উক্তি ও বাণী
জ্ঞানীদের কথা — হৃদয়ে আলো জ্বালানোর জন্য।
الْحِكْمَةُ ضَالَّةُ الْمُؤْمِنِ
মোট ২১টি উক্তি
যার যত বেশি জ্ঞান সে তত বেশি আল্লাহভীরু।
আমল বিহীন এলেম অনেক সময় উপকারী হতে পারে কিন্তু এলেম বিহীন আমল কখনও উপকারী হয় বলে আমার জানা নেই।
আত্নপ্রশংসাকারীর মতো আহমক নেই, আর বিদ্যার মতো পথ প্রদর্শক নেই।
সবচেয়ে গরীব সেই ব্যক্তি, যে বিদ্যা থেকে বঞ্চিত।
অজ্ঞের পক্ষে নীরবতাই সবচেয়ে উত্তম পন্থা । এটা যদি কেউ জানত তাহলে কেউ অজ্ঞ হত না।
প্রকৃত শিক্ষা সেটাই যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। সেটা প্রকৃত শিক্ষা নয় যা শুধু মুখস্থ রাখা হয় কিন্তু কোন কাজে লাগানো যায় না।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেন, জ্ঞানের ছয়টি স্তর রয়েছে: ১. ভদ্রভাবে জানার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা ২. চুপ করে মন দিয়ে শোনা ৩. ভালোভাবে বোঝা ৪. মুখস্থ করা ৫. শেখানো ষষ্ঠ স্তরটি হলো ফল লাভের স্তর: অর্জিত জ্ঞান অনুসারে সাধ্যমত আমল করা।
জ্ঞানের মত সম্পদ আর নেই, অজ্ঞতার মতন দারিদ্র আর নেই।
খাবার এবং পানির চাইতেও মানুষের জন্য জ্ঞান বেশি দরকার, কেননা খাবার এবং পানি তাদের দিনে একবার বা দুইবার প্রয়োজন হয়, কিন্তু জ্ঞান প্রয়োজন তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসেই।
জ্ঞানের ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর প্রতি ভয় (তাকওয়া)।
ইলম (জ্ঞান) যে রোগ বয়ে আনে তা হলো দাম্ভিকতা, ইবাদাত যে রোগ বয়ে আনে তা হলো রিয়া (প্রদর্শনেচ্ছা)।
কোন ব্যক্তি জ্ঞানের খোঁজে বের হলে সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ্ তা’আলার রাস্তায় আছে বলে গণ্য হবে। [তিরমিজি : ২৬৪৭]
যে লোক জ্ঞানের খোঁজে কোন পথে চলবে, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন। [তিরমিজি : ২৬৪৬]
আল্লাহ তা‘আলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান, তাকে ধর্মের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন। [তিরমিজি : ২৬৪৫]
যে ব্যক্তি জ্ঞান খোঁজ করে, এটা তার জন্য তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। [তিরমিজি : ২৬৪৮]
যে লোক এমন ইল্ম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয় যা সে জানে, অতঃপর সে তা গোপন করে, তাকে ক্বিয়ামাতের দিবসে আগুনের লাগাম পরানো হবে। [তিরমিজি : ২৬৪৯]
আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিকট হতে একটানে ‘ইল্ম উঠিয়ে নিবেন না, বরং আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই ‘ইল্ম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন তিনি কোন আলিমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ জাহিলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিকট প্রশ্ন করা হবে, আর তারা ‘ইল্ম ছাড়াই ফাতওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। [তিরমিজি : ২৬৫২]
যে লোক ‘আলিমদের সাথে তর্ক বাহাস করা অথবা জাহিল-মূর্খদের সাথে বাকবিতণ্ডা করার জন্য এবং মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশে ‘ইল্ম অধ্যয়ন করেছে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। [তিরমিজি : ২৬৫৪]
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করে অথবা এর দ্বারা আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছু অর্জনের ইচ্ছা করে সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে নেয়। [তিরমিজি : ২৬৫৫]
জ্ঞান অর্থ-সম্পদের চেয়ে উত্তম। কেননা জ্ঞান তোমাকে পাহারা দেয়, কিন্তু অর্থকে উল্টো পাহারা দিতে হয়। জ্ঞান হলো শাসক, আর অর্থ হলো শাসিত। অর্থ ব্যয় করলে নিঃশেষ হয়ে যায় কিন্তু জ্ঞান বিতরণ করলে আরো বৃদ্ধি পায়।
মুনাফিক জ্ঞানের পরিচয় দেয় মুখে আর মুমিনের জ্ঞানবত্তা প্রকাশ হয় তার আমলের মাধ্যমে।