন, আপনারা সবাই আমার কাছে প্রিয় ও সম্মানিত। আজ আমরা সবাই মিলে একটি সমস্যার সমাধান করতে চাই। আপনারা এক কাজ করুন, আপনাদের মধ্য থেকে এমন একজনকে আমীর নির্বাচিত করুন যার ওপর আপনাদের বিশ্বাস আছে। এ কাজটি দ্রুত শেষ করুন।”
এরপর সবাই মিলে সেই ব্যক্তিকেই আমীর নির্বাচিত করলেন যিনি এর আগে সবার পক্ষ থেকে আয়াজের ব্যাপারে সুলতানের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। সুলতান নবনির্বাচিত আমীরকে নিয়ে পঞ্চাশ কদম দূরে সরে গেলেন। এরপর বললেন, “ওই যে দূরের রাস্তা ধরে একটি কাফেলা পথ চলছে। আমি জানতে চাই কাফেলাটি কোথা থেকে এসেছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে খবর নিয়ে আসুন।”
সুলতানের নির্দেশ শুনে আমীর দ্রুত ঘোড়া ছুটালেন কাফেলার উদ্দেশ্যে। কাফেলার কাছে গিয়ে কাফেলার প্রধানের কাছ থেকে প্রশ্নের জবাব নিয়ে ফিরে এসে সুলতানকে জানালেন, কাফেলাটি খোরাসান থেকে এসেছে। সুলতান বললেন,বুঝতে পেরেছেন কি তারা কোথায় যাচ্ছে? আমীর বললেন- জিজ্ঞেস করিনি সুলতান।
সুলতান বললেন, বেশ ভাল কথা। আপনি আমার কাছেই দাঁড়িয়ে থাকুন।
সুলতান মাহমুদ এবার আরেকজন আমীরকে ডেকে বললেন, “ওই যে কাফেলাটি দেখছেন, দ্রুত সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসুন তারা কোথায় যাচ্ছে।”
আমীর দ্রুত ছুটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে এসে সুলতানকে জানালেন, কাফেলাটি মদীনা যাচ্ছে।
সুলতান জানতে চাইলেন, কাফেলায় কতজন লোক রয়েছে?
আমীর বললেন- জিজ্ঞেস করিনি সুলতান। সুলতান মাহমুদ বললেন-ঠিক আছে। আপনি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন।
এরপর সুলতান তৃতীয় আমীরকে ডেকে আনলেন এবং বললেন,”ওই যে কাফেলাটি দেখছেন, সেখানে গিয়ে দেখে আসুন তো কতজন লোক আছে ওই কাফেলায়?” আমীর দ্রুত সেখানে গেল এবং ফিরে এসে সুলতানকে জানাল, কাফেলায় ১৮০ জন লোক রয়েছে। সুলতান এবার জিজ্ঞেস করলেন, “তারা কি ব্যবসায়ী না মুসাফির? মদীনায় কি নিয়ে যাচ্ছে?” আমীর বললেন, তা তো জিজ্ঞেস করি নি। সুলতান বললেন- ঠিকাছে আপনি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন।
এভাবে সুলতান একে একে প্রত্যেক আমীরকে ডেকে একটি করে প্রশ্নসহ কাফেলার কাছে পাঠালেন এবং আমীরগণ যার যার প্রশ্নের জবাব এনে সুলতান মাহমুদকে জানালেন। সুলতান এরপর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, এখন আমরা আসল বিষয়ে আসব। আপনারা সবাই মিলে পরস্পরের তরবারি ও বর্শাগুলোতে আঘাত হানুন যাতে শব্দ শুনে আয়াজ ফিরে আসে।
সুলতানের হুকুমে সবাই তাই শুরু করলেন। ওদিকে আয়াজ শব্দ শোনামাত্র দ্রুত গাছের তলা থেকে ছুটে এল দলের কাছে। সুলতান সবার সামনেই বললেন,আয়াজ, ওই যে একটি কাফেলা পথ চলছে। আমি জানতে চাই কাফেলাটি কোত্থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে? দ্রুত খবর নিয়ে আয়।
আয়াজ ঘোড়া হাঁকিয়ে ছুটে গেল কিন্তু অন্যদের চেয়ে কিছু সময় দেরিতে ফিরে এলো। এরপর সুলতানকে লক্ষ্য করে বললঃ সুলতানের মঙ্গল হোক, কাফেলাটি খোরাসান থেকে মদীনার দিকে যাচ্ছে।
সুলতানঃ বুঝতে পারছিস কতজন লোক ?
