বিজ্ঞাপন ও অশ্লীলতা এবং নারীদেরকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার
৬ মিনিটে পড়ুন১২ আগস্ট ২০২১

Fair & Lovely, Lux, Sunsilk হলো মার্কিন কোম্পানি ইউনিলিভার এর পণ্য। ২০০৫ সাল থেকে এরা বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। এদের যেহেতুও মূল কাস্টমার মেয়েরা তাই এরা মূলত মেয়েদেরকে দিয়ে কিভাবে ব্যবসা করা যায় তার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ যেহেতু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্য এবং এখানকার মেয়েরা যেহেতু একটু রক্ষনশীল; তাই রক্ষনশীল মেয়েরা কেন Fair & Lovely, Lux ব্যবহার করবে? সমান অধিকারের কথা বলে মেয়েদেরকে বাসা থেকে বের করা এবং বেপর্দা করাই এদের মূল টার্গেট থাকে। তাই তারা বিজ্ঞাপন প্রচার করে, Fair & Lovely, Lux, Sunsilk ব্যবহার করলে মেয়েদের ত্বক উজ্জ্বল হবে, ছেলেরা তাকিয়ে থাকবে, সবাই বাহবাহ দিবে ইত্যাদি।
Sunsilk এর বিজ্ঞাপনে কি ভাষা ব্যবহার করে দেখুন;
মেয়েরা যদি দিনের বেলায় কাজ করে আর Shine করে তবে তা allowed কিন্তু সেই একই কাজ যদি মেয়েরা রাতে করে ..... রাতে, বাইরে, no... not allowed. আর সাথে সেই পুরোনো ডায়ালগ লোকে কি বলবে? Sunsilk বিশ্বাস করে মেয়েরা Shine করবে দিন থেকে রাত পর্যন্ত।
Fair & Lovely ব্যবহার করলে ভালো বিয়ে হয়, এয়ার হোস্টেস হওয়া যায়, নায়িকা হওয়ার অফার পাওয়া যায়, ভালো চাকরি পাওয়া যায়, ছেলেদের সাথে পাল্লা দেওয়া যায়।
এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূলত Racism ও অশ্লীলতা ছড়ায় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
ইউনিলিভার এর মতো এরকম আরো কোম্পানি নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে পাশ্চ্যত কালচার ছড়িয়ে দেবার জন্য এবং আমাদের মুসলিম মা, বোনদেরকে সম্মানের আসনে থেকে সরিয়ে দুইটাকার সস্তা পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।
সাবান মাখতে-মাখতে ভেজা শরীরে মাঠ-ঘাট নারীর পদতলে অবশেষে রাজপুত্রের সাথে দেখা! সবাই জানে সাবান গায়ে মাখার জন্য। তাহলে কেন বিজ্ঞাপনচিত্রে, গোসলখানায় বা পাহাড়ী ঝরণায় বা খোলা আকাশের নীচে নারীর খোলা চামড়ায় সাবান মাখানোর দৃশ্য দেখানো হয়।
ফেয়ার লাভলী না মাখলে চামড়া সাদা হবেনা। আর নারী তোমার চামড়া সাদা না হলে এয়ার হোস্টেস হতে পারবা না কোন চাকরি পাবানা। তাই শুরু করো ঘষাঘষি। সেকি মুখে ঘষেছ শুধু, তাহলে যে তোমার বুক কালো থেকে যাবে, হাত কালো থাকবে তা কি হয়? তাই সাদা হবার জন্য Lux, বডি লোশন তো আছেই । অবশেষে ক্যামেরার সামনে বুক উঁচু করে দাঁড়াও আর নারীর মাঝে অন্যান্য নারীত্ব নামক প্রকৃতির যে গুণাবলী আছে সেগুলোর সাথে তোমার বক্ষের উদারতা প্রদর্শন কর! একটি সরিষার তৈলে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে যে হারে কোমর,মাজা দোলানো হয় দেখে বোঝার উপায় নাই যে এটি কি বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে না সিনেমার গান হচ্ছে। এনার্জি ড্রিংকের বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে, দেখে মনে হয় যেন সেক্সের সুরসুরি দেয়া হচ্ছে। থ্রি-পিসের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে মনে হয় যেন তার দেহকেই দেখাচ্ছে।
রান্না-বান্নার প্রোগ্রামগুলো দেখেন,এখানে রান্না করে একজন আর অতিথি থাকেন কয়েকজন। বেশীর ভাগ সময় অতিথি হন মিডিয়ার নামিদামী কোন অভিনেত্রী। নাচতে নাচতে হেলে-দুলে চলে আসেন ফতুয়া আর জিন্স পরে। কখনো কখনো পাতলা ফিনফিনে শাড়ি বা সেলোয়ার কামিজ। যা পরার থেকে না পরাই ভালো।
আড়ং তো হুলুলুকা- ঘটিয়ে ফেলল “রেডি হচ্ছে বাংলাদেশ, খাঁটি দুধের অঙ্গীকার নিয়ে রেডি আমরাও” এই বিজ্ঞাপনটি দিয়ে। এখানে দেখানো হচ্ছে খাঁটি দুধের অঙ্গীকার নিয়ে ট্যাগ লাইনটার সাথে অনুশীলনরত মেয়েটার ছবির অশ্লীলতা। এই দুধের বিজ্ঞাপনে গাভির ছবি না দিয়ে নারীর ছবি কেন দেওয়া হয়েছে? তাও আবার ক্যামেরার ফোকাস কোথায় ???? ।
Closeup “কাছে এসো, কাছে এসো, কাছে এসো না...”- এই ডায়ালগ এর মাধ্যমে দাঁতের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে নাকি যুবক যুবতীদেরকে অশ্লীলতার আহবান করছে?
শুধু কি তাই? ‘একটু চাপ দাও, আসল মজা নাও…আসল মজা ভেতরে'; ‘চলো ঝাঁকাই'… বাচ্চাদের ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ফ্রুট জুসের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার হচ্ছে এমনই নানা দ্ব্যার্থবোধক স্লোগান ও জিঙ্গেল৷ একইভাবে ‘তৃষ্ণায় দু'হাত বাড়ালে তোমায় পাওয়া যায়…' কোমল পানীয়র এই বিজ্ঞাপনে পানীয়টা হাতে থাকলেও তৃষ্ণার্ত পুরুষ ব্যক্তিটি হাত বাড়ালেন চারপাশে নাচতে থাকা নারীর দিকেই৷ নারীর পণ্যায়নের এ যেন আক্ষরিক দৃষ্টান্ত৷
ছেলেদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে ও মেয়ে না থাকলে ই নয়।
রূপবতী ললনা যদি ব্লেড বা শেভিং ক্রিমের বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে অভিনয় করতে করতে বলেন, আমার এসব খুব পছন্দ, অথবা ব্লেড বা শেভিং ক্রিমের প্রশংসা করেন, তাহলে কী ভাববেন? আপনারাই বলেন, ধান ক্ষেতে পানি দিবে সেটির সাথে সুন্দরী মহিলার কি সম্পর্ক থাকতে পারে। ছেলে বলে আব্বা পানি নিতে আইছে আর আব্বা বলে ওরে নিতে দে।
জুতার বিজ্ঞাপনের সাথে দলীয় নৃত্যের কি সম্পর্ক থাকতে পারে। কফির বিজ্ঞাপনের সাথে ঢোল ড্রাম আর ললনার চিৎকার করে বলা সময় যেনো যায় ইহার সাথে কি সম্পর্ক থাকতে পারে। টিভির বিজ্ঞাপনের সাথে মেয়েটার চোখ টিপের কি সম্পর্ক থাকতে পারে।
অবস্থা এমন যে বিজ্ঞাপন হলেই মেয়ে লাগবে আর তাদের অঙ্গ-ভঙ্গিতে থাকবে নগ্নতা, পোশাক হতে হবে শরীর অর্ধেক দেখা যাবে আর অর্ধেক ঢাকা থাকবে। কেন এই বিজ্ঞাপন, এইভাবে বিজ্ঞাপন না দিলে কি পণ্যের গুণগত মান হারিয়ে যাবে? বিজ্ঞাপন দেখে মনে হয় যেন পণ্য অপেক্ষা এরা নারীর দেহ দেখাতে উম্মুখ। তার মানে নারীই এখন পণ্য হয়ে গেছে।
