এক ফোঁটা জল · অধ্যায় ৩/৯
পার্ট - ০৩
রুহি ছাদে এসে রেলিংয়ে বসে আকাশের দিকে তাকায় যেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে টিয়াপাখী উড়ে যাচ্ছে পুকুরের ওপাড়ে বড় শিশুগাছটার দিকে, ওটাই ওদের বাসস্থান। রুহিদের এই দোতলা বাড়ীটা অনেক প্রাচীন। সম্ভবত এই গ্রামের সবচেয়ে পুরোনো দালান এটা। এই বাড়ীর ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে দাদার অহংকারের শেষ নেই। সাত বছর বয়স পর্যন্ত শহরেই বড় হয়েছে রুহি, তবে শহরের তেমন কিছু মনে নেই ওর। কিন্তু দাদার কিছু কিছু আচরনে ওর মনে হয় বুড়োকে একবার শহর দেখিয়ে আনতে পারত! তাহলে হয়ত অহংকার কিছুটা কমত তাঁর। যাক, চাচীরা ওর জন্য পাত্র দেখছেন। যতগুলো প্রস্তাব এসেছে তাতে অন্তত একটা তো পছন্দ হওয়ার কথা। এবার যদি দাদার অহেতুক অসন্তুষ্টি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়! সাদ ভাইয়া উদ্যোগ নিলে চাচীদের বিশৃঙ্খলা থেকে উদ্ধার করে একটা সিদ্ধান্তে আনা সহজ হত, কিন্তু দাদা মনে হয় সে পরিবেশটাই ভেস্তে দিল। সেজন্যই কি সাদের যাবার খবর শুনে ওর বুকের ভেতর এমন দুমড়ে মুচড়ে উথাল পাথাল কান্না উঠে আসতে চাইছে? আচ্ছা, ও কাঁদল কেন? নিজেকে কেমন বোকা বোকা লাগছে রুহির।
সায়রা সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছে, বিড়ালের মত নিঃশব্দ চলাফেরা মেয়েটার, কিন্তু ওর গান শুনে বুঝতে পারে ও আসছে, ‘আমি তো আমার গল্প বলেছি, তুমি কেন কাঁদলে?’ আবারও ভাবার চেষ্টা করে রুহি, সাদ লেখাপড়া করতে বিদেশ যাবে, এটা তো ভাল কথা, তাহলে সে কেন কাঁদল? তাহলে কি সে সাদকে হিংসা করে, দাদা ওকে ভালবাসে বলে? নাহ, দাদার ভালোবাসা পাবার শখ মরে গেছে ওর। তাহলে কি?
সায়রা ছাদে হাঁটে আর গুন গুন করে। আরেকটা সম্ভাবনার কথা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় রুহির মনে। কিন্তু না, এটা হতেই পারেনা। পা দিয়ে মাড়িয়ে সম্ভাবনাটাকে অন্ধকারেই কবর দিয়ে দেয় সে। এর অস্তিত্ব সম্পর্কে সে ভাবতেই চায়না।
সায়রা সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছে, বিড়ালের মত নিঃশব্দ চলাফেরা মেয়েটার, কিন্তু ওর গান শুনে বুঝতে পারে ও আসছে, ‘আমি তো আমার গল্প বলেছি, তুমি কেন কাঁদলে?’ আবারও ভাবার চেষ্টা করে রুহি, সাদ লেখাপড়া করতে বিদেশ যাবে, এটা তো ভাল কথা, তাহলে সে কেন কাঁদল? তাহলে কি সে সাদকে হিংসা করে, দাদা ওকে ভালবাসে বলে? নাহ, দাদার ভালোবাসা পাবার শখ মরে গেছে ওর। তাহলে কি?
সায়রা ছাদে হাঁটে আর গুন গুন করে। আরেকটা সম্ভাবনার কথা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় রুহির মনে। কিন্তু না, এটা হতেই পারেনা। পা দিয়ে মাড়িয়ে সম্ভাবনাটাকে অন্ধকারেই কবর দিয়ে দেয় সে। এর অস্তিত্ব সম্পর্কে সে ভাবতেই চায়না।