আয়াজঃ জিজ্ঞেস করেছি, ১৭০ জন পুরুষ ও দশজন মহিলা।
সুলতানঃ তারা ব্যবসায়ী না মুসাফির ?
আয়াজঃ কিছু সংখ্যক মুসাফির হজ্ব করতে যাচ্ছে। আর বেশীর ভাগই ব্যবসায়ী।
সুলতানঃ খুবই ভাল হতো যদি জিজ্ঞেস করতি, তারা মদীনায় কি নিয়ে যাচ্ছে?
আয়াজঃ জিজ্ঞেস করেছি। তাদের কাচে রেশমী কাপড়, খোরাসানী ফরাশ-গালিচা, পাথরের থালাবাসন, পেস্তাবাদাম ও বিভিন্ন শুকনো ফলমূল রয়েছে।
সুলতানঃ তারা কবে রওনা হয়েছে বুঝতে পেরেছিস?
আয়াজঃ নিশ্চয়ই! তারা রজব মাসের সাত তারিখে রওনা হয়েছে, দুমাস যাবত পথ চলছে এবং এক সপ্তা ধরে এই শহরে কেনাকাটার জন্য অবস্থান করছে।
সুলতানঃ ঠিকাছে, বেশ ভাল কথা তোর তরবারি কই?
আয়াজঃ ওই গাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখেছি।
সুলতানঃ শিগগিরই তরবারি নিয়ে আয় । রওনা হতে হবে।
আয়াজ দূরে চলে যেতেই সুলতান মাহমুদ গজনভী আমীরদের বললেন,
সুলতানঃ আপনাদেরকে একটা কথা অবশ্যই বলা প্রয়োজন। আয়াজকে কেন ভালবাসি আপনারা তার কারণ জানতে চেয়েছেন আর পরীক্ষার ফলাফলও দেখেছেন। আপনারা বিশজন আমীর ওমরাহ ও সেনাপতি ছিলেন। অন্যদিকে আয়াজ এক কাফ্রী গোলাম। আমি আপনাদের প্রত্যেককে একেকটি প্রশ্ন দিয়ে পাঠিয়েছিলাম যা আয়াজ জানত না। কিন্তু আয়াজ যেভাবে অনুসন্ধান করে তথ্য নিয়ে এসেছে আপনারাও তা করতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। শুধু যার যার প্রশ্নের জবাবই এনেছেন। আমি চাই না আপনাদের কাউকে অপমান করতে। আপনারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন কাজের দক্ষতা ও ক্ষমতা রাখেন যা আয়াজের নেই। তবে সে যে কাজ জানে ও যা তার পক্ষে সম্ভব তা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবেই করে থাকে। এরপরও কি ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে?
সুলতানের কথা শুনে আমীরদের দলনেতা বললেন-না সুলতান আর ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা স্বীকার করছি, সুলতান সঠিক পথেই আছেন। যে কোনো লোক তার কাজ যত ছোট ও গুরুত্বহীনই হোক না কেন যদি তা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে আঞ্জাম দেয়, তাহলে স্থান-কাল ভেদাভেদে সে প্রিয় ও সম্মানিত হবেই এবং তাই হওয়া উচিত।
এরপর তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে এক আমীরকে সুলতানের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সুলতানকে কি বলতে হবে তাকে তাও বুঝিয়ে দেয়া হলো। নির্বাচিত লোকটি ঘোড়া হাঁকিয়ে সামনে গেলেন এবং সুলতানের অনুমতি নিয়ে তার পাশাপাশি চলতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তিনি সুলতানকে বললেন, “আমরা যদি জানতে পারতাম যে, আয়াজের প্রতি সুলতানের স্নেহের কারণ কি তাহলে হয়তো বিরক্ত হতাম না। কিন্তু এই যে অকারণে তাকে মান সম্মান দেয়া হচ্ছে এর ফলে সুলতানের প্রতি আমাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ কমে যেতে পারে।”
এ কথা শুনে সুলতান বললেনঃ আপনারা যেহেতু আয়াজকে মেনে নিতে পারছেন না তাহলে একটা পরীক্ষা হয়ে যাক। যদি আমার ভুল হয়ে থাকে তবে আমি তা জেনে যাবো। আর যদি আমি সঠিক কাজ করে থাকি তাহলে আপনারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন।”
এই বলে সুলতান হুকুম দিলেন সবাইকে দাঁড়িয়ে যেতে। এরপর তিনি মাঠের ডান দিকে বেশ কিছূ দূরের একটি গাছ দেখিয়ে আয়াজকে বললেন, আয়াজ শোন্, ঐ গাছটি দেখছিস তো? দৌড়ে ঐ গাছের তলায় গিয়ে গাছের দিকে মুখ করে দাঁড়াবি। যখন তরবারি ও বর্শার শব্দ পাবি কেবল তখনি তোর তরবারি গাছের তলায় রেখে ছুটে আসবি আমার কাছে।”