অনেকে হয়ত এই লেখা পড়ে আমার প্রতি ক্ষেপে যেতে পারেন। অনেকে বলতে পারেন, ধুর মিয়া আপনি তো অশ্লীলতা আর শ্লীলতার সংজ্ঞাই জানেন না। আধুনিক যুগ তো এতোটুকু দেখাতেই পারে, শুনেন মিয়া নগ্নতাই অশ্লীলতা নয়। তখন যদি আমি বলি, চলেন ভাই আপনার বউ আর বোনকে নগ্ন করে একটু দেখি। এটাতো অশ্লীলতা নয়। তখন কি বলবেন? যারা নারী অধিকার আদায়ে কাজ করে তাদের থেকে জানতে ইচ্ছে করে, এসবের মাধ্যমে তাদের কেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়? তাদের সম্মান কতটুকু বাড়ে?
আজকের এই পুঁজিবাদী সমাজে সর্বত্রই নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোম্পানির রিসিপশনিস্ট হতে হবে সুন্ধরী নারী, সেক্রেটারি হতে হবে সুন্ধরী নারী, যাদের দেহ দেখানো ছাড়া কোনো কাজ থাকে না। নগ্নতা ও যৌনতা কে উপজীব্য করে তৈরী হয় শিল্পীর আঁকা পেইন্টিং, ভাস্কর্য, ক্যামেরার ছবি, নাটক, সিনেমার বিশেষ দৃশ্য, গানের লিরিক্স আর সাহিত্য। চিত্রকর্ম বা পেইন্টিং এ শিল্পীরা উদারভাবে তুলে ধরেন বিবসনা নারীদের- নানা বিভঙ্গ, দেহবল্লরী ও বৈভবে। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল অ্যানজেলো’র চিত্রকর্মের ইরোটিক, উলঙ্গ নারীরা ঝুলে আছে পৃথিবীর দেয়ালে দেয়ালে।
বিভিন্ন সাজে সজ্জিত পর্দাবিহীন নারীকে আকর্ষণীয়, প্রগতিশীল, আধুনিক ও অভিজাত বলে মনে হতে পারে, কেননা, শয়তান পাপকাজকে মানুষের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে তোলে। ইসলাম নারীদেরকে সম্মানের পাত্র হিসেবে দেখে এবং তার সম্মান রক্ষার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আল্লাহ (সুব) বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। অবশ্যই এটা অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পন্থা।” [সূরাহ বনী ইসরাঈল, আয়াত : ৩২]
ইসলামের শাসন ব্যবস্থা খিলাফতের সময় গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে খবর পৌঁছলো সিন্ধুর রাজা দাহির মুসলিম নারীদেরকে আটক করে তাদের উপর অত্যাচার করছে। তখন তিনি সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমকে পাঠান মুসলিম বোনদের সম্ভ্রম রক্ষার অভিযানে। মুসলিম বোনদের সম্ভ্রম রক্ষার আহ্বানে সাড়া দিতে গিয়ে বিজিত হয় সিন্ধু।
রাসূলুল্লাহ (সা:) মুসলিম মহিলার সম্ভ্রমহানি করার অপরাধে বনু কায়নুকা গোত্রের লোকদের মদীনা থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
তাই আসুন এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তথাকথিত নারী স্বাধীনতার নামে পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখি। আমরা আবারও একবার ইসলামকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরি এবং হজরত ফাতেমা (রাঃ), আসমা (রাঃ), আয়েশা (রাঃ), মায়মুনা (রাঃ), হাফসা (রাঃ), উম্মে সালামা (রাঃ) এর মতো সাহাবীদেরকে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে গ্রহণ করি।
Sunsilk এর বিজ্ঞাপনে কি ভাষা ব্যবহার করে দেখুন;
মেয়েরা যদি দিনের বেলায় কাজ করে আর Shine করে তবে তা allowed কিন্তু সেই একই কাজ যদি মেয়েরা রাতে করে ..... রাতে, বাইরে, no... not allowed. আর সাথে সেই পুরোনো ডায়ালগ লোকে কি বলবে? Sunsilk বিশ্বাস করে মেয়েরা Shine করবে দিন থেকে রাত পর্যন্ত।
Fair & Lovely ব্যবহার করলে ভালো বিয়ে হয়, এয়ার হোস্টেস হওয়া যায়, নায়িকা হওয়ার অফার পাওয়া যায়, ভালো চাকরি পাওয়া যায়, ছেলেদের সাথে পাল্লা দেওয়া যায়।
এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূলত Racism ও অশ্লীলতা ছড়ায় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
ইউনিলিভার এর মতো এরকম আরো কোম্পানি নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে পাশ্চ্যত কালচার ছড়িয়ে দেবার জন্য এবং আমাদের মুসলিম মা, বোনদেরকে সম্মানের আসনে থেকে সরিয়ে দুইটাকার সস্তা পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।
সাবান মাখতে-মাখতে ভেজা শরীরে মাঠ-ঘাট নারীর পদতলে অবশেষে রাজপুত্রের সাথে দেখা! সবাই জানে সাবান গায়ে মাখার জন্য। তাহলে কেন বিজ্ঞাপনচিত্রে, গোসলখানায় বা পাহাড়ী ঝরণায় বা খোলা আকাশের নীচে নারীর খোলা চামড়ায় সাবান মাখানোর দৃশ্য দেখানো হয়।
ফেয়ার লাভলী না মাখলে চামড়া সাদা হবেনা। আর নারী তোমার চামড়া সাদা না হলে এয়ার হোস্টেস হতে পারবা না কোন চাকরি পাবানা। তাই শুরু করো ঘষাঘষি। সেকি মুখে ঘষেছ শুধু, তাহলে যে তোমার বুক কালো থেকে যাবে, হাত কালো থাকবে তা কি হয়? তাই সাদা হবার জন্য Lux, বডি লোশন তো আছেই । অবশেষে ক্যামেরার সামনে বুক উঁচু করে দাঁড়াও আর নারীর মাঝে অন্যান্য নারীত্ব নামক প্রকৃতির যে গুণাবলী আছে সেগুলোর সাথে তোমার বক্ষের উদারতা প্রদর্শন কর! একটি সরিষার তৈলে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে যে হারে কোমর,মাজা দোলানো হয় দেখে বোঝার উপায় নাই যে এটি কি বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে না সিনেমার গান হচ্ছে। এনার্জি ড্রিংকের বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে, দেখে মনে হয় যেন সেক্সের সুরসুরি দেয়া হচ্ছে। থ্রি-পিসের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে মনে হয় যেন তার দেহকেই দেখাচ্ছে।
রান্না-বান্নার প্রোগ্রামগুলো দেখেন,এখানে রান্না করে একজন আর অতিথি থাকেন কয়েকজন। বেশীর ভাগ সময় অতিথি হন মিডিয়ার নামিদামী কোন অভিনেত্রী। নাচতে নাচতে হেলে-দুলে চলে আসেন ফতুয়া আর জিন্স পরে। কখনো কখনো পাতলা ফিনফিনে শাড়ি বা সেলোয়ার কামিজ। যা পরার থেকে না পরাই ভালো।
আড়ং তো হুলুলুকা- ঘটিয়ে ফেলল “রেডি হচ্ছে বাংলাদেশ, খাঁটি দুধের অঙ্গীকার নিয়ে রেডি আমরাও” এই বিজ্ঞাপনটি দিয়ে। এখানে দেখানো হচ্ছে খাঁটি দুধের অঙ্গীকার নিয়ে ট্যাগ লাইনটার সাথে অনুশীলনরত মেয়েটার ছবির অশ্লীলতা। এই দুধের বিজ্ঞাপনে গাভির ছবি না দিয়ে নারীর ছবি কেন দেওয়া হয়েছে? তাও আবার ক্যামেরার ফোকাস কোথায় ???? ।
Closeup “কাছে এসো, কাছে এসো, কাছে এসো না...”- এই ডায়ালগ এর মাধ্যমে দাঁতের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে নাকি যুবক যুবতীদেরকে অশ্লীলতার আহবান করছে?
