মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

আমরা সেই সে জাতি (১ম খন্ড) - আবুল আসাদ · অধ্যায় ৪/৬৮

(০৪) উমার হলেন আল ফারুক

উমার হলেন আল ফারুক

হযরত উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেই জিজ্ঞাস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, বর্তমানে মুসলমানদের সংখ্যা কত?” মহানবী (সাঃ) উত্তর দিলেন, “তোমাকে নিয়ে চল্লিশ জন”। উমার বললেন, “এটাই যথেষ্ট। আজ আমরা এই চল্লিশ জনই কাবা গৃহে গিয়ে প্রকাশ্যে আল্লাহর ইবাদত করব। ভরসা আল্লাহর। অসত্যের ভয়ে আর সত্য চাপা পড়ে থাকতে দেব না”।

উমার (রাঃ) সবাইকে নিয়ে খোলা তরবারি হাতে "আল্লাহু আকবর" ধ্বনি দিতে দিতে কাবা প্রাঙ্গণে গিয়ে উপস্থিত হলেন।

মুসলিম দলের সাথে হযরত উমার (রাঃ)-কে এভাবে কাবা প্রাঙ্গণে দেখে উপস্থিত কুরাইশগন যারপর নাই বিস্মিত ও মনক্ষুন্ন হয়ে পড়ল।

তাদের মনোভাব দেখে হযরত উমার (রাঃ) পৌরুষকণ্ঠে গর্জন করে বললেন, “আমি তোমাদের সাবধান করে দিচ্ছি, কোন মুসলমানের কেশাগ্র স্পর্শ করলে উমারের তরবারি আজ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে উত্তোলিত হবে”।

কাবায় উপস্থিত একজন কুরাইশ সাহস করে বলল, “হে খাত্তাব পুত্র উমার তুমি কি সত্যই মুসলমান হয়ে গেলে? আরবরা তো কদাচ প্রতিজ্ঞাচ্যুত হয় না। জানতে পারি কি, তুমি কি জিনিস পেয়ে এমন ভাবে প্রতিজ্ঞাচ্যুত হলে?”

হযরত উমার উচ্চকণ্ঠে জবাব দিলেন, “মানুষ যার চেয়ে বেশী পাওয়ার কল্পনা করতে পারে না, আমি আজ তেমন জিনিস পেয়েই প্রতিজ্ঞাচ্যুত হয়েছি। সে জিনিস হল আল কুরআন”।

হযরত উমারের (রাঃ) এরূপ তেজোদৃপ্ত কথা শুনে আর কেউ-ই কোন কথা বলতে সাহস পেল না। বিমর্ষ চিত্তে কুরাইশরা সবাই সেখান থেকে চলে গেল।

অতঃপর মহানবী (সাঃ) সবাইকে নিয়ে কাবা ঘরে নামায আদায় করলেন। সেখানে মুসলমানদের এটাই প্রথম নামায। এর আগে মুসলমানরা অতি গোপনে নামায এবং অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়াদি পালন করতেন। পোশাক-পরিচ্ছদের পার্থক্য রক্ষা করতে পারতেন না।

এজন্য কে মুসলমান, কে পৌত্তলিক তা চিনবার উপায় ছিলনা। এ ঘটনার পর মুসলমানরা পোশাক-পরিচ্ছদ ও ধর্ম-কর্মে পৃথক সম্প্রদায়রূপে পরিগণিত হলেন।

এ ঐতিহাসিক পরিবর্তন উপলক্ষে মহানবী (সাঃ) হযরত উমারকে "আল ফারূক" উপাধিতে ভূষিত করলেন।