আয়াজ ‘জো হুকুম’ বলেই তার ঘোড়া ছুটালো গাছের দিকে। সুলতান মাহমুদ এ সময় আমীর ও সেনাপতিদের উদ্দেশ্যে বললেন, “শুনুন, আপনারা সবাই আমার কাছে প্রিয় ও সম্মানিত। আজ আমরা সবাই মিলে একটি সমস্যার সমাধান করতে চাই। আপনারা এক কাজ করুন, আপনাদের মধ্য থেকে এমন একজনকে আমীর নির্বাচিত করুন যার ওপর আপনাদের বিশ্বাস আছে। এ কাজটি দ্রুত শেষ করুন।”
এরপর সবাই মিলে সেই ব্যক্তিকেই আমীর নির্বাচিত করলেন যিনি এর আগে সবার পক্ষ থেকে আয়াজের ব্যাপারে সুলতানের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। সুলতান নবনির্বাচিত আমীরকে নিয়ে পঞ্চাশ কদম দূরে সরে গেলেন। এরপর বললেন, “ওই যে দূরের রাস্তা ধরে একটি কাফেলা পথ চলছে। আমি জানতে চাই কাফেলাটি কোথা থেকে এসেছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে খবর নিয়ে আসুন।”
সুলতানের নির্দেশ শুনে আমীর দ্রুত ঘোড়া ছুটালেন কাফেলার উদ্দেশ্যে। কাফেলার কাছে গিয়ে কাফেলার প্রধানের কাছ থেকে প্রশ্নের জবাব নিয়ে ফিরে এসে সুলতানকে জানালেন, কাফেলাটি খোরাসান থেকে এসেছে। সুলতান বললেন,বুঝতে পেরেছেন কি তারা কোথায় যাচ্ছে? আমীর বললেন- জিজ্ঞেস করিনি সুলতান।
সুলতান বললেন, বেশ ভাল কথা। আপনি আমার কাছেই দাঁড়িয়ে থাকুন।
সুলতান মাহমুদ এবার আরেকজন আমীরকে ডেকে বললেন, “ওই যে কাফেলাটি দেখছেন, দ্রুত সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসুন তারা কোথায় যাচ্ছে।”
আমীর দ্রুত ছুটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে এসে সুলতানকে জানালেন, কাফেলাটি মদীনা যাচ্ছে।
সুলতান জানতে চাইলেন, কাফেলায় কতজন লোক রয়েছে?
আমীর বললেন- জিজ্ঞেস করিনি সুলতান। সুলতান মাহমুদ বললেন-ঠিক আছে। আপনি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন।
এরপর সুলতান তৃতীয় আমীরকে ডেকে আনলেন এবং বললেন,”ওই যে কাফেলাটি দেখছেন, সেখানে গিয়ে দেখে আসুন তো কতজন লোক আছে ওই কাফেলায়?” আমীর দ্রুত সেখানে গেল এবং ফিরে এসে সুলতানকে জানাল, কাফেলায় ১৮০ জন লোক রয়েছে। সুলতান এবার জিজ্ঞেস করলেন, “তারা কি ব্যবসায়ী না মুসাফির? মদীনায় কি নিয়ে যাচ্ছে?” আমীর বললেন, তা তো জিজ্ঞেস করি নি। সুলতান বললেন- ঠিকাছে আপনি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন।
এভাবে সুলতান একে একে প্রত্যেক আমীরকে ডেকে একটি করে প্রশ্নসহ কাফেলার কাছে পাঠালেন এবং আমীরগণ যার যার প্রশ্নের জবাব এনে সুলতান মাহমুদকে জানালেন। সুলতান এরপর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, এখন আমরা আসল বিষয়ে আসব। আপনারা সবাই মিলে পরস্পরের তরবারি ও বর্শাগুলোতে আঘাত হানুন যাতে শব্দ শুনে আয়াজ ফিরে আসে।
সুলতানের হুকুমে সবাই তাই শুরু করলেন। ওদিকে আয়াজ শব্দ শোনামাত্র দ্রুত গাছের তলা থেকে ছুটে এল দলের কাছে। সুলতান সবার সামনেই বললেন,আয়াজ, ওই যে একটি কাফেলা পথ চলছে। আমি জানতে চাই কাফেলাটি কোত্থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে? দ্রুত খবর নিয়ে আয়।
আয়াজ ঘোড়া হাঁকিয়ে ছুটে গেল কিন্তু অন্যদের চেয়ে কিছু সময় দেরিতে ফিরে এলো। এরপর সুলতানকে লক্ষ্য করে বললঃ সুলতানের মঙ্গল হোক, কাফেলাটি খোরাসান থেকে মদীনার দিকে যাচ্ছে।
সুলতানঃ বুঝতে পারছিস কতজন লোক ?
