হযরত ইউসুফ (আঃ) · অধ্যায় ৫৫/৬০
(৪৮.৫.২) ‘বুরহান’ কি?
‘বুরহান’ কি?
لَوْلا أَن رَّآى بُرْهَانَ رَبِّهِ
‘যদি সে তার পালনকর্তার প্রমাণ না দেখত’ এ কথার মধ্যে কোন্ প্রমাণ ইউসুফকে দেখানো হয়েছিল, সেটা বলা হয়নি। তবে কুরআনে মানুষের তিনটি নফসের কথা বলা হয়েছে। (১) নফসে আম্মারাহ। যা মানুষকে অন্যায় কাজে প্ররোচিত করে (২) নফসে লাউয়ামাহ। যা মানুষকে ন্যায় কাজে উদ্বুদ্ধ করে ও অন্যায় কাজে বাধা দেয় এবং (৩) নফসে মুত্বমাইন্নাহ, যা মানুষকে ন্যায়ের উপর দৃঢ় রাখে, আর তাতে দেহমনে প্রশান্তি আসে। নবীগণের মধ্যে শেষের দু’টি নফস সর্বাধিক জোরালোভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। আর নফসে লাউয়ামাহ বা বিবেকের তীব্র কষাঘাতকেই এখানে ‘বুরহান’ বা ‘আল্লাহর প্রমাণ’ হিসাবে বলা হয়ে থাকতে পারে। যেমন হাদীছে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ছিরাতে মুস্তাক্বীমের উদাহরণ বর্ণনা করে তার মাথায় একজন আহবানকারীর কথা বলেছেন, যিনি সর্বদা মানুষকে ধমক দেন যখনই সে অন্যায়ের কল্পনা করে। তিনি বলেন, খবরদার! নিষিদ্ধ পর্দা উত্তোলন করো না। করলেই তুমি তাতে প্রবেশ করবে। এই ধমকদানকারীকে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-
واعظُ اللهِ في قلبِ كلِّ مؤمنٍ
‘প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর উপদেশদাতা’ হিসাবে অভিহিত করেছেন’।[39] ইউসুফের হৃদয়ে নিশ্চয়ই ঐ ধমকদাতা উপদেশ দানকারী মওজুদ ছিলেন যাকে (بُرْهَانَ رَبِّهِ) বা ‘আল্লাহর প্রমাণ’ বলা হয়েছে।
অতএব এখানে ‘বুরহান’ বা প্রমাণ বলতে যেনার মত জঘন্য অপকর্মের বিরুদ্ধে বিবেকের তীব্র কষাঘাতকেই বুঝানো হয়েছে। যা নবীগণের হৃদয়ে আল্লাহ প্রোথিত রাখেন। ইমাম জা‘ফর ছাদিক্ব বলেন, ‘বুরহান’ অর্থ নবুঅত, যাকে আল্লাহ নবীগণের হৃদয়ে গ্রথিত রাখেন। যা তার মধ্যে এবং আল্লাহর ক্রোধপূর্ণ কাজের মধ্যে প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে। অতএব ‘বুরহান’ অর্থ নবুঅতের নিষ্পাপত্ব, যা ইউসুফকে উক্ত পাপ থেকে বিরত রাখে।
লেখকঃ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
-------------------------------------------------------------------
[39] রাযীন, আহমাদ, মিশকাত হা/১৯১ সনদ ছহীহ, ‘কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ।
لَوْلا أَن رَّآى بُرْهَانَ رَبِّهِ
‘যদি সে তার পালনকর্তার প্রমাণ না দেখত’ এ কথার মধ্যে কোন্ প্রমাণ ইউসুফকে দেখানো হয়েছিল, সেটা বলা হয়নি। তবে কুরআনে মানুষের তিনটি নফসের কথা বলা হয়েছে। (১) নফসে আম্মারাহ। যা মানুষকে অন্যায় কাজে প্ররোচিত করে (২) নফসে লাউয়ামাহ। যা মানুষকে ন্যায় কাজে উদ্বুদ্ধ করে ও অন্যায় কাজে বাধা দেয় এবং (৩) নফসে মুত্বমাইন্নাহ, যা মানুষকে ন্যায়ের উপর দৃঢ় রাখে, আর তাতে দেহমনে প্রশান্তি আসে। নবীগণের মধ্যে শেষের দু’টি নফস সর্বাধিক জোরালোভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। আর নফসে লাউয়ামাহ বা বিবেকের তীব্র কষাঘাতকেই এখানে ‘বুরহান’ বা ‘আল্লাহর প্রমাণ’ হিসাবে বলা হয়ে থাকতে পারে। যেমন হাদীছে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ছিরাতে মুস্তাক্বীমের উদাহরণ বর্ণনা করে তার মাথায় একজন আহবানকারীর কথা বলেছেন, যিনি সর্বদা মানুষকে ধমক দেন যখনই সে অন্যায়ের কল্পনা করে। তিনি বলেন, খবরদার! নিষিদ্ধ পর্দা উত্তোলন করো না। করলেই তুমি তাতে প্রবেশ করবে। এই ধমকদানকারীকে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-
واعظُ اللهِ في قلبِ كلِّ مؤمنٍ
‘প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর উপদেশদাতা’ হিসাবে অভিহিত করেছেন’।[39] ইউসুফের হৃদয়ে নিশ্চয়ই ঐ ধমকদাতা উপদেশ দানকারী মওজুদ ছিলেন যাকে (بُرْهَانَ رَبِّهِ) বা ‘আল্লাহর প্রমাণ’ বলা হয়েছে।
অতএব এখানে ‘বুরহান’ বা প্রমাণ বলতে যেনার মত জঘন্য অপকর্মের বিরুদ্ধে বিবেকের তীব্র কষাঘাতকেই বুঝানো হয়েছে। যা নবীগণের হৃদয়ে আল্লাহ প্রোথিত রাখেন। ইমাম জা‘ফর ছাদিক্ব বলেন, ‘বুরহান’ অর্থ নবুঅত, যাকে আল্লাহ নবীগণের হৃদয়ে গ্রথিত রাখেন। যা তার মধ্যে এবং আল্লাহর ক্রোধপূর্ণ কাজের মধ্যে প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে। অতএব ‘বুরহান’ অর্থ নবুঅতের নিষ্পাপত্ব, যা ইউসুফকে উক্ত পাপ থেকে বিরত রাখে।
লেখকঃ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
-------------------------------------------------------------------
[39] রাযীন, আহমাদ, মিশকাত হা/১৯১ সনদ ছহীহ, ‘কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ।