মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

আমরা সেই সে জাতি (১ম খন্ড) - আবুল আসাদ · অধ্যায় ৬৪/৬৮

(৬৪) গিয়াসুদ্দীন বলবনের ন্যায়পরায়নতা

গিয়াসুদ্দীন বলবনের ন্যায়পরায়নতা

গিয়াস উদ্দীন বলবনের বিশাল সাম্রাজ্যের পশ্চিম সীমানা-বাদায়ুন প্রদেশ।

পাহাড় আর মালভূমির দেশ বাদায়ুন। পাহাড়ের মাঝে মাঝে সুনীল উপত্যকা। পাহাড় থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণা বয়ে যাচ্ছে সবুজ উপত্যকার বুক চিরে। এই বাদায়ুনের শাসনকর্তা মালিক ফয়েজ।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবরেনর পক্ষ থেকে শাসন করছেন তিনি বাদায়ুন।

শান্তি ও সমৃদ্ধি তাকে ঠেলে দিল বিলাসিতার দিকে।

মদ্যপ হয়ে উঠলেন তিনি।

মদ তাঁকে নিয়ে গেল জঘন্য মানুষের কাতারে। রক্তে লাল হয়ে উঠল তার হাত। মালিক ফয়েরেজই একজন খেদমতগার দাস, একদিন মাতাল অবস্থায় তাকে খুন করলেন মালিক ফয়েজ।

বাদায়ুনের অনেক কণ্ঠই প্রতিবাদে সোচ্চার হতে চাইল, কিন্তু মদ্যপের কাছে কোন সুবিচারের আশা নেই জেনে সবাই ধৈর্য ধারণ করল। ঠিক এই সময়েই গিয়াস উদ্দিন বলবন এলেন বাদায়নে।

সাড়ম্বর সম্বর্ধনার আয়োজন করে মালিক ফয়েক আগু বাড়িয়ে নিয়ে এলেন সুলতানকে। গিয়াস উদ্দিন বলবন তাঁর প্রিয় শাসনকর্তার কুশলবার্তা জেনে এবং তাঁকে খুশহাল দেখে খুবই খুশী হলেন।

পরদিন আম দরবারে বসলেন গিয়াসউদ্দিন বলবন। নাগরিকদের সাথে তিনি দেখা করবেন, তাদের কথা বার্তা শুনবেন। দরবারের এক পর্যায়ে এক বোরখাবৃতা মহিলা এসে সুলতানের সামনে দাঁড়াল।

সে অভিযোগ করল, “তার নির্দোষ স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন শাসনকর্তা মালিক ফয়েজ।” মহিলাটির অভিযোগ শেষ হলে গিয়াসউদ্দিন বলবন মুহূর্তকাল চুপ করে থাকলেন।

তারপর মুখ ঘুরিয়ে তাকালেন পাশেই বসা মালিক ফয়েজের দিকে। মুখে সুলতানের কথা নেই। কিন্তু চোখে তাঁর একরাশ প্রশ্ন। সে দৃষ্টির সামনে মালিক ফয়েজ স্থির থাকতে পারলেন না।

কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ালেন।

সুলতানের অন্তর্ভেদী চোখের একরাশ প্রশ্নের কোন জবাব মালিক ফয়েজের মুখে জোগালোনা।

কিন্তু তাঁর চোখে মুখেই ফুটে উঠল পাপের কালিমা রেখা। সুলতান মুখ ঘোরালেন এবার ফরিয়াদী মহিলাটির দিকে। বললেন, “যাও মা, আল্লাহর আইনে কাজীর আদালতেই এর বিচার হবে। আমি তোমার পক্ষে বাদী হয়ে দাঁড়াব।”

কাজীর আদালতে বাদায়ুনের শাসনকর্তা মালিক ফয়েজের বিচার হলো। হলো প্রাণদন্ডাদেশ- কঠিন প্রহারে জর্জরিত করে তাঁকে মেরে ফেলার হুকুম হলো।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সে নির্দেশ কার্যকর করালেন। তারপর অত্যাচারী সেই শাসকের মৃতদেহ টাঙ্গিয়ে রাখলেন শহরের বুলন্দ দরওয়াজায়।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের আর একটি বিচার। অযোধ্যায় শাসনকর্তা হয়বত খান হত্যা করেছেন তাঁর দাসকে।

নিহত দাসের বিধবা স্ত্রী ফরিয়াদ জানালো সুলতানের কাছে।

সুলতান শাসনকর্তাকে পাঁচশ বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিলেন এবং তাঁকে নিহত দাসের বিধবা মহিলার দাসত্বে নিয়োজিত করলেন।

পরে হাজার টাকার মুক্তিপণ দিয়ে হয়বত খান সেই বিধবা মহিলার কাছ থেকে বহুকষ্টে মুক্তি ভিক্ষা করে নেন।