সৎ লোকের দো‘আ (উয়াইস কারনীর (রহঃ) মর্যাদা সম্পর্কিত হাদীছ)
৪ মিনিটে পড়ুন ১ বার দেখা হয়েছে৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

এ পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে প্রেরণ করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। কিন্তু মানুষ তাদের কর্তব্য ভুলে গিয়ে বিভিন্ন অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত হয়। এরূপ মানুষ আল্লাহর নিকট ঘৃনিত এবং জনসমাজেও ধিকৃত। তবে যারা আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলে, তাঁর অনুগত থেকে ইবাদত-বন্দেগী করে, আল্লাহ তাদের ভালবাসেন, তাদের দো‘আ কবুল করেন। এ সম্পর্কেই নিম্নের হাদীছঃ
উসাইর ইবনু আমর মতান্তরে ইবনু জাবের থেকে বর্ণিতঃ
ইয়েমেনের বসবাসকারীদের পক্ষ থেকে উমার (রাঃ)-এর নিকট সাহায্যকারী দল আসলে তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করতেন, তোমাদের মাঝে উয়াইস ইবনু আমির আছে কি? অবশেষে (একদিন) উয়াইস (রহঃ) এসে গেলেন। তাকে তিনি (উমার) প্রশ্ন করলেন, আপনি কি উয়াইস ইবনু আমির? সে বলল হ্যাঁ। উমার (রাঃ) আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুরাদ’ সম্প্রদায়ের উপগোত্র ‘কারনের’ লোক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (উমার) জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি কুষ্ঠরোগ হয়েছিল, তা হ’তে সুস্থ হয়েছেন এবং মাত্র এক দিরহাম পরিমাণ স্থান বাকী আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (উমার) বললেন, আপনার মা জীবিত আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (উমার) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, ‘ইয়েমেনের সহযোগী দলের সাথে উয়াইস ইবনু আমির নামক এক লোক তোমাদের নিকট আসবে। সে ‘মুরাদ’ জাতির উপজাতি ‘কারনের’ লোক। তার কুষ্ঠরোগ হবে এবং তা হ’তে সে মুক্তি পাবে, শুধুমাত্র এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ছাড়া। তার মা বেঁচে আছে, সে তার মায়ের খুবই অনুগত। সে (আল্লাহর উপর ভরসা করে) কোন কিছুর শপথ করলে তা আল্লাহ তা‘আলা পূরণ করে দেন। তুমি যদি তাকে দিয়ে তোমার গুনাহ মাফের জন্য দো‘আ করাবার সুযোগ পাও তাহ’লে তাই করবে’। উমার (রাঃ) বললেন, কাজেই আমার গুনাহের ক্ষমার জন্য আপনি দো‘আ করুন। অতএব তিনি (উয়াইস) উমারের গুনাহের ক্ষমা চেয়ে দো‘আ করলেন।
উমার (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কোথায় যেতে চান? তিনি বললেন, 'কূফায়' (যাবার ইচ্ছা আছে)। তিনি (উমার) বললেন, আমি সেখানকার গভর্ণরকে আপনার (সাহায্যের) জন্য লিখে দেই? তিনি বললেন, আমার নিকট গরীব-মিসকীনদের মাঝে বসবাস করাই বেশী পসন্দীয়।
পরের বছর কূফার এক নেতৃস্থানীয় লোক হজ্জে এলো। তার সাথে উমারের দেখা হ’লে তিনি উয়াইস সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করলেন। সে বললো, আমি তাকে এরকম অবস্থায় দেখে এসেছি যে, তার ঘরটা অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় আছে এবং তার জীবন-যাপনের উপকরণসমূহ খুবই নগণ্য। উমার (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘উয়াইস ইবনু আমির নামক এক লোক ইয়েমেনের সাহায্যকারী দলের সাথে তোমাদের নিকট আসবে। সে ‘মুরাদ’ জাতির উপজাতি ‘কারন’ বংশীয় লোক। তার কুষ্ঠ রোগ হবে এবং তা থেকে সে মুক্তি পাবে, শুধুমাত্র এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ছাড়া। তার মা বেঁচে আছে এবং সে তার মায়ের খুবই অনুগত। সে (আল্লাহর উপর ভরসা করে) কোন কিছুর শপথ করলে তা আল্লাহ পূরণ করে দেন। তুমি যদি তোমার গুনাহ মাফের জন্য তাকে দিয়ে দো‘আ করানোর সুযোগ পাও, তাহ’লে তাই করবে’।
লোকটি ফিরে এসে উয়াইসের নিকট গিয়ে বলল, আমার অপরাধ ক্ষমার জন্য আপনি দো‘আ করুন। তিনি (উয়াইস) বললেন, 'আপনি এইমাত্র মঙ্গলময় সফর (হজ্জ) থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন; বরং আপনি আমার অপরাধ ক্ষমার জন্য দো‘আ করুন'। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কি উমারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন'। সে বলল, হ্যাঁ। উয়াইস তার জন্যে দো‘আ করলেন। উয়াইসের মর্যাদা সম্পর্কে লোকেরা সচেতন হ’লে সেখান থেকে উয়াইস অন্য স্থানে চলে গেলেন। হাদীছটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