আয়াজঃ জিজ্ঞেস করেছি, ১৭০ জন পুরুষ ও দশজন মহিলা।
সুলতানঃ তারা ব্যবসায়ী না মুসাফির ?
আয়াজঃ কিছু সংখ্যক মুসাফির হজ্ব করতে যাচ্ছে। আর বেশীর ভাগই ব্যবসায়ী।
সুলতানঃ খুবই ভাল হতো যদি জিজ্ঞেস করতি, তারা মদীনায় কি নিয়ে যাচ্ছে?
আয়াজঃ জিজ্ঞেস করেছি। তাদের কাচে রেশমী কাপড়, খোরাসানী ফরাশ-গালিচা, পাথরের থালাবাসন, পেস্তাবাদাম ও বিভিন্ন শুকনো ফলমূল রয়েছে।
সুলতানঃ তারা কবে রওনা হয়েছে বুঝতে পেরেছিস?
আয়াজঃ নিশ্চয়ই! তারা রজব মাসের সাত তারিখে রওনা হয়েছে, দুমাস যাবত পথ চলছে এবং এক সপ্তা ধরে এই শহরে কেনাকাটার জন্য অবস্থান করছে।
সুলতানঃ ঠিকাছে, বেশ ভাল কথা তোর তরবারি কই?
আয়াজঃ ওই গাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখেছি।
সুলতানঃ শিগগিরই তরবারি নিয়ে আয় । রওনা হতে হবে।
আয়াজ দূরে চলে যেতেই সুলতান মাহমুদ গজনভী আমীরদের বললেন,
সুলতানঃ আপনাদেরকে একটা কথা অবশ্যই বলা প্রয়োজন। আয়াজকে কেন ভালবাসি আপনারা তার কারণ জানতে চেয়েছেন আর পরীক্ষার ফলাফলও দেখেছেন। আপনারা বিশজন আমীর ওমরাহ ও সেনাপতি ছিলেন। অন্যদিকে আয়াজ এক কাফ্রী গোলাম। আমি আপনাদের প্রত্যেককে একেকটি প্রশ্ন দিয়ে পাঠিয়েছিলাম যা আয়াজ জানত না। কিন্তু আয়াজ যেভাবে অনুসন্ধান করে তথ্য নিয়ে এসেছে আপনারাও তা করতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। শুধু যার যার প্রশ্নের জবাবই এনেছেন। আমি চাই না আপনাদের কাউকে অপমান করতে। আপনারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন কাজের দক্ষতা ও ক্ষমতা রাখেন যা আয়াজের নেই। তবে সে যে কাজ জানে ও যা তার পক্ষে সম্ভব তা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবেই করে থাকে। এরপরও কি ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে?
সুলতানের কথা শুনে আমীরদের দলনেতা বললেন-না সুলতান আর ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা স্বীকার করছি, সুলতান সঠিক পথেই আছেন। যে কোনো লোক তার কাজ যত ছোট ও গুরুত্বহীনই হোক না কেন যদি তা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে আঞ্জাম দেয়, তাহলে স্থান-কাল ভেদাভেদে সে প্রিয় ও সম্মানিত হবেই এবং তাই হওয়া উচিত।
✦আরও পড়ুন

শিক্ষামূলক গল্প
এবারের হজ্বের ইমামকে বদমাশ বলা হচ্ছে কেন?

শিক্ষামূলক গল্প
মুসা (আঃ) ও মেষ পালক
হযরত মূসা আলাইহেস সালামের যুগের কথা। একদিন হযরত মূসা নবী এক পাহাড়ী পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় রাস্তার পাশ থেকে একটি করুন আওয়াজ তার কানে এলো। ব্যাপার…

শিক্ষামূলক গল্প
বারসিসার কাহিনী – যেভাবে শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেয়
এটি জুরায়জের ঘটনার বিপরীত। জুরায়জ ছিলেন পুতঃপবিত্র আর বারসীসা ছিল পথ-ভ্রষ্ট। আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ كَمَثَلِ ٱلشَّيْطَٰنِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَٰنِ…