মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

উক্তি

হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)

জ্ঞানীদের কথা — হৃদয়ে আলো জ্বালানোর জন্য।

الْحِكْمَةُ ضَالَّةُ الْمُؤْمِنِ

মোট ৩০টি উক্তি

তোমাদের শাসক হিসেবে আমি হলাম সে ব্যক্তির মতো যেমন কিছু লোক একত্রে সফর করার সময় টাকা-পয়সাগুলো একজনের হাতে জমা দিয়ে বলে- তোমাকে আমাদের প্রয়োজনাদি মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হলো- দায়িত্বপ্রাপ্ত সে ব্যক্তির কি খরচের ব্যাপারে তারতম্য করার সুযোগ আছে? তেমনি খিলাফতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কারও প্রতি তারতম্য করার অধিকার আমার নেই।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
রাষ্ট্র/রাষ্ট্রপ্রধান
কারও কোনো প্রয়োজন থাকলে আমার কাছে এসো। আল্লাহ আমাকে তোমাদের সকলের কোষাগারের রক্ষক ও বন্টনকারী বানিয়েছেন।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
রাষ্ট্র/রাষ্ট্রপ্রধান
শাসকরা যখন বিগড়ে যায় তখন জনগণও বিগড়াতে শুরু করে। সর্বাপেক্ষা অভিশপ্ত সে ব্যক্তি যার প্রভাবে তার অধীনস্থদের মধ্যে অনাচার বিস্তার লাভ করে।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
রাষ্ট্র/রাষ্ট্রপ্রধান
ইরাকে যদি একটি ভেড়াও অন্যায়ভাবে মেরে ফেলা হয় আমার ভয় হয়, উমারকে শেষ বিচারের দিন এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। আর একটি খচ্চরও যদি ইরাকে হোঁচট খায় আমার ভয় হয়, আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করবেন কেন আমি তার জন্য ভালো রাস্তা তৈরি করিনি।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
রাষ্ট্র/রাষ্ট্রপ্রধান
কোনো ব্যক্তি যদি ঋণ পরিশোধ করতে অপারগ হয়ে পড়ে তবে সে ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব সরকারী কোষাগারকে বহন করতে হবে।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
রাষ্ট্র/রাষ্ট্রপ্রধান
যে আমার দোষ দেখে অনুগ্রহ করে তা আমাকে জানায় তাঁর প্রতি আল্লাহর করুণা অশেষ ধারায় বর্ষিত হোক।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
বন্ধু
কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করিও না। কারণ, মৃত্যুর আগে হয়তো ক্ষমা চাওয়ার জন্য তাকে আর খুঁজে পাবে না।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
আচরণ
যালেমকে ক্ষমা করা মজলুমের উপর যুলুম করার সামিল।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ক্ষমা
আজকের কাজ কালকের জন্য কখনো অবহেলা করে রেখে দিবে না ।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
অবহেলা
কোন ভাই যদি আপনাকে গোপনে কিছু কথা বলে চলে যাবার আগে যদি তা অন্য কাউকে বলতে নিষেধ না করেও থাকেন, তবু কথাগুলো আপনার জন্য আমানাত।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
যিনি ছাড়া কোন রব নেই সেই আল্লাহর কসম, যদি আমার কাছে দুনিয়ার সকল স্বর্ণ এবং রৌপ্য থাকতো, আমি সেগুলোর বিনিময়ে হলেও মৃত্যুর পরে যে ভয়াবহতা রয়েছে তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করতাম।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
যারা সবসময় ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে তাদের সাথে উঠাবসা করুন, কেননা তাদের হৃদয় সবচেয়ে কোমল।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা চিন্তাভাবনা করছিলেন। হযরত উমার (রা) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কেন তোমার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাও? সে উত্তর দিলো, “আমি তাকে ভালোবাসি না।” উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “সমস্ত সংসারের ভিত্তি কি ভালোবাসা হতেই হবে? পারস্পারিক সহানুভূতি আর আনুগত্যের কী হবে?
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
নিজেকে নিয়মিত জাহান্নামের (আগুণের) কথা স্মরণ করিয়ে দিন, কেননা নিশ্চিতভাবেই জাহান্নামের উত্তাপ অত্যন্ত বেশি, গভীরতা অত্যাধিক এবং তার অস্ত্র হলো লোহা।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
আমরা তো মর্যাদাহীন লোক ছিলাম, আল্লাহ আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন ইসলামের মাধ্যমে। সুতরাং, আমরা যদি আল্লাহ আমাদেরকে যা দ্বারা সম্মানিত করেছেন তা থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্য কোথাও সম্মান খুঁজি তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে পুনরায় অপমানিত করবেন।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
আল্লাহকে ভয় করো, কেননা যে তাকে ভয় করে সে কখনো একাকীত্ব অনুভব করে না।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখে বোকা হয়ে যেয়ো না কারণ তখন আমরা কেবল শব্দগুলো উচ্চারণ করি। বরং, তার দিকে লক্ষ্য করো যে কুরআন অনুযায়ী আমল করলো।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
যতক্ষণ তোমার ভাইয়ের বলা কোন কথার ব্যাপারে তোমার কাছে ভালো কোন ব্যাখ্যা আছে ততক্ষণ তা নিয়ে কোন খারাপ ধারণা পোষণ করবে না।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
তোমাদের ভালোবাসা যেন নির্বুদ্ধিতায় পরিণত না হয়, তোমাদের ঘৃণা যেন ধ্বংসে পরিণত না হয়।” তাকে প্রশ্ন করা হলো, “সেটা কীভাবে হয়?” তিনি উত্তর দিলেন, “যখন তোমরা ভালোবাসো, তোমরা শিশুদের মতন নির্বোধ হয়ে যাও। আর যখন ঘৃণা করো, তখন তোমরা তোমাদের সঙ্গীদের ধ্বংস কামনা করতে ভালোবাসো।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
একদিন উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একটি ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অতিক্রম করার সময় থমকে দাঁড়ালেন, দেখে মনে হচ্ছিলো তার সঙ্গীগণ এতে (দুর্গন্ধে) কষ্ট পাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, “এটা তোমাদের সেই পৃথিবী যার জন্য তোমাদের এত আগ্রহ এবং যার জন্য তোমরা কান্নাকাটি করো।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
প্রকৃতপক্ষে ইসলামের ভিত্তিগুলো একের পর এক ক্ষতিগ্রস্ত হবে যদি ইসলামে এমন মানুষদের আবির্ভাব হয় যারা কখনো অজ্ঞতাকে চিনতে পারেনি।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
সেই মানুষগুলোর মাঝে ভালো কিছু নেই যারা অন্যদের সদুপদেশ দেয় না, এবং সেই মানুষদের মাঝে ভালো কিছু নেই যারা উপদেশ গ্রহণ করতে পছন্দ করে না।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
নিজেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কথা স্মরণ করিয়ে দাও কারণ তাতে রয়েছে রোগের উপশম, মানুষজনের কথা নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিয়ো না কেননা ওটা হলো রোগ।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
একাকী হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো তুমি খারাপ সঙ্গ পরিত্যাগ করেছ। কিন্তু একজন ভালো বন্ধু থাকা একাকীত্বের চাইতে উত্তম।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
বন্ধু
আমাদের জীবনের সবচাইতে স্বাস্থ্যকর উপাদান হচ্ছে সবর (ধৈর্য)।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ধৈর্য্য
তোমাদের মধ্যে যারা ফাতওয়া দেয়ার ব্যাপারে দুঃসাহসী তারা দুঃসাহসী (পাপ করে) জাহান্নামে যাওয়ার ব্যাপারেও।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
কোন মুসলিম ভাইয়ের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা কোন শব্দের কারণে তার প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত সেটির পেছনে ভালো কোনো কারণ খুঁজে পাবেন।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
জাহিলিয়াতের প্রকৃতি অনুধাবনে ব্যর্থতা শুরু হলে একে একে ইসলামের বন্ধনী বিচ্ছিন্ন হতে থাকবে।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
আল্লাহর আনুগত্য করা ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে আল্লাহর সাথে একজন ব্যক্তির কোন সম্পর্ক থাকে না।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত
যারা অন্যদের মন কাড়তে এমন কিছু বিষয় দাবী করে যা তাদের মাঝে নেই, আল্লাহ তাদেরকে অপমানিত করবেন।
— হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)
ইবাদত