মুসলিমের আরেক বর্ণনায় উসায়র ইবনু জাবির (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, উমার (রাঃ)-এর নিকট কূফার অধিবাসীরা একটি সাহায্যকারী দল পাঠায়। দলের এক লোক উয়াইসকে বিদ্রূপ করত। উমার (রাঃ) বললেন, এখানে ‘কারন’ বংশীয় কেউ আছে কি? ঐ ব্যক্তিটি উঠে আসলে উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ইয়েমেন থেকে উয়াইস নামে এক লোক তোমাদের নিকট আসবে। সে তার মাকে ইয়েমেনে একা রেখে আসবে। তার কুষ্ঠরোগ হবে। সে আল্লাহর নিকট দো‘আ করবে, আল্লাহ তার রোগমুক্তি দান করবেন, শুধুমাত্র এক দীনার অথবা এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ছাড়া। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার দেখা পেলে, তাকে দিয়ে সে যেন তার গুনাহ মাফের জন্য দো‘আ করায়।
মুসলিমের আরেক বর্ণনায় উমার (রাঃ) হ’তে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, "পরবর্তীদের (তাবেঈ) মধ্যে উয়াইস নামে এক সৎ লোক হবে। তার মা বেঁচে আছে। তার শরীরে কুষ্ঠের চিহ্ন থাকবে। তোমরা যেন নিজেদের গুনাহ মাফের জন্য তাকে দিয়ে প্রার্থনা করাও"।
(মুসলিম হাদিস/২৫৪২, ‘ছাহাবীগণের মর্যাদা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫৫), (আহমাদ হাদিস/২৬৮), (দারেমী হাদিস/৪৩৯), (রিয়াদুস সলেহিন/৩৭৩)।
শিক্ষাঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদাবান হবেন। আল্লাহ আমাদেরকে উয়াইস ইবনু আমিরের মত সৎ কর্মশীল বান্দা হওয়ার তাওফীক দান করুন- আমীন!
উসাইর ইবনু আমর মতান্তরে ইবনু জাবের থেকে বর্ণিতঃ
ইয়েমেনের বসবাসকারীদের পক্ষ থেকে উমার (রাঃ)-এর নিকট সাহায্যকারী দল আসলে তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করতেন, তোমাদের মাঝে উয়াইস ইবনু আমির আছে কি? অবশেষে (একদিন) উয়াইস (রহঃ) এসে গেলেন। তাকে তিনি (উমার) প্রশ্ন করলেন, আপনি কি উয়াইস ইবনু আমির? সে বলল হ্যাঁ। উমার (রাঃ) আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুরাদ’ সম্প্রদায়ের উপগোত্র ‘কারনের’ লোক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (উমার) জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি কুষ্ঠরোগ হয়েছিল, তা হ’তে সুস্থ হয়েছেন এবং মাত্র এক দিরহাম পরিমাণ স্থান বাকী আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (উমার) বললেন, আপনার মা জীবিত আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (উমার) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, ‘ইয়েমেনের সহযোগী দলের সাথে উয়াইস ইবনু আমির নামক এক লোক তোমাদের নিকট আসবে। সে ‘মুরাদ’ জাতির উপজাতি ‘কারনের’ লোক। তার কুষ্ঠরোগ হবে এবং তা হ’তে সে মুক্তি পাবে, শুধুমাত্র এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ছাড়া। তার মা বেঁচে আছে, সে তার মায়ের খুবই অনুগত। সে (আল্লাহর উপর ভরসা করে) কোন কিছুর শপথ করলে তা আল্লাহ তা‘আলা পূরণ করে দেন। তুমি যদি তাকে দিয়ে তোমার গুনাহ মাফের জন্য দো‘আ করাবার সুযোগ পাও তাহ’লে তাই করবে’। উমার (রাঃ) বললেন, কাজেই আমার গুনাহের ক্ষমার জন্য আপনি দো‘আ করুন। অতএব তিনি (উয়াইস) উমারের গুনাহের ক্ষমা চেয়ে দো‘আ করলেন।
উমার (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কোথায় যেতে চান? তিনি বললেন, 'কূফায়' (যাবার ইচ্ছা আছে)। তিনি (উমার) বললেন, আমি সেখানকার গভর্ণরকে আপনার (সাহায্যের) জন্য লিখে দেই? তিনি বললেন, আমার নিকট গরীব-মিসকীনদের মাঝে বসবাস করাই বেশী পসন্দীয়।
