উক্তি ও বাণী
জ্ঞানীদের কথা — হৃদয়ে আলো জ্বালানোর জন্য।
الْحِكْمَةُ ضَالَّةُ الْمُؤْمِنِ
মোট ১৯৫টি উক্তি
‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয়—এর প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩২)
‘তোমরা ঘরে অবস্থান করো এবং পূর্ববর্তী জাহেলি (বর্বর) যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৩৩)
‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করো; তোমাদের ওপর শাস্তি আসার আগে, যখন তোমাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সুরা ঝুমার, আয়াত : ৫৪)
‘বৈরাগ্যবাদ এটা তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রবর্তন করেছিল। আমি তাদের এই বিধান দিইনি। অথচ তারা এটাও ঠিকমতো পালন করেনি।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৭)
সকালে জেগে উঠে যে মুসলিমদের নিয়ে চিন্তিত হয় না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় [কানযুল উম্মান]
আর যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের কোনো বিষয়ের দিকে আহ্বান করে, সে জাহান্নামের ইন্ধন হবে। তারা (সাহাবীরা) জিজ্ঞেস করলো, যদি ও সে রোজা রাখে ও নামাজ পড়ে? তিনি (সা:) বললেন, যদি ও সে রোজা রাখে ও নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করে। [মুসনাদে আহমদ]
যে ব্যক্তি কোনো জালিমের সাথে চলে তার শক্তি বৃদ্ধি করে, অথচ সে জানে ওই ব্যক্তি জালিম, তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেলো। [বায়হাকী]
সেই জাতি কখনো সফল হবে না যারা শাসন ক্ষমতা নারীর হাতে অর্পণ করেছে [বুখারী]
আবু বকর আহমাস গোত্রের যায়নাব বিনত মুহাজির নামে এক মহিলার কাছে গেলেন এবং দেখতে পেলেন যে মহিলা কথা বলতে রাজি না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, " উনি কেন কথা বলছে না।" লোকেরা বলল, " উনি কথা না বলেই হজ করার ইচ্ছা করেছে।" তিনি তাকে বললেন, "কথা বলুন, কথা না বলা অবৈধ, কারণ এটি পূর্ব-ইসলামিক যুগের অজ্ঞতার কাজ। তাই মহিলা কথা বলতে গিয়ে বললেন, আপনি কে?" তিনি বললেন, "অভিবাসীদের মধ্য থেকে একজন।" মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "কোন অভিবাসী?" তিনি জবাব দিলেন, "কুরাইশ থেকে।" মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কুরাইশের কোন শাখা থেকে এসেছেন?" তিনি বললেন, আপনি অনেক প্রশ্ন করেন; আমি আবু বকর। মহিলা বললেন, আমরা কতক্ষণ এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা (অর্থাৎ ইসলামী ধর্ম) উপভোগ করব যা আল্লাহ অবজ্ঞার সময়ের পরে দিয়েছেন? " তিনি বললেন, " যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ইমাম (খলিফা) আপনাদেরকে বিধানমতো চালাবেন।" মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, "ইমাম কি?" তিনি বললেন, "আপনার জাতির প্রধান আছে না? যারা জনগণকে আদেশ করেন এবং জনগণ তাদের মান্য করেন?" মহিলা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "সুতরাং তারা (ইমামগণ) হচ্ছে ওরা আমি যাদেরকে বোঝাতে চাইছিলাম" [বুখারী: বই ৫, খণ্ড ৫৮, হাদীস ১৭৫]
শয়তান নামাজ, রোজার মতো কিছু উপাসনার কাজকে সুশোভিত করে বেশিরভাগ লোককে বিভ্রান্ত করে, যখন মানুষ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ নির্মূল করার মতো অন্যান্য বাধ্যতামূলক ইবাদতকে অবহেলা করে। এমনকি তারা এমন ইবাদত করার ইচ্ছাও করে না, যেখানে তারা তা করতে সক্ষম। এ জাতীয় লোকেরা ধর্মের মাপের তলদেশে অবস্থিত। আল্লাহ আমাদের যা আদেশ করেছেন তা আমাদের পালন করতে হবে। ওই ব্যক্তি যে তার ইবাদত পালন করে না সে আসলে গোনাহ্গারের চেয়ে ও খারাপ। আল্লাহর প্রত্যাদেশ, নবীর নির্দেশনা এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবন সম্পর্কে যে কেউ জ্ঞান রাখেন তারা দেখতে পাবে যে আজকে যারা সবচেয়ে ধার্মিক লোক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে তারা আসলে সবচেয়ে কম ধার্মিক ... [ইবন কাইয়িম আল জাউজিয়া (রাহিমুল্লাহ), বই: আলাম আল-মুওয়াকিয়াইন খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৬]
ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেন, জ্ঞানের ছয়টি স্তর রয়েছে: ১. ভদ্রভাবে জানার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা ২. চুপ করে মন দিয়ে শোনা ৩. ভালোভাবে বোঝা ৪. মুখস্থ করা ৫. শেখানো ষষ্ঠ স্তরটি হলো ফল লাভের স্তর: অর্জিত জ্ঞান অনুসারে সাধ্যমত আমল করা।
"অন্য কোন কিছুই একজন বান্দার অতটা বেশি প্রয়োজন নেই, যতটা বেশি প্রয়োজন সরল সঠিক পথের নির্দেশনা।"
"আপনি যখন সৃষ্টিকে ভয় পান, আপনি হতাশাগ্রস্থ বোধ করেন এবং এ থেকে পালিয়ে যান এবং এ থেকে পালিয়ে যান, কিন্তু আপনি যখন স্রষ্টাকে ভয় করেন, তখন আপনি তাঁর নিকটবর্তী হন এবং তাঁর দিকে ধাবিত হন।"
যদি আল্লাহ্ তাঁর বান্দার প্রতি মঙ্গল কামনা করেন তবে তিনি তার সময়ে বরকত দান করেন। অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে তাকে সাহায্য করেন।
আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে/পরীক্ষায় পতিত করেন। [বুখারী-৫৬৪৫]
ডাক্তার আপনার চিকিৎসা করতে পারেন তবে শুধুমাত্র আল্লাহ আপনাকে নিরাময় করতে পারেন
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ [তালাক্ব :২,৩]
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারী লোকদেরকে ভালবাসেন।’ [ সুরা ইমরান :১৫৯]
আপনি যদি একটি জাতিকে কোনরকম যুদ্ধ ছাড়াই ধ্বংস করে দিতে চান, তাহলে তাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে অশ্লীলতা আর ব্যাভিচারের প্রচলনের ব্যবস্থা করে দিন।
নেতারা যে জনগনের নেতৃত্বে থাকে, সেই মানুষদের চেয়ে যখন নিজেদেরকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়, তারা সেই পদের জন্য তখন আর যোগ্য থাকে না।
আপনি যে কথা বলছেন তা প্রতিটি রেকর্ড করা হচ্ছে, এবং আপনি যে সমস্ত কাজ করেন তা প্রত্যক্ষ করা হচ্ছে, সুতরাং ভাল কথা বলুন এবং ভাল কাজ করুন।
সব দুঃখের মূল এই দুনিয়ার প্রতি অত্যাধিক আকর্ষণ ।
অসৎ লোক কাউকে সৎ মনে করে না, সকলকেই সে নিজের মত ভাবে ।
পুণ্য অর্জন অপেক্ষা পাপ বর্জন করা শ্রেষ্ঠতর ।
আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, তারপর সেই মানুষকে ভয় পাই যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না ।
সৎ লোক সাতবার বিপদে পড়লে আবার উঠে কিন্তু অসৎ লোক বিপদে পড়লে একবারে নৃপাত হয়
সত্য লোকের নিকট অপ্রিয় হলেও তা প্রচার করো ।
আল্লাহ তা’আলার ভয়ে তুমি যা কিছু ছেড়ে দিবে, আল্লাহ তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু অবশ্যই দান করবেন ।
সেই ব্যক্তিই অভিশপ্ত যে মরে যায় অথচ তার খারাপ কাজগুলো পৃথিবীতে রয়ে যায়।
অপরের কষ্ট দূর করার জন্য কষ্ট করার মাঝে রয়েছে মহত্বের প্রকৃত নির্যাস।