ইমাম আবু হানীফার (রহঃ) সুতীক্ষ বুদ্ধি
২ মিনিটে পড়ুন১৩ জুন ২০২০

আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তির বাড়িতে রাত্রি বেলায় ডাকাত দল ঢুকে তাকে বেঁধে ফেলল। অতপর তারা ঘরের সকল মালামাল লুণ্ঠন করতে লাগল। সকল মূল্যবান আসবাবপত্র নেওয়ার পর তারা লোকটিকে হত্যা করার ইচ্ছা করল। কিন্তু তাদের দলনেতা বললঃ প্রয়োজনে লোকটির সকল মালামাল নিয়ে যাও। তবুও তাকে ছেড়ে দাও। আর তাকে বল, সে যেন এ মর্মে কুরআন ছুঁয়ে শপথ করে–আমি জীবনে কাউকে বলব না কারা আমার বাড়িতে চুরি করেছে। আর যদি বলি তাহলে আমার স্ত্রী তিন তালাক প্রাপ্তা হবে। গৃহকর্তা জীবন রক্ষার খাতিরে শপথ করল। কিন্তু পরক্ষণে অত্যন্ত পেরেশান ও চিন্তিত হয়ে পড়লেন। সকালে বাজারে গিয়ে দেখেন যে, ডাকাতদল তাঁর আসবাবপত্র বেশ ধুম ধাম ও হৈ হুল্লোড় করে বিক্রি করছে। লোকটি স্ত্রী তালাকের ভয়ে মুখ খুলতেও পারছে না। ফলে সে হতাশাগ্রস্থ হয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর খেদমতে হাযির হয়ে ঘটনা খুলে বলল এবং এমতাবস্থায় তাঁর করণীয় কি সে ব্যাপারে পরামর্শ চাইল।
ইমাম সাহেব (রহঃ) তাকে বললেন-তুমি তোমার এলাকায় চলে যাও, সেখানে গিয়ে মহল্লার গণ্যমান্য লোকদের একত্র কর। আমি তাদেরকে স্রেফ একটি কথা বলব। লোকটি ইমাম সাহেবের পরামর্শ মত সকলকে একত্রিত করল, ইমাম সাহেব সেখানে হাযির হল এবং উপস্থিত প্রভাবশালী লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কি চান এ বেচারার মালগুলো সে ফেরত পেয়ে যাক? সকলেই একবাক্যে বলল, হ্যাঁ আমরা অবশ্যই তা চাই। ইমাম সাহেব (রহঃ) বললেন -তাহলে এক কাজ করুণ। অত্র এলাকার সকল সন্ত্রাসীদেরকে আপনার মসজিদে আবদ্ধ করুন। অতঃপর তাদেরকে এক এক করে বের করুন। যখনই কেউ বের হবে, সঙ্গে সঙ্গে লোকটিকে জিজ্ঞেস করবেন - এ লোকটি ডাকাতি করেছিল? যদি সে ডাকাত দলভুক্ত না হয়, তাহলে মুখে অস্বীকার করবে। অন্যথায় চুপ থাকবে, হ্যাঁ বা না কোনটিই বলবে না। এতে সহজেই আপনারা নির্ণয় করতে পারবেন যে, কে আসল ডাকাত, পাশাপাশি বেচারার স্ত্রীও তালাক হবে না।
সকলে এ পন্থাটি অবলম্বন করল। এতে ডাকাত ধরা পড়ে গেলে গৃহকর্তা তাঁর মালামালও পেয়ে গেল পক্ষান্তরে তাঁর স্ত্রীও তালাক হল না।
আরেক বার এক ব্যক্তি আবু হানীফার (রহঃ) নিকট এসে বলল-হুজুর! আজ থেকে বহু কাল পূর্বে আমি বেশ কিছু সম্পদ মাটির নিচে পুতে রেখেছিলাম। এখন সে স্থানটি আমার স্মরণে আসছে না।
ইমাম সাহেব (রহঃ) বললেন-এটাতো কোন ফেকাহ-র মাসআলা নয় যে, আমি তোমাকে সমাধানের পথ বাতাব। তথাপি একটি উপায় তোমাকে বলছি, পরীক্ষা করে দেখতে পার। তুমি বাড়ি ফিরে যাও। বাড়িতে গিয়ে সারা রাত নামায পড়বে। আশা করি সে স্থান তোমার স্মরণে চলে আসবে। লোকটি ইমাম সাহেবের পরামর্শ মত চলে গেল এবং বাড়িতে গিয়ে সারারাত নামায আদায় করার জন্য প্রস্তুত হল। এখনো চতুর্থ রাকাত শেষ করতে পারেনি। হঠাৎ সে জায়গার কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। সে ফিরে এসে ইমাম সাহেবকে ঘটনা শুনালে তিনি বললেন, আমি জানতাম ইবলিশ তোমাকে সারা রাত নামাযের সুযোগ কোন অবস্থাতেই দেবে না। তবে তোমার উচিৎ ছিল গচ্ছি ধনের সন্ধান পাওয়ার পরও সারা রাত নামায চালাতে থাকা। এতে আল্লাহর শুকরিয়াও আদায় হয়ে যেত।
ইমাম সাহেব (রহঃ) তাকে বললেন-তুমি তোমার এলাকায় চলে যাও, সেখানে গিয়ে মহল্লার গণ্যমান্য লোকদের একত্র কর। আমি তাদেরকে স্রেফ একটি কথা বলব। লোকটি ইমাম সাহেবের পরামর্শ মত সকলকে একত্রিত করল, ইমাম সাহেব সেখানে হাযির হল এবং উপস্থিত প্রভাবশালী লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কি চান এ বেচারার মালগুলো সে ফেরত পেয়ে যাক? সকলেই একবাক্যে বলল, হ্যাঁ আমরা অবশ্যই তা চাই। ইমাম সাহেব (রহঃ) বললেন -তাহলে এক কাজ করুণ। অত্র এলাকার সকল সন্ত্রাসীদেরকে আপনার মসজিদে আবদ্ধ করুন। অতঃপর তাদেরকে এক এক করে বের করুন। যখনই কেউ বের হবে, সঙ্গে সঙ্গে লোকটিকে জিজ্ঞেস করবেন - এ লোকটি ডাকাতি করেছিল? যদি সে ডাকাত দলভুক্ত না হয়, তাহলে মুখে অস্বীকার করবে। অন্যথায় চুপ থাকবে, হ্যাঁ বা না কোনটিই বলবে না। এতে সহজেই আপনারা নির্ণয় করতে পারবেন যে, কে আসল ডাকাত, পাশাপাশি বেচারার স্ত্রীও তালাক হবে না।
সকলে এ পন্থাটি অবলম্বন করল। এতে ডাকাত ধরা পড়ে গেলে গৃহকর্তা তাঁর মালামালও পেয়ে গেল পক্ষান্তরে তাঁর স্ত্রীও তালাক হল না।
আরেক বার এক ব্যক্তি আবু হানীফার (রহঃ) নিকট এসে বলল-হুজুর! আজ থেকে বহু কাল পূর্বে আমি বেশ কিছু সম্পদ মাটির নিচে পুতে রেখেছিলাম। এখন সে স্থানটি আমার স্মরণে আসছে না।
ইমাম সাহেব (রহঃ) বললেন-এটাতো কোন ফেকাহ-র মাসআলা নয় যে, আমি তোমাকে সমাধানের পথ বাতাব। তথাপি একটি উপায় তোমাকে বলছি, পরীক্ষা করে দেখতে পার। তুমি বাড়ি ফিরে যাও। বাড়িতে গিয়ে সারা রাত নামায পড়বে। আশা করি সে স্থান তোমার স্মরণে চলে আসবে। লোকটি ইমাম সাহেবের পরামর্শ মত চলে গেল এবং বাড়িতে গিয়ে সারারাত নামায আদায় করার জন্য প্রস্তুত হল। এখনো চতুর্থ রাকাত শেষ করতে পারেনি। হঠাৎ সে জায়গার কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। সে ফিরে এসে ইমাম সাহেবকে ঘটনা শুনালে তিনি বললেন, আমি জানতাম ইবলিশ তোমাকে সারা রাত নামাযের সুযোগ কোন অবস্থাতেই দেবে না। তবে তোমার উচিৎ ছিল গচ্ছি ধনের সন্ধান পাওয়ার পরও সারা রাত নামায চালাতে থাকা। এতে আল্লাহর শুকরিয়াও আদায় হয়ে যেত।
✦আরও পড়ুন

মনীষীদের জীবনী
গাজি হাসান পাশা, যিনি আমেরিকাকে ট্যাক্স দিতে বাধ্য করেছিলেন
গাজি হাসান পাশা। উসমানী খিলাফতের সর্বশেষ সিংহ। যিনি আমেরিকাকে ট্যাক্স দিতে বাধ্য করেছিলেন। হ্যা, আপনি ঠিকই শুনেছেন, আমেরিকাও একসময় উসমানী খিলাফতকে…

মনীষীদের জীবনী
ইমাম ইবনে সিরিন (রহ.) এর কারা-জীবনের ঘটনা
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহ.) ছিলেন তাবেঈনদের একজন। বসবাস করতেন বসরায়। তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যার সমাধান দেবার ক্ষেত্রে অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। একবার…

মনীষীদের জীবনী
ইমাম আবু হানিফা ও নাস্তিক
একবার মুসলিমদের জীবন ব্যবস্থা তথা খিলাফত ব্যবস্থায় খলিফার নিকট এক নাস্তিক এসে বললেন যে আপনার সাম্রাজ্যে এমন কোন জ্ঞানী ব্যক্তিকে ডাকুন আমি তাকে তর্ক…