পরের বছর কূফার এক নেতৃস্থানীয় লোক হজ্জে এলো। তার সাথে উমারের দেখা হ’লে তিনি উয়াইস সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করলেন। সে বললো, আমি তাকে এরকম অবস্থায় দেখে এসেছি যে, তার ঘরটা অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় আছে এবং তার জীবন-যাপনের উপকরণসমূহ খুবই নগণ্য। উমার (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘উয়াইস ইবনু আমির নামক এক লোক ইয়েমেনের সাহায্যকারী দলের সাথে তোমাদের নিকট আসবে। সে ‘মুরাদ’ জাতির উপজাতি ‘কারন’ বংশীয় লোক। তার কুষ্ঠ রোগ হবে এবং তা থেকে সে মুক্তি পাবে, শুধুমাত্র এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ছাড়া। তার মা বেঁচে আছে এবং সে তার মায়ের খুবই অনুগত। সে (আল্লাহর উপর ভরসা করে) কোন কিছুর শপথ করলে তা আল্লাহ পূরণ করে দেন। তুমি যদি তোমার গুনাহ মাফের জন্য তাকে দিয়ে দো‘আ করানোর সুযোগ পাও, তাহ’লে তাই করবে’।
লোকটি ফিরে এসে উয়াইসের নিকট গিয়ে বলল, আমার অপরাধ ক্ষমার জন্য আপনি দো‘আ করুন। তিনি (উয়াইস) বললেন, 'আপনি এইমাত্র মঙ্গলময় সফর (হজ্জ) থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন; বরং আপনি আমার অপরাধ ক্ষমার জন্য দো‘আ করুন'। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কি উমারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন'। সে বলল, হ্যাঁ। উয়াইস তার জন্যে দো‘আ করলেন। উয়াইসের মর্যাদা সম্পর্কে লোকেরা সচেতন হ’লে সেখান থেকে উয়াইস অন্য স্থানে চলে গেলেন। হাদীছটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
মুসলিমের আরেক বর্ণনায় উসায়র ইবনু জাবির (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, উমার (রাঃ)-এর নিকট কূফার অধিবাসীরা একটি সাহায্যকারী দল পাঠায়। দলের এক লোক উয়াইসকে বিদ্রূপ করত। উমার (রাঃ) বললেন, এখানে ‘কারন’ বংশীয় কেউ আছে কি? ঐ ব্যক্তিটি উঠে আসলে উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ইয়েমেন থেকে উয়াইস নামে এক লোক তোমাদের নিকট আসবে। সে তার মাকে ইয়েমেনে একা রেখে আসবে। তার কুষ্ঠরোগ হবে। সে আল্লাহর নিকট দো‘আ করবে, আল্লাহ তার রোগমুক্তি দান করবেন, শুধুমাত্র এক দীনার অথবা এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ছাড়া। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার দেখা পেলে, তাকে দিয়ে সে যেন তার গুনাহ মাফের জন্য দো‘আ করায়।
মুসলিমের আরেক বর্ণনায় উমার (রাঃ) হ’তে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, "পরবর্তীদের (তাবেঈ) মধ্যে উয়াইস নামে এক সৎ লোক হবে। তার মা বেঁচে আছে। তার শরীরে কুষ্ঠের চিহ্ন থাকবে। তোমরা যেন নিজেদের গুনাহ মাফের জন্য তাকে দিয়ে প্রার্থনা করাও"।
(মুসলিম হাদিস/২৫৪২, ‘ছাহাবীগণের মর্যাদা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫৫), (আহমাদ হাদিস/২৬৮), (দারেমী হাদিস/৪৩৯), (রিয়াদুস সলেহিন/৩৭৩)।
শিক্ষাঃ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদাবান হবেন। আল্লাহ আমাদেরকে উয়াইস ইবনু আমিরের মত সৎ কর্মশীল বান্দা হওয়ার তাওফীক দান করুন- আমীন!
✦আরও পড়ুন

হাদীসের গল্প
সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশকারী বান্দার সাথে আল্লাহর কথোপকথন
মুমিন তার পাপের কারণে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হবে। কিন্তু তার ঈমানের কারণে এক সময় সে জান্নাতে যাবে। জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা ও বান্দার…

হাদীসের গল্প
সততা ও আমানতের এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত {স্বর্ণ ভর্তি একটি কলসির (Jar) কোন দাবীদার খুঁজে পাওয়া গেলো না}
সততা ও আমানতের এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত {স্বর্ণ ভর্তি একটি কলসির (Jar) কোন দাবীদার খুঁজে পাওয়া গেলো না} লোভ মানব চরিত্রের অত্যন্ত নিন্দনীয় অভ্যাস। এটি…

হাদীসের গল্প
তাহলে সে নামায শেষ করার পর সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়
হযরত আমর ইবনে আবাসা (রাঃ) বলেন, জাহেলী যুগে আমি যখন মানুষকে মূর্তিপূজা করতে দেখতাম আমার কাছে মনে হত, নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট। এদের এ সকল কাজ সম্পূর্ণ…