শুধু কি তাই? ‘একটু চাপ দাও, আসল মজা নাও…আসল মজা ভেতরে'; ‘চলো ঝাঁকাই'… বাচ্চাদের ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ফ্রুট জুসের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার হচ্ছে এমনই নানা দ্ব্যার্থবোধক স্লোগান ও জিঙ্গেল৷ একইভাবে ‘তৃষ্ণায় দু'হাত বাড়ালে তোমায় পাওয়া যায়…' কোমল পানীয়র এই বিজ্ঞাপনে পানীয়টা হাতে থাকলেও তৃষ্ণার্ত পুরুষ ব্যক্তিটি হাত বাড়ালেন চারপাশে নাচতে থাকা নারীর দিকেই৷ নারীর পণ্যায়নের এ যেন আক্ষরিক দৃষ্টান্ত৷
ছেলেদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে ও মেয়ে না থাকলে ই নয়।
রূপবতী ললনা যদি ব্লেড বা শেভিং ক্রিমের বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে অভিনয় করতে করতে বলেন, আমার এসব খুব পছন্দ, অথবা ব্লেড বা শেভিং ক্রিমের প্রশংসা করেন, তাহলে কী ভাববেন? আপনারাই বলেন, ধান ক্ষেতে পানি দিবে সেটির সাথে সুন্দরী মহিলার কি সম্পর্ক থাকতে পারে। ছেলে বলে আব্বা পানি নিতে আইছে আর আব্বা বলে ওরে নিতে দে।
জুতার বিজ্ঞাপনের সাথে দলীয় নৃত্যের কি সম্পর্ক থাকতে পারে। কফির বিজ্ঞাপনের সাথে ঢোল ড্রাম আর ললনার চিৎকার করে বলা সময় যেনো যায় ইহার সাথে কি সম্পর্ক থাকতে পারে। টিভির বিজ্ঞাপনের সাথে মেয়েটার চোখ টিপের কি সম্পর্ক থাকতে পারে।
অবস্থা এমন যে বিজ্ঞাপন হলেই মেয়ে লাগবে আর তাদের অঙ্গ-ভঙ্গিতে থাকবে নগ্নতা, পোশাক হতে হবে শরীর অর্ধেক দেখা যাবে আর অর্ধেক ঢাকা থাকবে। কেন এই বিজ্ঞাপন, এইভাবে বিজ্ঞাপন না দিলে কি পণ্যের গুণগত মান হারিয়ে যাবে? বিজ্ঞাপন দেখে মনে হয় যেন পণ্য অপেক্ষা এরা নারীর দেহ দেখাতে উম্মুখ। তার মানে নারীই এখন পণ্য হয়ে গেছে।
অনেকে হয়ত এই লেখা পড়ে আমার প্রতি ক্ষেপে যেতে পারেন। অনেকে বলতে পারেন, ধুর মিয়া আপনি তো অশ্লীলতা আর শ্লীলতার সংজ্ঞাই জানেন না। আধুনিক যুগ তো এতোটুকু দেখাতেই পারে, শুনেন মিয়া নগ্নতাই অশ্লীলতা নয়। তখন যদি আমি বলি, চলেন ভাই আপনার বউ আর বোনকে নগ্ন করে একটু দেখি। এটাতো অশ্লীলতা নয়। তখন কি বলবেন? যারা নারী অধিকার আদায়ে কাজ করে তাদের থেকে জানতে ইচ্ছে করে, এসবের মাধ্যমে তাদের কেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়? তাদের সম্মান কতটুকু বাড়ে?
