উক্তি
আল হাদিস
জ্ঞানীদের কথা — হৃদয়ে আলো জ্বালানোর জন্য।
الْحِكْمَةُ ضَالَّةُ الْمُؤْمِنِ
মোট ৩৬টি উক্তি
পূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।[তিরমিযীঃ ১১৬২]
স্বামীকে খুশী রেখে যে স্ত্রীলোক মৃত্যুবরণ করে সে জান্নাতে যাবে।[ইবনে মাযাহ, তিরমিযী ও হাকেম]
শুধুমাত্র সম্মানিত লোকেরাই নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করে। আর যারা অসম্মানিত নারীদের প্রতি তাদের আচরণও হয় অসম্মানজনক।[সুনানে আত-তিরমিযী]
রাসূল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময় তৈরি কর ও ইবাদতে মন দাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর করব না। [তিরমিযী-২৬৫৪, ইবনে মাজাহ-৮১০৭]
ঈমান এবং হিংসা এক সঙ্গে একই অন্তরে থাকতে পারে না।
সুলতান (খলিফা) হলেন পৃথিবীতে আল্লাহর ছায়া (রহমত) [আল-দারাকুতনি, বায়হাক্বী, তাবারানী, বাযযার, ইবন খুজাইমাহ]
ইমাম হাসান আল বসরী বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘যার মৃত্যু চলে আসে এই অবস্থায় যে সে ইসলামকে পুনর্জীবিত করার জন্য জ্ঞানার্জন করে যাচ্ছে, তবে তার ও নবীগণের মধ্যে জান্নাতে মাত্র এক ধাপের ব্যবধান থাকবে।’ [সুনান আত তিরমিযী, সুনান আদ দারিমী]
প্রকৃতপক্ষে, এই পৃথিবী সাময়িক আনন্দ ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এই অস্থায়ী পৃথিবীতে ধার্মিক স্ত্রীর চেয়ে উত্তম আর কোনও আনন্দ নেই। [ইবনে মাজাহ, 1855]
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃরসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে রয়েছে সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করবে।(১) যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রসূল অন্য সকল কিছুর তুলনায় অধিক প্রিয়।(২) যে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালোবাসে।(৩) যে কুফ্রীতে ফিরে যাওয়ার তুলনায় আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অধিক পছন্দ করে। [সহিহ বুখারী-১৬, সহিহ মুসলিম-৬৯, সূনানে আন-নাসায়ী-৪৯৮৭, জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নাম্বারঃ ২৬২৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নাম্বারঃ ৪০৩৩]
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ন্যায়পরায়ণ খলিফার অধীনে একদিন থাকা ৬০ বছরের ব্যক্তিগত ইবাদত চেয়ে ও উত্তম [বায়হাকী, তাবারানী]
পবিত্রতা ব্যতীত সালাত গ্রহণযোগ্য নয়, ঠিক তেমনি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ দ্বারা দান করলেও তা গ্রহণ করা হবে না (তিরমিজি)
“তোমরা প্রত্যেকেই রাখাল বা দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার অধীনস্ত লোকদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। শাসকও রাখাল বা দায়িত্বশীল, তাকে তার অধীনস্ত লোকদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। নারী তার স্বামীর বাড়ী এবং তার সন্তান-সন্ততির তত্ত্বাবধায়িকা, তাকে তাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।” (বুখারী: ৮৯৩, ৫১৮৮)
আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; ১. ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), ২. সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, ৩. সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।) ৪. সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা আল্লাহর উদ্দেশে একে অন্যকে ভালোবাসে এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়। ৫. সেই ব্যক্তি যাকে কোন কুলকামিনী সুন্দরী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহবান করে, কিন্তু সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। ৬. সেই ব্যক্তি যে দান করে গোপন করে; এমনকি তার ডান হাত যা প্রদান করে, তা তার বাম হাত পর্যন্তও জানতে পারে না। ৭. আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।’’ [বুখারি ৬৬০, ১৪২৩, ৬৪৭৯, ৬৮০৬, মুসলিম ১০৩১, তিরমিযি ২৩৯১, নাসায়ি ৫৩৮০, আহমদ ৯৩৭৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৭৭]
সে ব্যক্তি মুসলিম নয় যে পাশের প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকা অবস্থায় সন্তুষ্টচিত্তে রাত কাটায়" (আল-হাকিম, তাবারানী)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত কর গ্রহণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (আল-হাকিম)
"কালোজিরায় সকল প্রকার রোগের উপশম আছে, তবে ‘আসসাম’ ব্যতীত। আর ‘আসসাম’ হলো মৃত্যু।" (মুসলিম-৫৬৫৯)
ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন: "দুটি আশীর্বাদ রয়েছে যা আমার উম্মত হারাবে: সেগুলো হলো স্বাস্থ্য ও সৎকর্মের জন্য অবসর সময়।" (বুখারী 8/421)
রাসুল (সা:) বলেন- “এই বিশ্ব এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুই মূল্যবান। কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান একজন পরহেযগার নারী।”[ মুসলিম]
সকালে জেগে উঠে যে মুসলিমদের নিয়ে চিন্তিত হয় না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় [কানযুল উম্মান]
আর যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের কোনো বিষয়ের দিকে আহ্বান করে, সে জাহান্নামের ইন্ধন হবে। তারা (সাহাবীরা) জিজ্ঞেস করলো, যদি ও সে রোজা রাখে ও নামাজ পড়ে? তিনি (সা:) বললেন, যদি ও সে রোজা রাখে ও নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করে। [মুসনাদে আহমদ]
যে ব্যক্তি কোনো জালিমের সাথে চলে তার শক্তি বৃদ্ধি করে, অথচ সে জানে ওই ব্যক্তি জালিম, তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেলো। [বায়হাকী]
সেই জাতি কখনো সফল হবে না যারা শাসন ক্ষমতা নারীর হাতে অর্পণ করেছে [বুখারী]
আবু বকর আহমাস গোত্রের যায়নাব বিনত মুহাজির নামে এক মহিলার কাছে গেলেন এবং দেখতে পেলেন যে মহিলা কথা বলতে রাজি না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, " উনি কেন কথা বলছে না।" লোকেরা বলল, " উনি কথা না বলেই হজ করার ইচ্ছা করেছে।" তিনি তাকে বললেন, "কথা বলুন, কথা না বলা অবৈধ, কারণ এটি পূর্ব-ইসলামিক যুগের অজ্ঞতার কাজ। তাই মহিলা কথা বলতে গিয়ে বললেন, আপনি কে?" তিনি বললেন, "অভিবাসীদের মধ্য থেকে একজন।" মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "কোন অভিবাসী?" তিনি জবাব দিলেন, "কুরাইশ থেকে।" মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কুরাইশের কোন শাখা থেকে এসেছেন?" তিনি বললেন, আপনি অনেক প্রশ্ন করেন; আমি আবু বকর। মহিলা বললেন, আমরা কতক্ষণ এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা (অর্থাৎ ইসলামী ধর্ম) উপভোগ করব যা আল্লাহ অবজ্ঞার সময়ের পরে দিয়েছেন? " তিনি বললেন, " যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ইমাম (খলিফা) আপনাদেরকে বিধানমতো চালাবেন।" মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "ইমাম কি?" তিনি বললেন, "আপনার জাতির প্রধান আছে না? যারা জনগণকে আদেশ করেন এবং জনগণ তাদের মান্য করেন?" মহিলা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "সুতরাং তারা (ইমামগণ) হচ্ছে ওরা আমি যাদেরকে বোঝাতে চাইছিলাম" [বুখারী: বই ৫, খণ্ড ৫৮, হাদীস ১৭৫]
আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে/পরীক্ষায় পতিত করেন। [বুখারী-৫৬৪৫]
সত্য লোকের নিকট অপ্রিয় হলেও তা প্রচার করো ।
আল্লাহ তা’আলার ভয়ে তুমি যা কিছু ছেড়ে দিবে, আল্লাহ তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু অবশ্যই দান করবেন ।
কোন ব্যক্তি জ্ঞানের খোঁজে বের হলে সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ্ তা’আলার রাস্তায় আছে বলে গণ্য হবে। [তিরমিজি : ২৬৪৭]
যে লোক জ্ঞানের খোঁজে কোন পথে চলবে, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন। [তিরমিজি : ২৬৪৬]
আল্লাহ তা‘আলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান, তাকে ধর্মের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন। [তিরমিজি : ২৬৪৫]
যে ব্যক্তি জ্ঞান খোঁজ করে, এটা তার জন্য তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। [তিরমিজি : ২৬৪৮]