মূল লেখায় যান
হিকমাহHikmah

আরজ আলী সমীপে - আরিফ আজাদ · অধ্যায় ৪/১৩

(০৪) শার’ঈ সম্পাদকের কথা

শার’ঈ সম্পাদকের কথাঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

মহান আল্লাহ আমাদের জীন ও মানব দু-ধরনের শয়তান থেকে একান্তভাবে তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শয়তানরা পথভ্রষ্ট করার জন্য দুটি অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। একটি হচ্ছে প্রবৃত্তির বাধাহীন চাহিদাপূরণের প্রতি উৎসাহপ্রদান, আরেকটি হচ্ছে মনের কন্দরে সন্দেহের বীজ বপন করা। আরজ আলী মাতুব্বর সাহেবদের কর্মকাণ্ডে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টিই বেশি দেখা যায়। তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, আখেরাত, তাকদীর ইত্যাদি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে মানুষের ঈমান ও আমল বিনষ্ট করতে সচেষ্ট থাকে। তারা নিজেরা তাদের সন্দেহের ওষুধ গ্রহণ করে তা নিরাময় না করে অপরের দিকে সে সন্দেহ পাচার করে শান্তি পায়। আর এটাই চিরাচরিত নিয়ম যে রোগীরা সাধারণত সুস্থ মানুষকে ঈর্ষা করে। তারা যদি নিজেদের রোগ নিরাময় করতে পারত তবে নিজেরা যেমন শান্তি পেত অনুরূপভাবে অপর লোকদেরও শান্তি দিত। কিন্তু তারা বাঁকা পথটিই বেছে নিয়েছে। তাদের এসব সন্দেহের উত্তরের জন্য সত্যিকারের দীনী জ্ঞান থাকা যেমন জরুরি তেমনি দরকাশ আধুনিক কলা-কৌশল ও বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণাদি। দুটির সমন্বয়েই তা হয়ে উঠবে সোনায় সোহাগা।

‘আরজ আলী সমীপে’ গ্রন্থটির শার’ঈ দিকটি আমি দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তাতে দুটি দিকই যথার্থভাবে স্থান পেয়েছে। যদি কুরআন ও সুন্নাহর সত্যিকারের অনুসরণের মাধ্যমে কোনো সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয় তবে তা হয় যথার্থ। সুতরাং এ বইটির উত্তরসমূহ শার’ঈ ভিত্তির ওপর নির্ভর করে প্রদত্ত হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমার বিশ্বাস রয়েছে যে, এ গ্রন্থটি বাংলা-ভাষাভাষী সবার হাতে থাকা দরকার; যাতে করে আর কোনো আরজ আলী আমাদের সন্দেহের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ধোঁকা দিতে না পারে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
অধ্যাপক,
আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ
আইন ও শরীআহ অনুষদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।