আজকের এই পুঁজিবাদী সমাজে সর্বত্রই নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোম্পানির রিসিপশনিস্ট হতে হবে সুন্ধরী নারী, সেক্রেটারি হতে হবে সুন্ধরী নারী, যাদের দেহ দেখানো ছাড়া কোনো কাজ থাকে না। নগ্নতা ও যৌনতা কে উপজীব্য করে তৈরী হয় শিল্পীর আঁকা পেইন্টিং, ভাস্কর্য, ক্যামেরার ছবি, নাটক, সিনেমার বিশেষ দৃশ্য, গানের লিরিক্স আর সাহিত্য। চিত্রকর্ম বা পেইন্টিং এ শিল্পীরা উদারভাবে তুলে ধরেন বিবসনা নারীদের- নানা বিভঙ্গ, দেহবল্লরী ও বৈভবে। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল অ্যানজেলো’র চিত্রকর্মের ইরোটিক, উলঙ্গ নারীরা ঝুলে আছে পৃথিবীর দেয়ালে দেয়ালে।
বিভিন্ন সাজে সজ্জিত পর্দাবিহীন নারীকে আকর্ষণীয়, প্রগতিশীল, আধুনিক ও অভিজাত বলে মনে হতে পারে, কেননা, শয়তান পাপকাজকে মানুষের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে তোলে। ইসলাম নারীদেরকে সম্মানের পাত্র হিসেবে দেখে এবং তার সম্মান রক্ষার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আল্লাহ (সুব) বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। অবশ্যই এটা অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পন্থা।” [সূরাহ বনী ইসরাঈল, আয়াত : ৩২]
ইসলামের শাসন ব্যবস্থা খিলাফতের সময় গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে খবর পৌঁছলো সিন্ধুর রাজা দাহির মুসলিম নারীদেরকে আটক করে তাদের উপর অত্যাচার করছে। তখন তিনি সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমকে পাঠান মুসলিম বোনদের সম্ভ্রম রক্ষার অভিযানে। মুসলিম বোনদের সম্ভ্রম রক্ষার আহ্বানে সাড়া দিতে গিয়ে বিজিত হয় সিন্ধু।
রাসূলুল্লাহ (সা:) মুসলিম মহিলার সম্ভ্রমহানি করার অপরাধে বনু কায়নুকা গোত্রের লোকদের মদীনা থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
তাই আসুন এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তথাকথিত নারী স্বাধীনতার নামে পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখি। আমরা আবারও একবার ইসলামকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরি এবং হজরত ফাতেমা (রাঃ), আসমা (রাঃ), আয়েশা (রাঃ), মায়মুনা (রাঃ), হাফসা (রাঃ), উম্মে সালামা (রাঃ) এর মতো সাহাবীদেরকে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে গ্রহণ করি।
✦আরও পড়ুন

নারী অঙ্গন
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আনুগত্যের মাধ্যমে বিবাহিত জীবনে প্রশান্তি আসে
দাম্পত্য সুখ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর আনুগত্য দ্বারা সুরক্ষিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে…
✦ নারী অঙ্গন ✦ইরানে হিজাব বিতর্ক থেকে উদ্ভুত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফসল
নারী অঙ্গন
ইরানে হিজাব বিতর্ক থেকে উদ্ভুত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফসল
হিজাব আইন লঙ্ঘনের অপরাধে পুলিশের হাতে আটক ২২ বছর বয়সী তরূণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কতিপয় পশ্চিমা সেকুলার মিডিয়া এবং…
✦ নারী অঙ্গন ✦বিবাহ বিচ্ছেদ এবং তথাকথিত নারী স্বাধীনতা
নারী অঙ্গন
বিবাহ বিচ্ছেদ এবং তথাকথিত নারী স্বাধীনতা
বিবাহ মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংসার জীবনে ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যধিক; সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন,…